ক্ষুদ্র মেরামত খাতে লুটপাট
jugantor
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা
ক্ষুদ্র মেরামত খাতে লুটপাট
এলজিইডি, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড়  

১০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষুদ্র মেরামত খাতে লুটপাট

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত খাতের লাখ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ উপজেলায় ক্ষুদ্র মেরামতের নামে ৪৪টি স্কুলের অনুকূলে বরাদ্দ ৮৮ লাখ টাকা ছাড়া স্কুল উন্নয়নের অন্যান্য বরাদ্দকৃত টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার পুরোটাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন এলজিইডি, শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

করোনাকালে স্কুল বন্ধের দীর্ঘ সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন তারা। এদিকে সরেজমিন বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো স্কুলে নামমাত্র কাজ করে বা সামান্য ঘঁষামাজা করে পুরো টাকাই লুটপাট করা হয়েছে।

আর এ লুটপাটে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বোদা উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরী। বাস্তবে স্কুলগুলোতে কোনো কাজ না করেই শুধু উৎকোচের বিনিময়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দেয়ার ফলে সরকারি বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা লোপাট করার সুযোগ পেয়েছেন।

কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়ে এ উপসহকারী প্রকৌশলী নিজেই হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

এদিকে, যেসব স্কুল নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লুটপাট করেছে সে স্কুলগুলো হচ্ছে-বোদা উপজেলার আঠিয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদ্বেশরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাজনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রহ্মত্তর কুমারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বরাদ্দ পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. কবীর হোসেন স্কুলপ্রতি পাঁচ হাজার করে টাকা তোলেন প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে।

ট্রেজারি অফিসকে দেয়া বাধ্যতামূলক বলে এ টাকা আদায় করা হয় বলে কয়েকজন শিক্ষক জানান। শিক্ষকরা জানান, ‘শিক্ষা অফিসসহ অন্যান্য অফিসে টাকা দিলেও আমরা মুখ খুলতে পারছি না।

আর কোনোক্রমে নাম প্রকাশ হলে অফিস নানাভাবে আমাদের হয়রানি করবে। বিভিন্ন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে। তাই সবকিছু আমাদের নীরবে সহ্য করতে হয়। মুখ থাকলেও আমরা প্রধান শিক্ষকরা বোবা।’

অপরদিকে ক্ষুদ্র মেরামত কাজে এলজিইডি বোদা উপজেলা অফিস টাকা ছাড়া কোনো প্রত্যয়ন দেয় না। কাজের মান অনুযায়ী প্রতিটি প্রত্যয়নে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করছেন বোদা এলজিইডির অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরী।

স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ হোক বা অন্য যে কোনো কাজে তাকে উৎকোচ না দিলে নানাভাবে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তার যোগদানের পর থেকেই ওই অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

জানা যায়, বর্তমানে বোদা উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরীর বিকল্প কেউ না থাকায় তিনি যা ইচ্ছে তাই করে চলেছেন।

পুরো উপজেলায় মাত্র একজন উপসহকারী প্রকৌশলী থাকার কারণে অন্য পন্থা অবলম্বনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে তার চাহিদা অনুযায়ী দাবিকৃত টাকা দিতে হচ্ছে।

অবশ্য এলজিইডির বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহিদুল ইসলাম এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেন।

তবে তিনি অফিস খরচ বাবদ অল্পকিছু টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। বোদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ হাসান বলেন, ‘টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম।

আর অফিস যদি তার কথা বলে টাকা উত্তোলন করে তাহলে তার দায়ভার সেই ব্যক্তিকে নিতে হবে।’ তবে ৪৩টি স্কুলের মধ্যে কয়েকটি স্কুলে ভালো কাজ করলেও অধিকাংশ স্কুলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি জানান, ‘আমার কাছেও শিক্ষা ও এলজিইডি অফিসের টাকা নেয়ার বিষয়টি এসেছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা আমার কাছে সরাসরি অভিযোগ করেননি।

আবার অনেকে সমস্যার কারণে টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকারও করছেন।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোলেমান আলী জানান, অভিযোগ ওঠা স্কুলগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা

ক্ষুদ্র মেরামত খাতে লুটপাট

এলজিইডি, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
 এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড় 
১০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ক্ষুদ্র মেরামত খাতে লুটপাট
ফাইল ছবি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত খাতের লাখ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ উপজেলায় ক্ষুদ্র মেরামতের নামে ৪৪টি স্কুলের অনুকূলে বরাদ্দ ৮৮ লাখ টাকা ছাড়া স্কুল উন্নয়নের অন্যান্য বরাদ্দকৃত টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার পুরোটাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন এলজিইডি, শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

করোনাকালে স্কুল বন্ধের দীর্ঘ সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন তারা। এদিকে সরেজমিন বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো স্কুলে নামমাত্র কাজ করে বা সামান্য ঘঁষামাজা করে পুরো টাকাই লুটপাট করা হয়েছে।

আর এ লুটপাটে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বোদা উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরী। বাস্তবে স্কুলগুলোতে কোনো কাজ না করেই শুধু উৎকোচের বিনিময়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দেয়ার ফলে সরকারি বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা লোপাট করার সুযোগ পেয়েছেন।

কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়ে এ উপসহকারী প্রকৌশলী নিজেই হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

এদিকে, যেসব স্কুল নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লুটপাট করেছে সে স্কুলগুলো হচ্ছে-বোদা উপজেলার আঠিয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদ্বেশরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাজনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রহ্মত্তর কুমারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বরাদ্দ পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. কবীর হোসেন স্কুলপ্রতি পাঁচ হাজার করে টাকা তোলেন প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে।

ট্রেজারি অফিসকে দেয়া বাধ্যতামূলক বলে এ টাকা আদায় করা হয় বলে কয়েকজন শিক্ষক জানান। শিক্ষকরা জানান, ‘শিক্ষা অফিসসহ অন্যান্য অফিসে টাকা দিলেও আমরা মুখ খুলতে পারছি না।

আর কোনোক্রমে নাম প্রকাশ হলে অফিস নানাভাবে আমাদের হয়রানি করবে। বিভিন্ন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে। তাই সবকিছু আমাদের নীরবে সহ্য করতে হয়। মুখ থাকলেও আমরা প্রধান শিক্ষকরা বোবা।’

অপরদিকে ক্ষুদ্র মেরামত কাজে এলজিইডি বোদা উপজেলা অফিস টাকা ছাড়া কোনো প্রত্যয়ন দেয় না। কাজের মান অনুযায়ী প্রতিটি প্রত্যয়নে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করছেন বোদা এলজিইডির অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরী।

স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ হোক বা অন্য যে কোনো কাজে তাকে উৎকোচ না দিলে নানাভাবে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তার যোগদানের পর থেকেই ওই অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

জানা যায়, বর্তমানে বোদা উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরীর বিকল্প কেউ না থাকায় তিনি যা ইচ্ছে তাই করে চলেছেন।

পুরো উপজেলায় মাত্র একজন উপসহকারী প্রকৌশলী থাকার কারণে অন্য পন্থা অবলম্বনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে তার চাহিদা অনুযায়ী দাবিকৃত টাকা দিতে হচ্ছে।

অবশ্য এলজিইডির বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহিদুল ইসলাম এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মো. এরফান চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেন।

তবে তিনি অফিস খরচ বাবদ অল্পকিছু টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। বোদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ হাসান বলেন, ‘টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম।

আর অফিস যদি তার কথা বলে টাকা উত্তোলন করে তাহলে তার দায়ভার সেই ব্যক্তিকে নিতে হবে।’ তবে ৪৩টি স্কুলের মধ্যে কয়েকটি স্কুলে ভালো কাজ করলেও অধিকাংশ স্কুলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি জানান, ‘আমার কাছেও শিক্ষা ও এলজিইডি অফিসের টাকা নেয়ার বিষয়টি এসেছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা আমার কাছে সরাসরি অভিযোগ করেননি।

আবার অনেকে সমস্যার কারণে টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকারও করছেন।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোলেমান আলী জানান, অভিযোগ ওঠা স্কুলগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হবে।