ঝালকাঠিতে কাগজপত্র চুরি করে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি
jugantor
যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় বখাটের কাণ্ড!
ঝালকাঠিতে কাগজপত্র চুরি করে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি

  ঝালকাঠি প্রতিনিধি  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝালকাঠিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার কাগজপত্র চুরি করে অন্য একটি মাদ্রাসায় অস্টম শ্রেণিতে ভর্তি করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার দেউলকাঠি গ্রামের শওকত হোসেন খান নামের এক যুবক মেয়েটির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গেও শওকত জড়িত রয়েছে।

এ ঘটনা জানতে পেরে ওই ছাত্রীর মা শওকতের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় অভিযোগ দেন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকায় মেয়েটির শিক্ষাজীবন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, তিনি ঝালকাঠি শহরের বিকনা এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামী একজন সার্ভেয়ার। তাদের দুই সন্তান। বড় মেয়ে চামটা বি.কে. ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের প্রতিবেশী বজলুর রহমান খানের ছেলে শওকত হোসেন খান মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ওই মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো শওকত। বিষয়টি মেয়ে তার বাবা মাকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ছেলের পরিবারকে জানানো হয়। এরপরেও সে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা অব্যাহত রাখে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন মেয়ে মা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাসা থেকে কাগজপত্র চুরি করে শওকত। মেয়েটির কাগজপত্র নিয়ে দেউলকাঠি রহমানিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসায় অস্টম শ্রেণিতে ভর্তি করায় সে। ভর্তির সময় শওকত তার ভাগ্নির কাগজপত্র বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানায়। দেউলকাঠি রহমানিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অভিভাবক ও ছাত্রীর উপস্থিতি ছাড়া ভর্তি করানোর নিয়ম নেই। মাদ্রাসার সুপার কিভাবে অন্য একটি ছেলের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে ভর্তি করালেন এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাসির উদ্দিন খান বলেন, ভর্তির যাবতীয় কাজ করেন কেরানী আবদুল হাকিম। বিষয়টি আমার নলেজে নেই। পরে জানতে পেরে কেরানীকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন শওকত আপন ভাগ্নি হয় বলে মেয়েটির কাগজপত্র জমা দিয়েছে। মেয়ের বাবার কথা জানতে চাইলে, শওকত বলে সে জেলে আছে, আমার বোন আমাকে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শওকত হোসেন খান বলেন, আমি ওই মেয়েকে কখনো উত্ত্যক্ত করিনি। তাদের সঙ্গে অন্য বিষয় নিয়া আমার বিরোধ রয়েছে। আমি মেয়েটিকে কোথাও ভর্তি করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ মল্লিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের একজন উপপরিদর্শককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে, দুটি প্রতিষ্ঠানে সে ভর্তি হতে পারবে না। এখন অনলাইনে সবকিছু ধরা পড়ে যায়। যদি দুটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়, তাহলে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে। যদি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়, তাহলে ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই হুমকির মুখে পড়বে।

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় বখাটের কাণ্ড!

ঝালকাঠিতে কাগজপত্র চুরি করে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি

 ঝালকাঠি প্রতিনিধি 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝালকাঠিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার কাগজপত্র চুরি করে অন্য একটি মাদ্রাসায় অস্টম শ্রেণিতে ভর্তি করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার দেউলকাঠি গ্রামের শওকত হোসেন খান নামের এক যুবক মেয়েটির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গেও শওকত জড়িত রয়েছে।

এ ঘটনা জানতে পেরে ওই ছাত্রীর মা শওকতের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় অভিযোগ দেন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকায় মেয়েটির শিক্ষাজীবন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, তিনি ঝালকাঠি শহরের বিকনা এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামী একজন সার্ভেয়ার। তাদের দুই সন্তান। বড় মেয়ে চামটা বি.কে. ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের প্রতিবেশী বজলুর রহমান খানের ছেলে শওকত হোসেন খান মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ওই মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো শওকত। বিষয়টি মেয়ে তার বাবা মাকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ছেলের পরিবারকে জানানো হয়। এরপরেও সে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা অব্যাহত রাখে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন মেয়ে মা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাসা থেকে কাগজপত্র চুরি করে শওকত। মেয়েটির কাগজপত্র নিয়ে দেউলকাঠি রহমানিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসায় অস্টম শ্রেণিতে ভর্তি করায় সে। ভর্তির সময় শওকত তার ভাগ্নির কাগজপত্র বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানায়। দেউলকাঠি রহমানিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অভিভাবক ও ছাত্রীর উপস্থিতি ছাড়া ভর্তি করানোর নিয়ম নেই। মাদ্রাসার সুপার কিভাবে অন্য একটি ছেলের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে ভর্তি করালেন এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাসির উদ্দিন খান বলেন, ভর্তির যাবতীয় কাজ করেন কেরানী আবদুল হাকিম। বিষয়টি আমার নলেজে নেই। পরে জানতে পেরে কেরানীকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন শওকত আপন ভাগ্নি হয় বলে মেয়েটির কাগজপত্র জমা দিয়েছে। মেয়ের বাবার কথা জানতে চাইলে, শওকত বলে সে জেলে আছে, আমার বোন আমাকে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শওকত হোসেন খান বলেন, আমি ওই মেয়েকে কখনো উত্ত্যক্ত করিনি। তাদের সঙ্গে অন্য বিষয় নিয়া আমার বিরোধ রয়েছে। আমি মেয়েটিকে কোথাও ভর্তি করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ মল্লিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের একজন উপপরিদর্শককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে, দুটি প্রতিষ্ঠানে সে ভর্তি হতে পারবে না। এখন অনলাইনে সবকিছু ধরা পড়ে যায়। যদি দুটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়, তাহলে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে। যদি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়, তাহলে ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই হুমকির মুখে পড়বে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন