বাঘায় চলতি মৌসুমে আলু বীজ সংকটের আশঙ্কা
jugantor
বাঘায় চলতি মৌসুমে আলু বীজ সংকটের আশঙ্কা

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

২১ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাঘায় চলতি মৌসুমে আলু বীজ সংকটের আশঙ্কা

রাজশাহীর বাঘায় চলতি মৌসুমে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের মাঝে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বীজ সংকটে আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

এদিকে বিএডিসির পক্ষ থেকেও সরবরাহ তুলনামূলক কম। খোলা বাজারে বেশি দামে আলু বীজ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় আলু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার এই আশঙ্কা চাষীদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৪২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমিতে বীজের প্রয়োজন প্রায় ৬৩০ মেট্রিক টন। বিঘাপ্রতি বীজের প্রয়োজন ২০০ কেজি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের বাঘা উপজেলা কমিটির সভাপতি আবদুল গনি বাচ্চু জানান, উপজেলায় ৬৩০ মেট্রিক টন আলু বীজের চাহিদা থাকলেও বিএডিসি থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৩৬ মেট্রিক টন।

উপজেলায় বিএডিসির ডিলার রয়েছে ১২ জন। সেই হিসেবে একজন ডিলারের ভাগে পড়েছে ৩ মেট্রিক টন। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, হলেন্ডার উল্লেখযোগ্য।

বিএডিসি ডিলারের উপজেলা প্রতিনিধি অধ্যক্ষ সামরুল হোসেন জানান, ১২ জন ডিলারের মধ্যে সবাই আলু বীজ পায়নি। বীজ সংগ্রহের জন্য ১ মাস আগে ডিলাররা টাকা জমা দেয়া হয়েছে। তারপরও বীজ সংগ্রহ করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলু লাগানো শুরু হয়েছে।

তবে মৌসুমের শুরুতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বীজ সংকটে আশঙ্কায় উৎকণ্ঠ চাষীরা। উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলু চাষী শফিকুল ইসলাম ছানা জানান, চলতি মৌসুমে ৪০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২২ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে।

ডিলারের কাছ থেকে বিএডিসির সরবরাহকৃত আলু বীজ ক্রয় করা হয়েছে ৩ মেট্রিক টন। এসিআই কোম্পানির কাছে থেকে নেয়া হয়েছে ৬ মেট্রিক টন। কমবেশি অনেকেই আলুর আবাদ করেন।

কিন্তু এবার বীজ সংকটের কারণে অনেকের পক্ষে আলু রোপণ করা সম্ভব হবে না। খোলা বাজারে আলু বীজের তুলনায় বিএডিসির আলুর বীজের ফলন ভালো হয়। তাই এর চাহিদাটা বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, আলুর বীজের সংকট কিছুটা রয়েছে। তারপরও বিভিন্নভাবে চাষীরা বীজ সংগ্রহ করছেন। আশা করছি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। বিএডিসির বীজ জাত অনুযায়ী ক্রয় প্রতিকেজি ৪২-৪৩ টাকা। বিক্রি ৪৬-৪৭ টাকা।

বাঘায় চলতি মৌসুমে আলু বীজ সংকটের আশঙ্কা

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
২১ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বাঘায় চলতি মৌসুমে আলু বীজ সংকটের আশঙ্কা
ফাইল ছবি

রাজশাহীর বাঘায় চলতি মৌসুমে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের মাঝে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বীজ সংকটে আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

এদিকে বিএডিসির পক্ষ থেকেও সরবরাহ তুলনামূলক কম। খোলা বাজারে বেশি দামে আলু বীজ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় আলু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার এই আশঙ্কা চাষীদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৪২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমিতে বীজের প্রয়োজন প্রায় ৬৩০ মেট্রিক টন। বিঘাপ্রতি বীজের প্রয়োজন ২০০ কেজি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের বাঘা উপজেলা কমিটির সভাপতি আবদুল গনি বাচ্চু জানান, উপজেলায় ৬৩০ মেট্রিক টন আলু বীজের চাহিদা থাকলেও বিএডিসি থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৩৬ মেট্রিক টন।

উপজেলায় বিএডিসির ডিলার রয়েছে ১২ জন। সেই হিসেবে একজন ডিলারের ভাগে পড়েছে ৩ মেট্রিক টন। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, হলেন্ডার উল্লেখযোগ্য।

বিএডিসি ডিলারের উপজেলা প্রতিনিধি অধ্যক্ষ সামরুল হোসেন জানান, ১২ জন ডিলারের মধ্যে সবাই আলু বীজ পায়নি। বীজ সংগ্রহের জন্য ১ মাস আগে ডিলাররা টাকা জমা দেয়া হয়েছে। তারপরও বীজ সংগ্রহ করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলু লাগানো শুরু হয়েছে।

তবে মৌসুমের শুরুতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বীজ সংকটে আশঙ্কায় উৎকণ্ঠ চাষীরা। উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলু চাষী শফিকুল ইসলাম ছানা জানান, চলতি মৌসুমে ৪০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২২ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে।

ডিলারের কাছ থেকে বিএডিসির সরবরাহকৃত আলু বীজ ক্রয় করা হয়েছে ৩ মেট্রিক টন। এসিআই কোম্পানির কাছে থেকে নেয়া হয়েছে ৬ মেট্রিক টন। কমবেশি অনেকেই আলুর আবাদ করেন।

কিন্তু এবার বীজ সংকটের কারণে অনেকের পক্ষে আলু রোপণ করা সম্ভব হবে না। খোলা বাজারে আলু বীজের তুলনায় বিএডিসির আলুর বীজের ফলন ভালো হয়। তাই এর চাহিদাটা বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, আলুর বীজের সংকট কিছুটা রয়েছে। তারপরও বিভিন্নভাবে চাষীরা বীজ সংগ্রহ করছেন। আশা করছি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। বিএডিসির বীজ জাত অনুযায়ী ক্রয় প্রতিকেজি ৪২-৪৩ টাকা। বিক্রি ৪৬-৪৭ টাকা।