নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি চাটমোহর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড
jugantor
কাগজে ‘সচল’, বাস্তবে ‘অচল’
নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি চাটমোহর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড

  পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা)  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চালু না হওয়া চাটমোহর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ডে এভাবেই জিনিসপত্র রেখে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।

নির্মাণের দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু করা সম্ভব হয়নি পাবনার চাটমোহর পৌরসভার নতুন বাসস্ট্যান্ড। কোনো যানবাহন প্রবেশ না করায় গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, জামা কাপড় শুকানো, ইট মজুদ করে ব্যবসা করাসহ নানা কাজে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।

ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে ঘরগুলো। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া অর্ধকোটি টাকারও অধিক ব্যয়ে নির্মিত বাসস্ট্যান্ডটি কোনো কাজেই আসছে না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই।

সরেজমিন ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের মধ্যে যানজটের চাপ কমাতে চাটমোহর-জোনাইল সড়কের পাশে গাইনগড় এলাকায় জমি কিনে ২০১১ সালে নির্মাণ করা হয় পৌর বাসস্ট্যান্ড। এটি নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের নগর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ঋণ নেয়া হয় ৬০ লাখ এবং পৌর তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা দেয়া হয়। মোট ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাসস্ট্যান্ডটি।

যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে সেখানে বেশকিছু দোকানঘর, বিশ্রামঘর, শৌচাগার, টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনও করা হয়। উদ্বোধন করেন পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মকবুল হোসেন।

এছাড়া পরে আলোকিত করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে বসানো হয় ২৭টি সোলার প্যানেল। কিন্তু এখন বাসস্ট্যান্ডে আলো তো জ্বলেই না, উল্টো সোলার প্যানেলগুলোরও কোনো হদিস নেই! উদ্বোধনের পরের দিন থেকেই কোনো যানবাহন প্রবেশ না করায় ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

মাঝে দুবার ওই বাসস্ট্যান্ডে হাট বসানো হলেও সেটিও টেকেনি। অথচ এখনো ৬০ লাখ টাকার সেই ঋণের কিস্তি বইতে হচ্ছে পৌরসভাকে। কাগজে-কলমে ‘সচল’ থাকলেও দীর্ঘদিন ‘অচল’ হয়ে পড়ে আছে পৌরসভার এ বাসস্ট্যান্ডটি। এতে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরসভা।

শুধু কী তাই, বাস-ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা থেকে শুরু করে নানা রকমের যানবাহন প্রতিদিন শহরের যত্রতত্র সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং ট্রাক থেকে মালামাল লোড-আনলোড করা হয়।

পৌর শহরে জারদ্রিস মোড়, কলেজ গেট, চাটমোহর-পাবনা সড়কের ওপর, হাসপাতাল গেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান চালকরা ইচ্ছেমতো রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে শহরের মধ্যে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো যুগান্তরকে বলেন, অপরিকল্পিত কোনো কিছুই টেকসই হয় না। ভাবছি সেখানে হাট লাগানো যায় কিনা? তবে যেটাই করি সেটাই পৌর পরিষদ, স্থানীয় লোকজন ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে করব। এজন্য তিনি পৌরবাসীর মতামত আশা করেন বলে জানান।

কাগজে ‘সচল’, বাস্তবে ‘অচল’

নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি চাটমোহর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড

 পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা) 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চালু না হওয়া চাটমোহর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ডে এভাবেই জিনিসপত্র রেখে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।
চালু না হওয়া চাটমোহর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ডে এভাবেই জিনিসপত্র রেখে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। ছবি: যুগান্তর

নির্মাণের দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু করা সম্ভব হয়নি পাবনার চাটমোহর পৌরসভার নতুন বাসস্ট্যান্ড। কোনো যানবাহন প্রবেশ না করায় গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, জামা কাপড় শুকানো, ইট মজুদ করে ব্যবসা করাসহ নানা কাজে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।

ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে ঘরগুলো। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া অর্ধকোটি টাকারও অধিক ব্যয়ে নির্মিত বাসস্ট্যান্ডটি কোনো কাজেই আসছে না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই।

সরেজমিন ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের মধ্যে যানজটের চাপ কমাতে চাটমোহর-জোনাইল সড়কের পাশে গাইনগড় এলাকায় জমি কিনে ২০১১ সালে নির্মাণ করা হয় পৌর বাসস্ট্যান্ড। এটি নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের নগর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ঋণ নেয়া হয় ৬০ লাখ এবং পৌর তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা দেয়া হয়। মোট ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাসস্ট্যান্ডটি।

যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে সেখানে বেশকিছু দোকানঘর, বিশ্রামঘর, শৌচাগার, টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনও করা হয়। উদ্বোধন করেন পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মকবুল হোসেন।

এছাড়া পরে আলোকিত করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে বসানো হয় ২৭টি সোলার প্যানেল। কিন্তু এখন বাসস্ট্যান্ডে আলো তো জ্বলেই না, উল্টো সোলার প্যানেলগুলোরও কোনো হদিস নেই! উদ্বোধনের পরের দিন থেকেই কোনো যানবাহন প্রবেশ না করায় ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

মাঝে দুবার ওই বাসস্ট্যান্ডে হাট বসানো হলেও সেটিও টেকেনি। অথচ এখনো ৬০ লাখ টাকার সেই ঋণের কিস্তি বইতে হচ্ছে পৌরসভাকে। কাগজে-কলমে ‘সচল’ থাকলেও দীর্ঘদিন ‘অচল’ হয়ে পড়ে আছে পৌরসভার এ বাসস্ট্যান্ডটি। এতে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরসভা।

শুধু কী তাই, বাস-ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা থেকে শুরু করে নানা রকমের যানবাহন প্রতিদিন শহরের যত্রতত্র সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং ট্রাক থেকে মালামাল লোড-আনলোড করা হয়।

পৌর শহরে জারদ্রিস মোড়, কলেজ গেট, চাটমোহর-পাবনা সড়কের ওপর, হাসপাতাল গেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান চালকরা ইচ্ছেমতো রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে শহরের মধ্যে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো যুগান্তরকে বলেন, অপরিকল্পিত কোনো কিছুই টেকসই হয় না। ভাবছি সেখানে হাট লাগানো যায় কিনা? তবে যেটাই করি সেটাই পৌর পরিষদ, স্থানীয় লোকজন ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে করব। এজন্য তিনি পৌরবাসীর মতামত আশা করেন বলে জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন