আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর
jugantor
শরীয়তপুরের ৫ পৌরসভা নির্বাচন
আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর
সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কায় মেয়র পদে মাঠে নেই বিএনপির কেউ

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের ৫ পৌরসভা নির্বাচন

শরীয়তপুরে ছয়টি পৌরসভার মধ্যে ৫টিতে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা এখনো মাঠে নামেনি।

তবে বিএনপির কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার ও ফেসবুকে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। এ ৫ পৌরসভায় সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তবে অপর গোসাইরহাট পৌরসভায় মামলার জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং ও গ্রুপিং শুরু করে দিয়েছেন।

বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আলোচনা দোয়া ও ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের আগামী পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন অনেকে। জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের আর্শীবাদ পেতে তারা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন বলে অনেক নেতাকর্মীরা জানান।

আর স্থানীয় নেতাদের সমর্থন পেতে বাড়িয়ে দিয়েছেন সাংগঠনিক তৎপরতাও। পাশাপাশি নেতাদের ছবি দিয়ে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা।

বিশেষ করে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা পৌরসভায় বেশি ব্যানার ফেস্টুনের পাশাপাশি এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

শরীয়তপুর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন কোতোয়াল, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও যুবলীগ নেতা বাচ্চু বেপারী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুহুন মাদবর মনোনয়ন পেতে লবিং করে যাচ্ছেন।

বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারে নেমে পড়েছে।

এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র সরদার নাছির উদ্দিন কালু ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম তালুকদারের নাম শোনা যাচ্ছে।

নড়িয়া পৌরসভায় বর্তমান মেয়র শহীদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ী, নড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক জিএস ও ইতালীর ভেনিস শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছৈয়াল রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক মেয়র মরহুম হায়দার আলীর ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান জুয়েল চৌকিদার, নড়িয়া পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর জাফর শেখ, গত পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সিরাজুল হক চুন্নু আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন সেন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। জাজিরা পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইউনুস বেপারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ অধ্যাপক আ. হক কবিরাজ, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আক্কাস মুন্সি, জাজিরা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শিকদার, পৌর কাউন্সিলর ইদ্রিস মাদবর আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এবং নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

তবে এই পৌরসভায় বিএনপির কোনো প্রার্থীর নাম এখনও আলোচনায় আসেনি।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আ. মান্নান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. মান্নান বেপারী, যুবলীগ নেতা নিয়ামত সিকদার, এনজিও কর্মী আবুল বাশার চৌকদার প্রচার চালাচ্ছেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির বিএম মোস্তফা ও আবুল হাসেম ঢালী।

ডামুড্যা পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর বাচ্চু ছৈয়াল, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ভিপি মুনসুর আজাদ শামীম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলের হাইকমান্ডে তদবির করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

এ ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেন মাদবর, উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শিকদার।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি সরদার একেএম নাছির উদ্দিন কালু জানান, যেখানে জনগণের ভোটের অধিকার নেই। নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে আমাদের নির্বাচন করার কি কোনো সুযোগ আছে? তবে বিএনপি গণমুখী দল। দলের হাইকমান্ড এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

শরীয়তপুরের ৫ পৌরসভা নির্বাচন

আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর

সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কায় মেয়র পদে মাঠে নেই বিএনপির কেউ
 কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুরের ৫ পৌরসভা নির্বাচন
ফাইল ছবি

শরীয়তপুরে ছয়টি পৌরসভার মধ্যে ৫টিতে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা এখনো মাঠে নামেনি।

তবে বিএনপির কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার ও ফেসবুকে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। এ ৫ পৌরসভায় সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তবে অপর গোসাইরহাট পৌরসভায় মামলার জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং ও গ্রুপিং শুরু করে দিয়েছেন।

বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আলোচনা দোয়া ও ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের আগামী পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন অনেকে। জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের আর্শীবাদ পেতে তারা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন বলে অনেক নেতাকর্মীরা জানান।

আর স্থানীয় নেতাদের সমর্থন পেতে বাড়িয়ে দিয়েছেন সাংগঠনিক তৎপরতাও। পাশাপাশি নেতাদের ছবি দিয়ে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা।

বিশেষ করে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা পৌরসভায় বেশি ব্যানার ফেস্টুনের পাশাপাশি এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

শরীয়তপুর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন কোতোয়াল, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও যুবলীগ নেতা বাচ্চু বেপারী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুহুন মাদবর মনোনয়ন পেতে লবিং করে যাচ্ছেন।

বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারে নেমে পড়েছে।

এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র সরদার নাছির উদ্দিন কালু ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম তালুকদারের নাম শোনা যাচ্ছে।

নড়িয়া পৌরসভায় বর্তমান মেয়র শহীদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ী, নড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক জিএস ও ইতালীর ভেনিস শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছৈয়াল রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক মেয়র মরহুম হায়দার আলীর ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান জুয়েল চৌকিদার, নড়িয়া পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর জাফর শেখ, গত পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সিরাজুল হক চুন্নু আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন সেন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। জাজিরা পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইউনুস বেপারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ অধ্যাপক আ. হক কবিরাজ, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আক্কাস মুন্সি, জাজিরা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শিকদার, পৌর কাউন্সিলর ইদ্রিস মাদবর আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এবং নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

তবে এই পৌরসভায় বিএনপির কোনো প্রার্থীর নাম এখনও আলোচনায় আসেনি।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আ. মান্নান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. মান্নান বেপারী, যুবলীগ নেতা নিয়ামত সিকদার, এনজিও কর্মী আবুল বাশার চৌকদার প্রচার চালাচ্ছেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির বিএম মোস্তফা ও আবুল হাসেম ঢালী।

ডামুড্যা পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর বাচ্চু ছৈয়াল, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ভিপি মুনসুর আজাদ শামীম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলের হাইকমান্ডে তদবির করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

এ ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেন মাদবর, উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শিকদার।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি সরদার একেএম নাছির উদ্দিন কালু জানান, যেখানে জনগণের ভোটের অধিকার নেই। নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে আমাদের নির্বাচন করার কি কোনো সুযোগ আছে? তবে বিএনপি গণমুখী দল। দলের হাইকমান্ড এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।