দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি ফুলবাড়ী পৌরবাসী
jugantor
দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি ফুলবাড়ী পৌরবাসী
অযত্নে পড়ে আছে পাম্পঘর * মাটির নিচে ৩ কোটি টাকার পাইপলাইন

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি ফুলবাড়ী পৌরবাসী

পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূগর্ভে পাইপলাইন স্থাপনসহ পাম্পঘর নির্মাণ করার দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরবাসী।

অবহেলা-অযত্নেই রয়েছে চারটি পাম্পঘরসহ ভূগর্ভের পানির পাইপলাইনগুলো। ৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই পানি সরবরাহের প্রকল্প করা হলেও এখনও মাটির নিচেই পানির পাইপলাইন পড়ে আছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা হিসেবে পানি সরবরাহের জন্য ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার পৌর এলাকায় ভূগর্ভে পানির পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

চার কিলোমিটার এলাকায় এ লাইন স্থাপনের এক যুগ পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে দশ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

একই সময়ে ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ চত্বরে, পৌরসভা ভবনে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ও কানাহার রেলস্টেশন এলাকার চার স্থানে চারটি পাম্পঘর নির্মাণ করা হয়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক কোটি এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৭ টাকা ব্যয়ে আরও ২০ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

এদিকে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকারও অধিক অর্থ ব্যয়ে ভূগর্ভে পাইপলাইন স্থাপন এবং ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি পাম্পঘর নির্মাণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো অযত্ন ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর আগে পানি সরবরাহের কার্যক্রমটি শুরু হলেও কবে শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে পর্যায়ক্রমে দুটি নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়র ও কাউন্সিলর বদল হয় এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর আবারও পৌর নির্বাচন এলেও পাইপলাইনের পানির মুখ দেখতে পাননি ফুলবাড়ী পৌরবাসী।

ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-প্রকৌশলী মো. সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ করে পানি সরবরাহ কার্যক্রম পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও পানি সরবরাহ শুরু করেনি।

পানি সরবরাহের জন্য দাপ্তরিকভাবে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারা কিছুই জানাননি। আমরা পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ করে হস্তান্তর করেছি, এখন সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের।

এছাড়াও ৪০ পৌরসভা ও গ্রোথ প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষকে ৩০টি টিউবওয়েল দেয়া হয়েছে।’ ফুলবাড়ী পৌর মেয়র মো. মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ভূগর্ভে পানির পাইপলাইন চালু করতে বলেছেন। পৌরসভা থেকে এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে।

কিন্তু কেউ পানির জন্য আবেদন করেনি। পানির পাইপের কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়েছে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুলবাড়ীতে ৭০ ফুট ভূগর্ভেই পানি পাওয়া যায়, কিন্তু কোথাও কোথাও ৫০০ ফিট ভূগর্ভেও পানি মিলে না, ফুলবাড়ীতে এ পানির চাহিদা কম।’

দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি ফুলবাড়ী পৌরবাসী

অযত্নে পড়ে আছে পাম্পঘর * মাটির নিচে ৩ কোটি টাকার পাইপলাইন
 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি ফুলবাড়ী পৌরবাসী
ফাইল ছবি

পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূগর্ভে পাইপলাইন স্থাপনসহ পাম্পঘর নির্মাণ করার দীর্ঘ ১৭ বছরেও পানির মুখ দেখেনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরবাসী।

অবহেলা-অযত্নেই রয়েছে চারটি পাম্পঘরসহ ভূগর্ভের পানির পাইপলাইনগুলো। ৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই পানি সরবরাহের প্রকল্প করা হলেও এখনও মাটির নিচেই পানির পাইপলাইন পড়ে আছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা হিসেবে পানি সরবরাহের জন্য ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার পৌর এলাকায় ভূগর্ভে পানির পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

চার কিলোমিটার এলাকায় এ লাইন স্থাপনের এক যুগ পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে দশ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

একই সময়ে ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ চত্বরে, পৌরসভা ভবনে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ও কানাহার রেলস্টেশন এলাকার চার স্থানে চারটি পাম্পঘর নির্মাণ করা হয়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক কোটি এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৭ টাকা ব্যয়ে আরও ২০ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

এদিকে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকারও অধিক অর্থ ব্যয়ে ভূগর্ভে পাইপলাইন স্থাপন এবং ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি পাম্পঘর নির্মাণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো অযত্ন ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর আগে পানি সরবরাহের কার্যক্রমটি শুরু হলেও কবে শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে পর্যায়ক্রমে দুটি নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়র ও কাউন্সিলর বদল হয় এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর আবারও পৌর নির্বাচন এলেও পাইপলাইনের পানির মুখ দেখতে পাননি ফুলবাড়ী পৌরবাসী।

ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-প্রকৌশলী মো. সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ করে পানি সরবরাহ কার্যক্রম পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও পানি সরবরাহ শুরু করেনি।

পানি সরবরাহের জন্য দাপ্তরিকভাবে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারা কিছুই জানাননি। আমরা পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ করে হস্তান্তর করেছি, এখন সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের।

এছাড়াও ৪০ পৌরসভা ও গ্রোথ প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষকে ৩০টি টিউবওয়েল দেয়া হয়েছে।’ ফুলবাড়ী পৌর মেয়র মো. মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ভূগর্ভে পানির পাইপলাইন চালু করতে বলেছেন। পৌরসভা থেকে এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে।

কিন্তু কেউ পানির জন্য আবেদন করেনি। পানির পাইপের কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়েছে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুলবাড়ীতে ৭০ ফুট ভূগর্ভেই পানি পাওয়া যায়, কিন্তু কোথাও কোথাও ৫০০ ফিট ভূগর্ভেও পানি মিলে না, ফুলবাড়ীতে এ পানির চাহিদা কম।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন