অর্ধলাখ শিক্ষকের মানবেতর জীবন
jugantor
করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল হয়ে গেছে। বিদ্যালয় ভবন বা প্রাঙ্গণে গরু-ছাগল রাখা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে রাখা হয়েছে খড় কিংবা ব্যবসায়িক সামগ্রী। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নির্মাণসামগ্রী রেখে শ্রমিকরা বসবাস করছেন। আবার যানবাহনের স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ বা প্রাঙ্গণ। বিদ্যালয়ের জমিতে গড়ে উঠেছে সরকারদলীয় সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যালয়। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ ও আঙিনায় ঝোপঝাড় হয়ে ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয় স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র নিয়ে যুগান্তরের বিশেষ আয়োজন-
অর্ধলাখ শিক্ষকের মানবেতর জীবন
ময়মনসিংহে ১০ লাখ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় * অন্য পেশায় যাচ্ছেন শিক্ষকরা

  আতাউল করিম খোকন, ময়মনসিংহ ব্যুরো  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের চার জেলায় কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা বেকার হয়ে আছেন। বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। করোনাকাল শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচলের ঘোষণা এলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর চালু করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব স্কুলের মধ্যে মাত্র পাঁচভাগ স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নিলেও বেশিরভাগ স্কুলই বন্ধ। শিশুরা স্কুলে যেতে না পেরে মানসিকভাবে বাসায় থেকে অস্থির হয়ে পড়েছে। তারা বাসায় থেকে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাজীবন ক্ষতির আশঙ্কা শিক্ষক ও অভিভাবকদের। জানা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগে জামালপুর জেলায় প্রায় তিন হাজার, শেরপুর জেলায় চারশ, নেত্রকোনা জেলায় আটশ কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। গত দেড় বছরে স্কুল বন্ধের কারণে ভাড়া বাসায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই দীর্ঘদিন বাসা ভাড়া দিতে না পারায় অনেক স্কুলের সাইনবোর্ড পর্যন্ত খুলে ফেলা হয়েছে। যে কটি স্কুলে নিজস্ব জায়গায় ভবন আছে তারাও শিক্ষক সংখ্যা কমিয়ে অর্ধেক বেতনে শিক্ষক কর্মচারীদের টিকিয়ে রেখেছেন।

ময়মনসিংহ শহরের স্বনামধন্য নতুন কুঁড়ি নার্সারি স্কুলের প্রিন্সিপাল সুলতান জাহান (খুকু আপা) জানান, তার স্কুলে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে ৩৫ জন আছেন। তাদের অর্ধেক বেতনে কাজ করতে হচ্ছে।

নান্দাইল উপজেলার আচারগাও ইউনিয়নের আশার আলো কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল হক জানান, তার স্কুলের ৫ জন শিক্ষক দেড় বছর ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় তারা অন্য পেশায় চলে গেছেন। গাংগাইল ইউনিয়নের নান্দাইল রোড এলাকার গোলডেন প্যারাডাইস কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক আনোয়রুল হক জানান, তার স্কুলের ৬ জন শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজগাতি ইউনয়নের শিমুলতলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, তার স্কুলের ১২ জন শিক্ষকই দেড় বছর ধরে বেকার। শিক্ষিকা উর্মি আক্তার জনান, তিনি এখন হাঁস-মুরগি পালন করে সংসার চালান। ত্রিশাল উপজেলার আল হেরা কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় সংসার চালানোর জন্য মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে উপজেলার কাকচর রোডের জনৈক আবুল কালামের গরুর ফার্মে চাকরি নিয়েছেন। ভালুকা উপজেলা সদরের নবধারা মডেল স্কুলের ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী বেকার জীবনযাপন করছেন বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক/পরিচালক জাহিদুর রহমান জানান। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ১৩৩৩টি কিন্ডারগার্টেন ও নার্সারি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে প্রায় দশ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এসব শিক্ষকের জন্য করোনাকালীন কোনো প্রণোদনা আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল হয়ে গেছে। বিদ্যালয় ভবন বা প্রাঙ্গণে গরু-ছাগল রাখা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে রাখা হয়েছে খড় কিংবা ব্যবসায়িক সামগ্রী। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নির্মাণসামগ্রী রেখে শ্রমিকরা বসবাস করছেন। আবার যানবাহনের স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ বা প্রাঙ্গণ। বিদ্যালয়ের জমিতে গড়ে উঠেছে সরকারদলীয় সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যালয়। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ ও আঙিনায় ঝোপঝাড় হয়ে ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয় স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র নিয়ে যুগান্তরের বিশেষ আয়োজন-

অর্ধলাখ শিক্ষকের মানবেতর জীবন

ময়মনসিংহে ১০ লাখ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় * অন্য পেশায় যাচ্ছেন শিক্ষকরা
 আতাউল করিম খোকন, ময়মনসিংহ ব্যুরো 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের চার জেলায় কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা বেকার হয়ে আছেন। বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। করোনাকাল শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচলের ঘোষণা এলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর চালু করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব স্কুলের মধ্যে মাত্র পাঁচভাগ স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নিলেও বেশিরভাগ স্কুলই বন্ধ। শিশুরা স্কুলে যেতে না পেরে মানসিকভাবে বাসায় থেকে অস্থির হয়ে পড়েছে। তারা বাসায় থেকে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাজীবন ক্ষতির আশঙ্কা শিক্ষক ও অভিভাবকদের। জানা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগে জামালপুর জেলায় প্রায় তিন হাজার, শেরপুর জেলায় চারশ, নেত্রকোনা জেলায় আটশ কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। গত দেড় বছরে স্কুল বন্ধের কারণে ভাড়া বাসায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই দীর্ঘদিন বাসা ভাড়া দিতে না পারায় অনেক স্কুলের সাইনবোর্ড পর্যন্ত খুলে ফেলা হয়েছে। যে কটি স্কুলে নিজস্ব জায়গায় ভবন আছে তারাও শিক্ষক সংখ্যা কমিয়ে অর্ধেক বেতনে শিক্ষক কর্মচারীদের টিকিয়ে রেখেছেন।

ময়মনসিংহ শহরের স্বনামধন্য নতুন কুঁড়ি নার্সারি স্কুলের প্রিন্সিপাল সুলতান জাহান (খুকু আপা) জানান, তার স্কুলে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে ৩৫ জন আছেন। তাদের অর্ধেক বেতনে কাজ করতে হচ্ছে।

নান্দাইল উপজেলার আচারগাও ইউনিয়নের আশার আলো কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল হক জানান, তার স্কুলের ৫ জন শিক্ষক দেড় বছর ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় তারা অন্য পেশায় চলে গেছেন। গাংগাইল ইউনিয়নের নান্দাইল রোড এলাকার গোলডেন প্যারাডাইস কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক আনোয়রুল হক জানান, তার স্কুলের ৬ জন শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজগাতি ইউনয়নের শিমুলতলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, তার স্কুলের ১২ জন শিক্ষকই দেড় বছর ধরে বেকার। শিক্ষিকা উর্মি আক্তার জনান, তিনি এখন হাঁস-মুরগি পালন করে সংসার চালান। ত্রিশাল উপজেলার আল হেরা কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় সংসার চালানোর জন্য মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে উপজেলার কাকচর রোডের জনৈক আবুল কালামের গরুর ফার্মে চাকরি নিয়েছেন। ভালুকা উপজেলা সদরের নবধারা মডেল স্কুলের ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী বেকার জীবনযাপন করছেন বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক/পরিচালক জাহিদুর রহমান জানান। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ১৩৩৩টি কিন্ডারগার্টেন ও নার্সারি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে প্রায় দশ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এসব শিক্ষকের জন্য করোনাকালীন কোনো প্রণোদনা আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন