এমপিওর নামে অর্থ আত্মসাৎ
jugantor
ভাঙ্গা পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মাদ্রাসা
এমপিওর নামে অর্থ আত্মসাৎ

  আবদুল মান্নান, ভাঙ্গা (ফরিদপুর)  

১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এমপিওর নামে অর্থ আত্মসাৎ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার নামে আবু ইউসুফ মৃর্ধার বিরুদ্ধে ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আবু ইউসুফ মৃর্ধা একই উপজেলার পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার পিন্সিপাল। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, নতুন ভবন পাইয়ে দেয়া, শিক্ষকদের বিল, এমপিওভুক্তকরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের পাস করানোসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জাল-জালিয়াতির সহায়তায় এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এ পর্যন্ত তিনি সারা দেশের সহজ সরল শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আবু ইউসুফ মৃর্ধার বিরুদ্ধে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধরী কয়েক দফা শিক্ষা-মন্ত্রালয়ে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও অদৃশ্য কারণে থমকে যায় তদন্তের কার্যক্রম।

আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার তৎকালীন সুপার অহিদুজ্জান বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেন অভিযোগসহ ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লীবেড়া কামিল মাদ্রাসার পিন্সিপাল আবু ইউসুফ মৃর্ধার বাড়ি কোটালীপাড়ার কাজলিয়া এলাকায় টুপুরিয়া গ্রামে।

এলাকার সবাই তাকে টাউট আউয়াল মৃর্ধা হিসেবে চিনে। এরপর তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গার পল্লীবেড়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার পদে চাকরি পান।

এরপর তার চতুরতাসহ নানা বিচক্ষণ কর্মকাণ্ডে ফরিদপুরসহ সারাদেশের সুপারদের গুরু বনে যান। সেই থেকে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

সারা দেশে তার অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, নতুন ভবন পাইয়ে দেয়া, শিক্ষকদের বিল পাইয়ে দেয়া, নতুন মাদ্রাসার এমপিওভুক্তকরণ, ওএমআর কাটাকাটি করে একজনের রেজাল্ড অন্যজনকে দিয়ে হাতিয়ে নিতে লাখ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় আবু ইউসুফ মৃর্ধা দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিলেন। রোল নাম্বার কাটাকাটি বা ওএমআর ঘটনায় তোড়পাড় সৃষ্টি হয়। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক এবং জনসাধারণ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করেছিল।

কিছুদিন নিরব থাকার পর তদবির বাণিজ্য শুরু করে। আবু ইউসুফ মৃর্ধার বিরুদ্ধে আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার অহিদুজ্জান বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এর আগে পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার সভাপতি এনামুল হক অপু তিনিও বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছিলেন।

দুর্নীতি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মধ্যে রয়েছে আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকদের কাছ থেকে নেয়াসহ ৪৮ লাখ টাকা।

দুর্নীতির টাকায় করেছেন নিজস্ব দামি বিলাসবহুল গাড়ি, পৌর সদরের ওপর বহুতল ভবনসহ অনেক জায়গা-জমি। এত কিছুর পরও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সবাইকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে আছেন।

অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় তার দুর্নীতির চিত্র আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তার বিরুদ্ধে দুদক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ফরিদপুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাঙ্গার অধীন তদন্তাধীন রয়েছে।

পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন কামিল মাদ্রাসার পিন্সিপাল আবু ইউসুফ মৃর্ধা জানান, আমার বিরুদ্ধে নিউচ করলে আমি তাদের নামে মামলা দেব। আমার বিরুদ্ধে যে যত পারুক লিখুক আমি পরোয়া করি না।

আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার আমি কেউ না। আমি টাকা নেব কেন। যেসব অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা।

ভাঙ্গা পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মাদ্রাসা

এমপিওর নামে অর্থ আত্মসাৎ

 আবদুল মান্নান, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) 
১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এমপিওর নামে অর্থ আত্মসাৎ
ফাইল ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার নামে আবু ইউসুফ মৃর্ধার বিরুদ্ধে ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আবু ইউসুফ মৃর্ধা একই উপজেলার পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার পিন্সিপাল। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, নতুন ভবন পাইয়ে দেয়া, শিক্ষকদের বিল, এমপিওভুক্তকরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের পাস করানোসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জাল-জালিয়াতির সহায়তায় এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এ পর্যন্ত তিনি সারা দেশের সহজ সরল শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আবু ইউসুফ মৃর্ধার বিরুদ্ধে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধরী কয়েক দফা শিক্ষা-মন্ত্রালয়ে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও অদৃশ্য কারণে থমকে যায় তদন্তের কার্যক্রম।

আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার তৎকালীন সুপার অহিদুজ্জান বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেন অভিযোগসহ ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লীবেড়া কামিল মাদ্রাসার পিন্সিপাল আবু ইউসুফ মৃর্ধার বাড়ি কোটালীপাড়ার কাজলিয়া এলাকায় টুপুরিয়া গ্রামে।

এলাকার সবাই তাকে টাউট আউয়াল মৃর্ধা হিসেবে চিনে। এরপর তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গার পল্লীবেড়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার পদে চাকরি পান।

এরপর তার চতুরতাসহ নানা বিচক্ষণ কর্মকাণ্ডে ফরিদপুরসহ সারাদেশের সুপারদের গুরু বনে যান। সেই থেকে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

সারা দেশে তার অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, নতুন ভবন পাইয়ে দেয়া, শিক্ষকদের বিল পাইয়ে দেয়া, নতুন মাদ্রাসার এমপিওভুক্তকরণ, ওএমআর কাটাকাটি করে একজনের রেজাল্ড অন্যজনকে দিয়ে হাতিয়ে নিতে লাখ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় আবু ইউসুফ মৃর্ধা দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিলেন। রোল নাম্বার কাটাকাটি বা ওএমআর ঘটনায় তোড়পাড় সৃষ্টি হয়। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক এবং জনসাধারণ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করেছিল।

কিছুদিন নিরব থাকার পর তদবির বাণিজ্য শুরু করে। আবু ইউসুফ মৃর্ধার বিরুদ্ধে আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার অহিদুজ্জান বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এর আগে পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার সভাপতি এনামুল হক অপু তিনিও বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছিলেন।

দুর্নীতি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মধ্যে রয়েছে আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকদের কাছ থেকে নেয়াসহ ৪৮ লাখ টাকা।

দুর্নীতির টাকায় করেছেন নিজস্ব দামি বিলাসবহুল গাড়ি, পৌর সদরের ওপর বহুতল ভবনসহ অনেক জায়গা-জমি। এত কিছুর পরও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সবাইকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে আছেন।

অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় তার দুর্নীতির চিত্র আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তার বিরুদ্ধে দুদক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ফরিদপুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাঙ্গার অধীন তদন্তাধীন রয়েছে।

পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন কামিল মাদ্রাসার পিন্সিপাল আবু ইউসুফ মৃর্ধা জানান, আমার বিরুদ্ধে নিউচ করলে আমি তাদের নামে মামলা দেব। আমার বিরুদ্ধে যে যত পারুক লিখুক আমি পরোয়া করি না।

আদমপুর একে দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার আমি কেউ না। আমি টাকা নেব কেন। যেসব অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন