জরাজীর্ণ দেড়শতাধিক বিদ্যালয়
jugantor
জরাজীর্ণ দেড়শতাধিক বিদ্যালয়

  মির্জা হুমায়ুন কবীর, মাদারগঞ্জ ও তফাজ্জল হোসেন, গফরগাঁও  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারগঞ্জে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা অন্তত ২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। করোনায় দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকায় ওইসব বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিবছর বিদ্যালয়গুলোর ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য অর্থ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন পাঠানো হলেও অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে সেসব বিদ্যালয়ের পরিবর্তে অন্য বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি নির্মিত হয়েছে একটি বাড়ির আঙিনায়। অথচ দুই কিলোমিটার দূরে ফসলি জমিতে ওই বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখা হয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনটির সামনে ১০৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য ১৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও আট ফুট প্রস্থ একটি টিনের ঘরে তিনটি কক্ষ করে ১০-১২টি বেঞ্চ রাখা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে শিক্ষা অফিসের এটিও হারুনুর রশিদ জানান, বাড়ির আঙিনায় তিন শতাংশ জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। বিদ্যালয়টির নামে ৩০ শতাংশ জায়গা আছে দুই কিলোমিটার দূরে। সেখানে ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। এ কারণে ওই বিদ্যালয় ভবনের জন্য অর্থ বরাদ্দ এলেও তা ফেরত গেছে। একই অবস্থা উপজেলার বাকুরচর, পূর্ব জটিয়ারপাড়া, বানিকুঞ্জ, চরচাঁদপুর ওসমান গণি, চরকয়ড়া, গুনেরবাড়ি ও সোলায়মান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ২৬টি বিদ্যালয়ের। জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার কাছে যে কাগজ আসে তাতে শুধু বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ থাকে। বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের নামসহ তালিকা আসে উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে। শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা চাহিদাপত্র পরিবর্তিত হয়ে অন্য বিদ্যালয়ের নামে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ আসার ব্যাপারে তাকে কেউ কিছু জানায়নি বলেও তিনি জানান।

এদিকে গফরগাঁওয়ে ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে ২৫ বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। করোনা মহামারি কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠিান বন্ধ থাকায় এখন আরও বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহারের অযোগ্য বিদ্যালয়ের ভবনগুলো সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। করোনা মহামারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

জরাজীর্ণ দেড়শতাধিক বিদ্যালয়

 মির্জা হুমায়ুন কবীর, মাদারগঞ্জ ও তফাজ্জল হোসেন, গফরগাঁও 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারগঞ্জে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা অন্তত ২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। করোনায় দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকায় ওইসব বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিবছর বিদ্যালয়গুলোর ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য অর্থ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন পাঠানো হলেও অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে সেসব বিদ্যালয়ের পরিবর্তে অন্য বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি নির্মিত হয়েছে একটি বাড়ির আঙিনায়। অথচ দুই কিলোমিটার দূরে ফসলি জমিতে ওই বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখা হয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনটির সামনে ১০৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য ১৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও আট ফুট প্রস্থ একটি টিনের ঘরে তিনটি কক্ষ করে ১০-১২টি বেঞ্চ রাখা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে শিক্ষা অফিসের এটিও হারুনুর রশিদ জানান, বাড়ির আঙিনায় তিন শতাংশ জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। বিদ্যালয়টির নামে ৩০ শতাংশ জায়গা আছে দুই কিলোমিটার দূরে। সেখানে ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। এ কারণে ওই বিদ্যালয় ভবনের জন্য অর্থ বরাদ্দ এলেও তা ফেরত গেছে। একই অবস্থা উপজেলার বাকুরচর, পূর্ব জটিয়ারপাড়া, বানিকুঞ্জ, চরচাঁদপুর ওসমান গণি, চরকয়ড়া, গুনেরবাড়ি ও সোলায়মান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ২৬টি বিদ্যালয়ের। জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার কাছে যে কাগজ আসে তাতে শুধু বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ থাকে। বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের নামসহ তালিকা আসে উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে। শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা চাহিদাপত্র পরিবর্তিত হয়ে অন্য বিদ্যালয়ের নামে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ আসার ব্যাপারে তাকে কেউ কিছু জানায়নি বলেও তিনি জানান।

এদিকে গফরগাঁওয়ে ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে ২৫ বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। করোনা মহামারি কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠিান বন্ধ থাকায় এখন আরও বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহারের অযোগ্য বিদ্যালয়ের ভবনগুলো সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। করোনা মহামারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন