সাটুরিয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ
jugantor
সাটুরিয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

  সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রবাসী মো. শাহিনুরের নামে ঘর বরাদ্দ দিতে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

শুধু তাই নয় আরও টাকার দাবিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনর রশিদ। কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাইদ ইউনিয়নে মোট চারটি বাসগৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়। ১০/১০ ফুট দুটি রুম বারান্দাসহ, একটি টয়লেট ও একটি রান্নাঘর নির্মাণ খরচ বাবদ বরাদ্দ দুই লাখ ৯৯ হাজার টাকা। বাসগৃহ পেতে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো টাকা খরচ হয় না।

তবে বরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া চারটি বাসগৃহ বরাদ্দের তিনটিই অসমাপ্ত রয়েছে।

বরাইদ ইউনিয়নের আগ সাভার গ্রামের আ. সাত্তার কানুর ছেলে প্রবাসী মো. শাহিনুর হক উৎকোচের বিনিময়ে একটি বাসগৃহের বরাদ্দ পান। শাহিনুরের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আমার স্বামীর নামে ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি।

কিছু কাজ করে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন হারুন চেয়ারম্যান। টাকা না দিলে কাজ শেষ করবেন না বলেও জানিয়ে দেন। আমার স্বামী বিদেশে রয়েছেন। করোনার কারণে তিনি এখন বেকার।

তার জন্য খরচ পাঠাতে হয়। দুই সন্তান নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে কষ্টে আছি।’ এদিকে মো. শাহিনুরের বরাদ্দকৃত বাসগৃহ নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদকে তিন দফায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেন।

সর্বশেষ নোটিশ দেন গত ৩ সেপ্টেম্বর। তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে চেয়ারম্যান নির্মাণ ব্যয় হিসেবে মোট দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

গত ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে জানানো হয়। এছাড়া বরাদ্দপ্রাপ্ত উত্তর বরাইদ গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আগ সাভার গ্রামের মোহিরন বেগমের বাসগৃহের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ বলেন, ‘টাকা নেয়া তো দূরের কথা, শাহিনুরের স্ত্রীর সঙ্গে অনেকদিন দেখাই হয়নি।

সামনে ইউপি নির্বাচন, আমাকে হেয় করতে কোনো প্রতিপক্ষ চক্রান্ত করে তাকে দিয়ে অপবাদ ছড়াচ্ছে।’

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেয়ার কথা জানিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রনজু বলেন, বাসগৃহ বরাদ্দ বাবদ কোনো টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।

ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, টাকা নিয়ে ঘর বরাদ্দের বিষয়টি প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাটুরিয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

 সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রবাসী মো. শাহিনুরের নামে ঘর বরাদ্দ দিতে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

শুধু তাই নয় আরও টাকার দাবিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনর রশিদ। কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাইদ ইউনিয়নে মোট চারটি বাসগৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়। ১০/১০ ফুট দুটি রুম বারান্দাসহ, একটি টয়লেট ও একটি রান্নাঘর নির্মাণ খরচ বাবদ বরাদ্দ দুই লাখ ৯৯ হাজার টাকা। বাসগৃহ পেতে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো টাকা খরচ হয় না।

তবে বরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া চারটি বাসগৃহ বরাদ্দের তিনটিই অসমাপ্ত রয়েছে।

বরাইদ ইউনিয়নের আগ সাভার গ্রামের আ. সাত্তার কানুর ছেলে প্রবাসী মো. শাহিনুর হক উৎকোচের বিনিময়ে একটি বাসগৃহের বরাদ্দ পান। শাহিনুরের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আমার স্বামীর নামে ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি।

কিছু কাজ করে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন হারুন চেয়ারম্যান। টাকা না দিলে কাজ শেষ করবেন না বলেও জানিয়ে দেন। আমার স্বামী বিদেশে রয়েছেন। করোনার কারণে তিনি এখন বেকার।

তার জন্য খরচ পাঠাতে হয়। দুই সন্তান নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে কষ্টে আছি।’ এদিকে মো. শাহিনুরের বরাদ্দকৃত বাসগৃহ নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদকে তিন দফায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেন।

সর্বশেষ নোটিশ দেন গত ৩ সেপ্টেম্বর। তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে চেয়ারম্যান নির্মাণ ব্যয় হিসেবে মোট দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

গত ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে জানানো হয়। এছাড়া বরাদ্দপ্রাপ্ত উত্তর বরাইদ গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আগ সাভার গ্রামের মোহিরন বেগমের বাসগৃহের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ বলেন, ‘টাকা নেয়া তো দূরের কথা, শাহিনুরের স্ত্রীর সঙ্গে অনেকদিন দেখাই হয়নি।

সামনে ইউপি নির্বাচন, আমাকে হেয় করতে কোনো প্রতিপক্ষ চক্রান্ত করে তাকে দিয়ে অপবাদ ছড়াচ্ছে।’

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেয়ার কথা জানিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রনজু বলেন, বাসগৃহ বরাদ্দ বাবদ কোনো টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।

ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, টাকা নিয়ে ঘর বরাদ্দের বিষয়টি প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।