স্লিপ ফান্ডের টাকা নয়ছয়
jugantor
শেরপুর উপজেলার ১৩৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়
স্লিপ ফান্ডের টাকা নয়ছয়

  বগুড়া ব্যুরো  

১৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান (স্লিপ) ফান্ডের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় না করে ‘নয়ছয়’ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট ও আয়করের নামে বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দের টাকা থেকে অতিরিক্ত হারে কর্তন, প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না করা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজ করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

এতে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা তদন্তসাপেক্ষে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ২০১৯-২০ অর্থবছরে শেরপুর উপজেলার ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপ ফান্ডে মোট ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে ২০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ১০৭ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা করে, ৫০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ২৯ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা করে এবং ৫০০-এর ওপরে শিক্ষার্থী থাকায় একটি বিদ্যালয়কে ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করে সচেতনতামূলক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শেরপুরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই স্লিপ গাইডলাইন অনুসরণ করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ হয়নি।

এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের এসব আনুষঙ্গিক খরচ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ও দুই শতাংশ আয়কর (আইটি) কর্তন করার নিয়ম আছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট-আইটির কথা বলে ১৮ শতাংশ টাকা কর্তন করা হয়েছে।

ফলে বিদ্যালয়গুলো প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে সাড়ে আট শতাংশ টাকা বঞ্চিত হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হলেও তারা হয়রানির ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস করছেন না।

এছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্লিপ ওরিয়েন্টশন সভা, মা সমাবেশসহ প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। এরপরও কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে স্লিপের টাকা উত্তোলন ও ব্যয় দেখানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এমএসসি, পিটিএ কমিটির সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে তা করা হয়নি। কাগজে কাজ দেখিয়ে টাকাগুলো লোপাট করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, বাধ্যতামূলকভাবে স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে বিদ্যালয়গুলোতে পথনিদের্শক বাবদ দুই হাজার টাকা ও বই রাখার আলমিরা বাবদ সাত হাজার টাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খানপুর নলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমির হোসেন জানান, ভ্যাট বাদে গত বছর স্লিপের ৪৫ হাজার টাকা পেলেও এবার পেয়েছেন ৪১ হাজার টাকা।

অফিস থেকে ১৮ শতাংশ ভ্যাট-আয়কর কেটে নেয়া হয়েছে। নতুন জাতীয়করণকৃত দশশিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুস সামাদ জানান, টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। এখনও কাজ শুরু করিনি।

তবে এবার বেশি টাকা কেটে নেয়া হয়েছে।

গাড়ীদহ ইউনিয়নের কালসিমাটি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রকি জানান, স্লিপের যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তার মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কিছু জিনিস দিয়েছে।

এজন্য অফিসে টাকা দিতে হয়েছে। শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন জানান, এ বছর অতিরিক্ত হারে ভ্যাট-আইটি কেটে নেয়া হয়েছে। বিষয়টির আমি প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু অফিস থেকে বলা হয়েছে ভুলক্রমে অতিরিক্ত হারে কর্তন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।

শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান, বিধি মোতাবেক স্লিপ ফান্ডের ভ্যাট ও আইটি কাটা হয়েছে। তাছাড়া সব বিদ্যালয়ে শতভাগ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।

শেরপুর উপজেলার ১৩৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্লিপ ফান্ডের টাকা নয়ছয়

 বগুড়া ব্যুরো 
১৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান (স্লিপ) ফান্ডের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় না করে ‘নয়ছয়’ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট ও আয়করের নামে বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দের টাকা থেকে অতিরিক্ত হারে কর্তন, প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না করা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজ করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

এতে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা তদন্তসাপেক্ষে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ২০১৯-২০ অর্থবছরে শেরপুর উপজেলার ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপ ফান্ডে মোট ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে ২০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ১০৭ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা করে, ৫০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ২৯ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা করে এবং ৫০০-এর ওপরে শিক্ষার্থী থাকায় একটি বিদ্যালয়কে ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করে সচেতনতামূলক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শেরপুরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই স্লিপ গাইডলাইন অনুসরণ করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ হয়নি।

এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের এসব আনুষঙ্গিক খরচ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ও দুই শতাংশ আয়কর (আইটি) কর্তন করার নিয়ম আছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট-আইটির কথা বলে ১৮ শতাংশ টাকা কর্তন করা হয়েছে।

ফলে বিদ্যালয়গুলো প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে সাড়ে আট শতাংশ টাকা বঞ্চিত হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হলেও তারা হয়রানির ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস করছেন না।

এছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্লিপ ওরিয়েন্টশন সভা, মা সমাবেশসহ প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। এরপরও কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে স্লিপের টাকা উত্তোলন ও ব্যয় দেখানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এমএসসি, পিটিএ কমিটির সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে তা করা হয়নি। কাগজে কাজ দেখিয়ে টাকাগুলো লোপাট করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, বাধ্যতামূলকভাবে স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে বিদ্যালয়গুলোতে পথনিদের্শক বাবদ দুই হাজার টাকা ও বই রাখার আলমিরা বাবদ সাত হাজার টাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খানপুর নলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমির হোসেন জানান, ভ্যাট বাদে গত বছর স্লিপের ৪৫ হাজার টাকা পেলেও এবার পেয়েছেন ৪১ হাজার টাকা।

অফিস থেকে ১৮ শতাংশ ভ্যাট-আয়কর কেটে নেয়া হয়েছে। নতুন জাতীয়করণকৃত দশশিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুস সামাদ জানান, টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। এখনও কাজ শুরু করিনি।

তবে এবার বেশি টাকা কেটে নেয়া হয়েছে।

গাড়ীদহ ইউনিয়নের কালসিমাটি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রকি জানান, স্লিপের যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তার মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কিছু জিনিস দিয়েছে।

এজন্য অফিসে টাকা দিতে হয়েছে। শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন জানান, এ বছর অতিরিক্ত হারে ভ্যাট-আইটি কেটে নেয়া হয়েছে। বিষয়টির আমি প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু অফিস থেকে বলা হয়েছে ভুলক্রমে অতিরিক্ত হারে কর্তন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।

শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান, বিধি মোতাবেক স্লিপ ফান্ডের ভ্যাট ও আইটি কাটা হয়েছে। তাছাড়া সব বিদ্যালয়ে শতভাগ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।