শ্রেণিকক্ষে শ্রমিকের বাস স্কুলমাঠে নির্মাণসামগ্রী
jugantor
শ্রেণিকক্ষে শ্রমিকের বাস স্কুলমাঠে নির্মাণসামগ্রী
পাঠদানে অপ্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  হোসাইন আহমদ, মৌলভীবাজার, মো. সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ ও কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, শায়েস্তাগঞ্জ  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রনে রাখতে ১৫ মাস ধরে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র বিদ্যালয়কে অপব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ বিদ্যালয়ের মাঠে রেখেছেন নির্মাণসামগ্রী। সরেজমিন রাজনগর উপজেলার পশ্চিমভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী পাথর, বালু, মিক্সার মেশিন, গালার ড্রাম, সিলিন্ডার ও কাপড় রাখা হয়েছে। কচুরিপানায় স্কুল মাঠ ভরে গেছে। শ্রেণিকক্ষে থাকছেন শ্রমিকরা। একই চিত্র জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসাতে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, এরকম হলে খোলার আগে প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো ফজলুর রহমান বলেন, পাঠদান শুরুর আগে এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে।

এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা বেহাল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাদামাটিসহ নানা আবর্জনায় জর্জরিত। সরেজমিন দেখা গেছে, বাউসা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। তিনটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে রেখেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, স্কুল বন্ধ তাই তারা এখানে বসবাসের জায়গা বানিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া দিনের পর দিন খেলার মাঠজুড়ে চষে বেড়াচ্ছে আশপাশের গৃহপালিত গরু-ছাগল। রোদ-বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে শেষমেশ এসব গুরু-ছাগল আশ্রয় নেয় বিদ্যালয়ের বারান্দা কিংবা শ্রেণিকক্ষে। মাঠের কোনায় কোনায় জন্মেছে প্রচুর পরিমাণে আগাছা।

এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জে নুরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গেল ধানের মৌসুমে শুকানো হয়েছে ধানের খড় (বন)। আর এলাকার মধ্যবয়স্ক তরুণদের মিলে চলে ফুটবল খেলা। শায়েস্তাগঞ্জে উচ্চবিদ্যালয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। মাঠের ঘাসগুলো বেড়ে উঠেছে, কোথাও নেই কেউ, মাঠে উড়ছে না জাতীয় পতাকা। শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়েও একই অবস্থা- নির্মাণ সামগ্রী সারা স্কুলজুড়ে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গায় ঠিকাদারের নির্মান সামগ্রী রাখা। নির্মাণ শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও ক্লাস রুমেই। শায়েস্তাগঞ্জ মডেল কামিল মাদ্রাসায় ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন মাদ্রাসার বেঞ্চগুলো ব্যবহৃত না হওয়ায় যেন মরচে পড়ে গেছে। অনেকেই আবার গো-চরণ ভূমি হিসাবে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে বেশিরভাগ স্কুলেই দেখা গেছে শহিদ মিনারেও জমে আছে ধুলা আর ময়লা। স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শহিদ মিনারেরও পরিচর্যা করা হয়নি। উপজেলার স্কুলগুলোতে দপ্তরিগুলোও আয়েশে, খোশমেজাজে থাকায় নজর পড়ে না স্কুলের বারান্দার।

একই চিত্র উপজেলার ২৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। কোথাও গরু চরানো হচ্ছে।

শ্রেণিকক্ষে শ্রমিকের বাস স্কুলমাঠে নির্মাণসামগ্রী

পাঠদানে অপ্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
 হোসাইন আহমদ, মৌলভীবাজার, মো. সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ ও কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, শায়েস্তাগঞ্জ 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রনে রাখতে ১৫ মাস ধরে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র বিদ্যালয়কে অপব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ বিদ্যালয়ের মাঠে রেখেছেন নির্মাণসামগ্রী। সরেজমিন রাজনগর উপজেলার পশ্চিমভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী পাথর, বালু, মিক্সার মেশিন, গালার ড্রাম, সিলিন্ডার ও কাপড় রাখা হয়েছে। কচুরিপানায় স্কুল মাঠ ভরে গেছে। শ্রেণিকক্ষে থাকছেন শ্রমিকরা। একই চিত্র জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসাতে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, এরকম হলে খোলার আগে প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো ফজলুর রহমান বলেন, পাঠদান শুরুর আগে এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে।

এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা বেহাল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাদামাটিসহ নানা আবর্জনায় জর্জরিত। সরেজমিন দেখা গেছে, বাউসা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। তিনটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে রেখেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, স্কুল বন্ধ তাই তারা এখানে বসবাসের জায়গা বানিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া দিনের পর দিন খেলার মাঠজুড়ে চষে বেড়াচ্ছে আশপাশের গৃহপালিত গরু-ছাগল। রোদ-বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে শেষমেশ এসব গুরু-ছাগল আশ্রয় নেয় বিদ্যালয়ের বারান্দা কিংবা শ্রেণিকক্ষে। মাঠের কোনায় কোনায় জন্মেছে প্রচুর পরিমাণে আগাছা।

এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জে নুরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গেল ধানের মৌসুমে শুকানো হয়েছে ধানের খড় (বন)। আর এলাকার মধ্যবয়স্ক তরুণদের মিলে চলে ফুটবল খেলা। শায়েস্তাগঞ্জে উচ্চবিদ্যালয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। মাঠের ঘাসগুলো বেড়ে উঠেছে, কোথাও নেই কেউ, মাঠে উড়ছে না জাতীয় পতাকা। শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়েও একই অবস্থা- নির্মাণ সামগ্রী সারা স্কুলজুড়ে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গায় ঠিকাদারের নির্মান সামগ্রী রাখা। নির্মাণ শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও ক্লাস রুমেই। শায়েস্তাগঞ্জ মডেল কামিল মাদ্রাসায় ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন মাদ্রাসার বেঞ্চগুলো ব্যবহৃত না হওয়ায় যেন মরচে পড়ে গেছে। অনেকেই আবার গো-চরণ ভূমি হিসাবে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে বেশিরভাগ স্কুলেই দেখা গেছে শহিদ মিনারেও জমে আছে ধুলা আর ময়লা। স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শহিদ মিনারেরও পরিচর্যা করা হয়নি। উপজেলার স্কুলগুলোতে দপ্তরিগুলোও আয়েশে, খোশমেজাজে থাকায় নজর পড়ে না স্কুলের বারান্দার।

একই চিত্র উপজেলার ২৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। কোথাও গরু চরানো হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন