বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ
jugantor
বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ

  মো. এনামুল হক, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ

রাজারহাটে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে সোমবার লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, রাজারহাট সদর ইউনিয়নের ছবুরা বেওয়া, মজিরন বেগম ও আছির উদ্দিন বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ইতোপূর্বে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছবুরা বেওয়ার ছেলে সাহেব আলী উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে এর সত্যতাও পান। পরে তিনি সমাজসেবা অফিসের রাজারহাট সদর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকর্মী সুবাস চন্দ্র রায়ের সহযোগিতায় ভোক্তভোগীদের রেজিস্টার বহি নং জানতে পারেন।

এতে দেখা যায়, ছবুরা বেওয়ার রেজিস্টার বহি নং- ৫৬৩, মজিরন বেগমের বহি নং- ২৯৯৫ এবং আছির উদ্দিনের বহি নং- ৫০৬৮। বই তিনটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে উত্তোলন করেন বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বইগুলো তার কাছে আছে এবং অনলাইনের বাকি কাজ শেষে ফেরত দেবেন বলে জানান। পরে ভুক্তভোগীরা ইউপি সদস্যের পেছনে অনেকদিন ধরনা দিলেও বই পাননি।

বই নম্বরের সূত্র ধরে সোনালী ব্যাংক রাজারহাট শাখায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তিনজনের নামে ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট পৃথকভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।

এর মধ্যে ছবুরা বেওয়ার হিসাব নং- ২০১০১৯৮৬১, মজিরন বেগমের হিসাব নং- ২০১০১৯৯০১ এবং আছির উদ্দিনের হিসাব নং-২০১০১৯৮৬৬। ওই বছরের ২৭ আগস্ট থেকে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ছবুরা বেওয়ার অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১২ হাজার টাকা, মজিরন বেগমের অ্যাকাউন্টে জমা হয় সাত হাজার পাঁচশ টাকা এবং আছির উদ্দিনের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১২ হাজার টাকা। অথচ, তাদের অজান্তে পুরো টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে।

যেখানে ভাতাভোগীদের বইয়ে শর্তাবলিতে রয়েছে- সশরীরে উপস্থিত ভাতাভোগীকেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে অথবা অসুস্থতার কারণে ভাতাভোগী অনুপস্থিত হলে অন্য কোনো ব্যক্তিকে লিখিতভাবে মনোনয়ন করতে হবে।

অথচ, নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই সুবিধাভোগীর অজান্তে সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ছফুরা বেওয়ার ছেলে সাহেব আলী ও তার শ্বশুর আব্দুর রহমানের কাছে গোপনে যোগাযোগ করে ভাতার বই তিনটি ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ইউপি সদস্য।

তারপর সুকৌশলে ওই ইউপি সদস্য সুবিধাভোগীদের অজান্তে ১৩ ফেব্র“য়ারি ঘরের ভেতরে বই তিনটি ও চেক বইয়ের আংশিক পাতাসহ রেখে যায়।

এ নিয়ে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে রোব, বুধ ও বৃহস্পতিবার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম বলেন, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ

 মো. এনামুল হক, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ
ফাইল ছবি

রাজারহাটে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে সোমবার লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, রাজারহাট সদর ইউনিয়নের ছবুরা বেওয়া, মজিরন বেগম ও আছির উদ্দিন বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ইতোপূর্বে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছবুরা বেওয়ার ছেলে সাহেব আলী উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে এর সত্যতাও পান। পরে তিনি সমাজসেবা অফিসের রাজারহাট সদর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকর্মী সুবাস চন্দ্র রায়ের সহযোগিতায় ভোক্তভোগীদের রেজিস্টার বহি নং জানতে পারেন।

এতে দেখা যায়, ছবুরা বেওয়ার রেজিস্টার বহি নং- ৫৬৩, মজিরন বেগমের বহি নং- ২৯৯৫ এবং আছির উদ্দিনের বহি নং- ৫০৬৮। বই তিনটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে উত্তোলন করেন বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বইগুলো তার কাছে আছে এবং অনলাইনের বাকি কাজ শেষে ফেরত দেবেন বলে জানান। পরে ভুক্তভোগীরা ইউপি সদস্যের পেছনে অনেকদিন ধরনা দিলেও বই পাননি।

বই নম্বরের সূত্র ধরে সোনালী ব্যাংক রাজারহাট শাখায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তিনজনের নামে ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট পৃথকভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।

এর মধ্যে ছবুরা বেওয়ার হিসাব নং- ২০১০১৯৮৬১, মজিরন বেগমের হিসাব নং- ২০১০১৯৯০১ এবং আছির উদ্দিনের হিসাব নং-২০১০১৯৮৬৬। ওই বছরের ২৭ আগস্ট থেকে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ছবুরা বেওয়ার অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১২ হাজার টাকা, মজিরন বেগমের অ্যাকাউন্টে জমা হয় সাত হাজার পাঁচশ টাকা এবং আছির উদ্দিনের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১২ হাজার টাকা। অথচ, তাদের অজান্তে পুরো টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে।

যেখানে ভাতাভোগীদের বইয়ে শর্তাবলিতে রয়েছে- সশরীরে উপস্থিত ভাতাভোগীকেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে অথবা অসুস্থতার কারণে ভাতাভোগী অনুপস্থিত হলে অন্য কোনো ব্যক্তিকে লিখিতভাবে মনোনয়ন করতে হবে।

অথচ, নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই সুবিধাভোগীর অজান্তে সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ছফুরা বেওয়ার ছেলে সাহেব আলী ও তার শ্বশুর আব্দুর রহমানের কাছে গোপনে যোগাযোগ করে ভাতার বই তিনটি ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ইউপি সদস্য।

তারপর সুকৌশলে ওই ইউপি সদস্য সুবিধাভোগীদের অজান্তে ১৩ ফেব্র“য়ারি ঘরের ভেতরে বই তিনটি ও চেক বইয়ের আংশিক পাতাসহ রেখে যায়।

এ নিয়ে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে রোব, বুধ ও বৃহস্পতিবার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম বলেন, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন