দশমিনায় নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা
jugantor
দশমিনায় নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

  দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মা ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ রক্ষায় দীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর দশমিনা তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে হতাশ হচ্ছেন জেলেরা। মাছ না পেয়ে নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন তারা। উপজেলার জেলে পল্লী খ্যাত গোলখালী ও বাঁশবাড়িয়াসহ বিভিন্ন হাটবাজার এলাকা ঘুরে সোম ও মঙ্গলবার দেখা যায়, কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে তাদের মুখ হয়ে আছে মলিন। কারণ নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়নে কার্ডধারী ১০ হাজার ১৭১ জন জেলে রয়েছেন। উপজেলার গোলখালী এলাকার জামাল হোসেনসহ চারজন এক নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামেন। তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেওয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুশ্চিন্তায় বসে আছেন। জামাল বলেন, অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাই নাই। ওই সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম। অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতি নামি দেহি কোনো মাছ নেই। রাতভর তিন খেপ দিয়া মাত্র ৭-৯ কেজি পোয়া আর ছোট মাছ পাইছি। তাও সব ছোট মাছ আর ১৮০ টাকা কেজি দরে বেচিছি। কি আর করমু। মনডা বেশি ভালা নাই। তাই চুপচাপ বইসা আছি।’ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মাছ ধরতে আসা শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ আর প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আর কেউ ঋণ নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি। তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই। গেল বছর প্রতি খেয় ২০-৩৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি। এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র পাঁচ কেজি মাছ পাইছি।’ বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন কিনতে এসেছেন বাজারে। না পেয়ে তারা হতাশ মুখে ফিরে যাচ্ছেন। মৎস্য ব্যবসায়ী বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মিরাজ খাঁ বলেন, ‘গত বছর অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি। অভিযানের সময় কেউ কেউ লুকিয়ে মাছ ধরেছে। মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে অনেকে। অভিযান শেষে ভালো মাছ ধরা পড়বে এই আশায় অনেকে ধারদেনা হয়ে জাল ও নৌকা নামিয়েছে। নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে আমরা হতাশ হচ্ছি।’

দশমিনায় নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

 দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মা ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ রক্ষায় দীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর দশমিনা তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে হতাশ হচ্ছেন জেলেরা। মাছ না পেয়ে নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন তারা। উপজেলার জেলে পল্লী খ্যাত গোলখালী ও বাঁশবাড়িয়াসহ বিভিন্ন হাটবাজার এলাকা ঘুরে সোম ও মঙ্গলবার দেখা যায়, কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে তাদের মুখ হয়ে আছে মলিন। কারণ নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়নে কার্ডধারী ১০ হাজার ১৭১ জন জেলে রয়েছেন। উপজেলার গোলখালী এলাকার জামাল হোসেনসহ চারজন এক নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামেন। তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেওয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুশ্চিন্তায় বসে আছেন। জামাল বলেন, অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাই নাই। ওই সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম। অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতি নামি দেহি কোনো মাছ নেই। রাতভর তিন খেপ দিয়া মাত্র ৭-৯ কেজি পোয়া আর ছোট মাছ পাইছি। তাও সব ছোট মাছ আর ১৮০ টাকা কেজি দরে বেচিছি। কি আর করমু। মনডা বেশি ভালা নাই। তাই চুপচাপ বইসা আছি।’ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মাছ ধরতে আসা শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ আর প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আর কেউ ঋণ নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি। তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই। গেল বছর প্রতি খেয় ২০-৩৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি। এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র পাঁচ কেজি মাছ পাইছি।’ বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন কিনতে এসেছেন বাজারে। না পেয়ে তারা হতাশ মুখে ফিরে যাচ্ছেন। মৎস্য ব্যবসায়ী বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মিরাজ খাঁ বলেন, ‘গত বছর অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি। অভিযানের সময় কেউ কেউ লুকিয়ে মাছ ধরেছে। মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে অনেকে। অভিযান শেষে ভালো মাছ ধরা পড়বে এই আশায় অনেকে ধারদেনা হয়ে জাল ও নৌকা নামিয়েছে। নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে আমরা হতাশ হচ্ছি।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন