শতাধিক স্কুল শাটডাউনের পথে
jugantor
করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লতা-পাতা জন্মে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে মাঠ। কোনো কোনো বিদ্যালয় ভবনে আস্তানা গেড়েছে সাপ। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চগুলোতে ধুলার আস্তরণ পড়ে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মাঠ গরু-ছাগলের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাসাবাড়ি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে ভবন। নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে কোনো স্কুলের মাঠে। চাষ করা হয়েছে সবজি। পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে করোনার কারণে আর্থিক সংকটে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সিলেট বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র নিয়ে যুগান্তরের বিশেষ আয়োজন-
শতাধিক স্কুল শাটডাউনের পথে
সিলেটে মানবেতর জীবনযাপন শিক্ষকদের * বিপথগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

  ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট ব্যুরো  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর খাসিটুলা এলাকায় ৮ জন উদ্যোক্তা মিলে ভাড়াবাসায় ‘জি নেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থীর ওই প্রতিষ্ঠানটি ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। স্কুল বন্ধ, তাই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বেতনও বন্ধ। এ অবস্থায় স্কুলের বিল্ডিং ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ৭-৮ লাখ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সোহেল রানা। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনেকটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শহরতলী ও নগরীতে বেসরকারি তিন শতাধিক স্কুল ও ৩২টি কলেজ রয়েছে। করোনার কারণে বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬০ কোটি টাকাও বেশি লোকসান হয়েছে। শুধু জিনেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল-ই নয়, সিলেট নগরী ও শহরতলীর প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুলের এ অবস্থা। তিন শতাধিক বেসরকারি স্কুলের মধ্যে ২০টির অধিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ১০০টির মতো স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন তালিকায় আছে বেশ কয়েকটি কলেজও। দীর্ঘ ছুটিতে বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক-শিক্ষকরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুল থেকে মাসিক বেতন, সেশন ও উন্নয়ন ফি দ্রুত পরিশোধ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। নোটিশ ঝুলানো হয়েছে। এতে আয়-রোজগার থেমে যাওয়া, কমে যাওয়া কিংবা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন। এদিকে, বন্ধ থাকার কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরাও রয়েছেন বিপাকে। ১৬ মাস ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না অনেকেই। এমনকি স্কুলে নিয়মিত করানো টিউশনিও এখন নেই। যাদের সংসার শুধু এই শিক্ষকতা পেশায় চলে তাদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই দুর্যোগের মধ্যে অনেকে চাকরিও হারাচ্ছেন। বেসরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা রহমান বলেন, আমার বেতন নেই ১১ মাস ধরে। আগে স্কুলে গেলে টিউশনি ছিল এখন সেটাও নেই। এর মধ্যে আবার আমার স্বামীর স্থায়ী কোনো চাকরিও নেই। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।

প্রাইভেট স্কুল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন ফারুক যুগান্তরকে জানান, তিন শতাধিক বেসরকারি স্কুলের মধ্যে ২০টির অধিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ১০০টির মতো স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দিতে পারছে না। ধার-দেনা করে কোনোরকম বিল্ডিং ভাড়া চালিয়ে যাচ্ছে। করোনায় তিন শতাধিক বেসরকারি স্কুলের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। সরকার বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের মাত্র ৫ হাজার, কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা করে একবার প্রণোদনা দিলেও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছু পাননি। এমনকি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় সব খাতে প্রণোদনা দিলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঠিকিয়ে রাখতে কোনো প্রণোদনা নেই। তিনি বলেন, এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়েরাও বিপদগামী হচ্ছে। অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লতা-পাতা জন্মে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে মাঠ। কোনো কোনো বিদ্যালয় ভবনে আস্তানা গেড়েছে সাপ। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চগুলোতে ধুলার আস্তরণ পড়ে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মাঠ গরু-ছাগলের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাসাবাড়ি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে ভবন। নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে কোনো স্কুলের মাঠে। চাষ করা হয়েছে সবজি। পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে করোনার কারণে আর্থিক সংকটে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সিলেট বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র নিয়ে যুগান্তরের বিশেষ আয়োজন-

শতাধিক স্কুল শাটডাউনের পথে

সিলেটে মানবেতর জীবনযাপন শিক্ষকদের * বিপথগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
 ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট ব্যুরো 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর খাসিটুলা এলাকায় ৮ জন উদ্যোক্তা মিলে ভাড়াবাসায় ‘জি নেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থীর ওই প্রতিষ্ঠানটি ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। স্কুল বন্ধ, তাই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বেতনও বন্ধ। এ অবস্থায় স্কুলের বিল্ডিং ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ৭-৮ লাখ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সোহেল রানা। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনেকটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শহরতলী ও নগরীতে বেসরকারি তিন শতাধিক স্কুল ও ৩২টি কলেজ রয়েছে। করোনার কারণে বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬০ কোটি টাকাও বেশি লোকসান হয়েছে। শুধু জিনেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল-ই নয়, সিলেট নগরী ও শহরতলীর প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুলের এ অবস্থা। তিন শতাধিক বেসরকারি স্কুলের মধ্যে ২০টির অধিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ১০০টির মতো স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন তালিকায় আছে বেশ কয়েকটি কলেজও। দীর্ঘ ছুটিতে বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক-শিক্ষকরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুল থেকে মাসিক বেতন, সেশন ও উন্নয়ন ফি দ্রুত পরিশোধ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। নোটিশ ঝুলানো হয়েছে। এতে আয়-রোজগার থেমে যাওয়া, কমে যাওয়া কিংবা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন। এদিকে, বন্ধ থাকার কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরাও রয়েছেন বিপাকে। ১৬ মাস ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না অনেকেই। এমনকি স্কুলে নিয়মিত করানো টিউশনিও এখন নেই। যাদের সংসার শুধু এই শিক্ষকতা পেশায় চলে তাদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই দুর্যোগের মধ্যে অনেকে চাকরিও হারাচ্ছেন। বেসরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা রহমান বলেন, আমার বেতন নেই ১১ মাস ধরে। আগে স্কুলে গেলে টিউশনি ছিল এখন সেটাও নেই। এর মধ্যে আবার আমার স্বামীর স্থায়ী কোনো চাকরিও নেই। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।

প্রাইভেট স্কুল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন ফারুক যুগান্তরকে জানান, তিন শতাধিক বেসরকারি স্কুলের মধ্যে ২০টির অধিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ১০০টির মতো স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দিতে পারছে না। ধার-দেনা করে কোনোরকম বিল্ডিং ভাড়া চালিয়ে যাচ্ছে। করোনায় তিন শতাধিক বেসরকারি স্কুলের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। সরকার বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের মাত্র ৫ হাজার, কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা করে একবার প্রণোদনা দিলেও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছু পাননি। এমনকি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় সব খাতে প্রণোদনা দিলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঠিকিয়ে রাখতে কোনো প্রণোদনা নেই। তিনি বলেন, এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়েরাও বিপদগামী হচ্ছে। অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন