মীরসরাই ও মোরেলগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকট
jugantor
মীরসরাই ও মোরেলগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকট
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

  মীরসরাই (চট্টগ্রাম) ও মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশুদ্ধ পানির সংকটে দিশেহারা চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষ। একদিকে নলকূপে পানি না ওঠা অন্যদিকে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এসব মানুষ।

২০০২-২০০৩ অর্থবছরে এ অঞ্চলে নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হলেও পরে ভাটা পড়ে যায়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় চলতি মাস থেকে আর্সেনিক পরীক্ষার কাজ শুরু হবে বলে জানান উপজেলার সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ।

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের টিউবয়েলগুলোতে উঠছে না পানি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই অংশের পূর্ব পাশে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।

এসব শিল্পকারখানায় পানি ব্যবহার করা হচ্ছে ভূ-গর্ভ থেকে। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপে পানি উঠছে না। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাইয়ের ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে।

সর্বশেষ ২০০২-২০০৩ সালে ৭৫ হাজার ৩৬৬টি পরিবারের ৩২ হাজার ৪৮০টি সাধারণ নলকূপ পরীক্ষা করা হয়েছে। নলকূপগুলোর পানিতে গড়ে ৩৯.৭৭ মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায়।

এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৩৩টি নলকূপের প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিগ্রামের অধিক মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায়। এ সময় নলকূপগুলোকে লাল রঙ দিয়ে পানি পান না করতে সতর্ক করা হয়। ওই সময় শনাক্ত করা হয়েছিলেন ৪০ জন রোগী।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ জানান, ৫০ জন মানুষের জন্য একটি গভীর নলকূপ প্রয়োজন।

এদিকে সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই দেখা দেয় এ সংকট। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় খাবার পানির এ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পানীয় জলের জন্য সর্বত্র হাহাকার বিরাজ করছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নলকূপে আর্সেনিক, অকেজো নলকূপ, অকেজো পিএসএফের কারণে এ সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সরকারি নলকূপ ও পিএসএফ অকেজো। পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্মিত শত শত নলকূপও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মোরেলগঞ্জ পৌর সদরে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভাবনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলার ৩০৯টি সরকারি ও ৪৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশতে কোনো টিউবওয়েল নেই। আর যেগুলোতে আছে তাও অকেজো অবস্থায় রয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশ ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এসব নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শত শত নলকূপের যন্ত্রাংশ ইতোপূর্বে চুরি হয়ে গেছে। একটি চোরাকারবারী চক্র এসব নলকূপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করছে।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিউধরা, নিশানবাড়ীয়া, খাউলিয়া, বলইবুনীয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে এ মৌসুমে পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে পুকুরের পানি পান করতে পারছে না এলাকাবাসী।

২০০৩ সালের আর্সেনিক জরিপ অনুযায়ী উপজেলার সব ইউনিয়নে কম বেশি আর্সেনিক চিহ্নিত টিউবওয়েল রয়েছে। তবে বনগ্রাম, হোগলাবুনিয়া, হোগলাপাশা ইউনিয়নের আর্সেনিক চিহ্নিত টিউবওয়েল রয়েছে সবচেয়ে বেশি ও ভয়ানক আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তরের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

অধিকাংশ হিসাবই কাগুজ-কলমে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও দু’একটি সচল টিউবওয়েল পাওয়া যাবে না। পৌর সদরের চিত্র একই। যেসব টিউবওয়েল সচল রয়েছে সেগুলোর পানি থালা বাসন ধোয়া ছাড়া পানের অযোগ্য।

মীরসরাই ও মোরেলগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকট

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী
 মীরসরাই (চট্টগ্রাম) ও মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশুদ্ধ পানির সংকটে দিশেহারা চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষ। একদিকে নলকূপে পানি না ওঠা অন্যদিকে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এসব মানুষ।

২০০২-২০০৩ অর্থবছরে এ অঞ্চলে নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হলেও পরে ভাটা পড়ে যায়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় চলতি মাস থেকে আর্সেনিক পরীক্ষার কাজ শুরু হবে বলে জানান উপজেলার সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ।

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের টিউবয়েলগুলোতে উঠছে না পানি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই অংশের পূর্ব পাশে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।

এসব শিল্পকারখানায় পানি ব্যবহার করা হচ্ছে ভূ-গর্ভ থেকে। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপে পানি উঠছে না। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাইয়ের ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে।

সর্বশেষ ২০০২-২০০৩ সালে ৭৫ হাজার ৩৬৬টি পরিবারের ৩২ হাজার ৪৮০টি সাধারণ নলকূপ পরীক্ষা করা হয়েছে। নলকূপগুলোর পানিতে গড়ে ৩৯.৭৭ মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায়।

এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৩৩টি নলকূপের প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিগ্রামের অধিক মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায়। এ সময় নলকূপগুলোকে লাল রঙ দিয়ে পানি পান না করতে সতর্ক করা হয়। ওই সময় শনাক্ত করা হয়েছিলেন ৪০ জন রোগী।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ জানান, ৫০ জন মানুষের জন্য একটি গভীর নলকূপ প্রয়োজন।

এদিকে সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই দেখা দেয় এ সংকট। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় খাবার পানির এ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পানীয় জলের জন্য সর্বত্র হাহাকার বিরাজ করছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নলকূপে আর্সেনিক, অকেজো নলকূপ, অকেজো পিএসএফের কারণে এ সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সরকারি নলকূপ ও পিএসএফ অকেজো। পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্মিত শত শত নলকূপও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মোরেলগঞ্জ পৌর সদরে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভাবনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলার ৩০৯টি সরকারি ও ৪৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশতে কোনো টিউবওয়েল নেই। আর যেগুলোতে আছে তাও অকেজো অবস্থায় রয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশ ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এসব নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শত শত নলকূপের যন্ত্রাংশ ইতোপূর্বে চুরি হয়ে গেছে। একটি চোরাকারবারী চক্র এসব নলকূপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করছে।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিউধরা, নিশানবাড়ীয়া, খাউলিয়া, বলইবুনীয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে এ মৌসুমে পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে পুকুরের পানি পান করতে পারছে না এলাকাবাসী।

২০০৩ সালের আর্সেনিক জরিপ অনুযায়ী উপজেলার সব ইউনিয়নে কম বেশি আর্সেনিক চিহ্নিত টিউবওয়েল রয়েছে। তবে বনগ্রাম, হোগলাবুনিয়া, হোগলাপাশা ইউনিয়নের আর্সেনিক চিহ্নিত টিউবওয়েল রয়েছে সবচেয়ে বেশি ও ভয়ানক আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তরের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

অধিকাংশ হিসাবই কাগুজ-কলমে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও দু’একটি সচল টিউবওয়েল পাওয়া যাবে না। পৌর সদরের চিত্র একই। যেসব টিউবওয়েল সচল রয়েছে সেগুলোর পানি থালা বাসন ধোয়া ছাড়া পানের অযোগ্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন