ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডির কার্ড নিয়ে ‘ভেলকিবাজি’
jugantor
ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডির কার্ড নিয়ে ‘ভেলকিবাজি’

  আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)  

২৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী দুস্থ নারী পারভীন কার্ড পেতে যেমন ভেলকিবাজির শিকার হলেন, তেমনই জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার কার্ডের ৬ মাসের বরাদ্দকৃত চাল ওঠাতে গিয়েও চালবাজির শিকার হয়েছেন।

যুগান্তরে ১৭ জুন ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডি কর্মসূচিতে অনিয়ম ‘কার্ড নিলে লাগবে টাকা’-এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে যুগান্তর প্রতিনিধির সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও চমকপ্রদ তথ্য বেড়িয়ে আসে।

হতদরিদ্র অসহায় পরিবারে জন্ম জাটিয়া ইউনিয়নের মাকরঝাপ গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে পারভীনের (৩৫)। ১৫ বছর আগে একই ইউপির মাকরঝাপ গ্রামের আব্দুছ সালামের ছেলে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে বিয়ে হয়। তার ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়েপাগল স্বামী ইতোমধ্যে তিনটি বিয়ে করেন। আট বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই পারভীনের। তিনি জানান, তার স্বামী প্রবাসে রয়েছেন। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তার দুই মেয়েকে নিয়ে হতদরিদ্র বাবার সংসারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পারভীন জানান, সাত-আট মাস আগে ভিজিডি কার্ডের চালের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। দীর্ঘদিন তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে তার নামে ভিজিডি কার্ড হয়েছে কি না তা জানতে পারেননি। বুধবার পারভিনের মুখোমুখি হলে যুগান্তর প্রতিনিধির কাছ থেকে জানতে পাড়েন ৬ মাস আগে তার নামে ভিজিডি কার্ড ইস্যু হয়েছে এবং প্রতিমাসে ৩০ কেজি চালও বরাদ্দ রয়েছে।

যুগান্তরের সংবাদ প্রকাশের পূর্বপর্যন্ত তিনি জানতে পারেননি এ তথ্য। ওইদিন বিকালেই পারভীন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জানতে চান তার নামে কার্ড হয়েছে কি না। পরে পারভীন যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি জানালে চেয়ারম্যান ইউপি সচিবকে বলেন তার নামে কার্ড ইস্যু করা থাকলে চাল দিয়ে দেন। সচিব চেয়ারম্যানের নির্দেশমতো একসঙ্গে ৩০ কেজির ৫টি বস্তা দিয়ে দেন। কিন্তু পারভীনের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় ৬ বস্তা চালের। এ সময় পারভীন এর কারণ জানতে চাইলে চাল বিতরণকারীরা তাকে জানান, এতদিন ইউনিয়ন পরিষদের পাকা ফ্লোরে বস্তা পড়ে থাকায় ‘এক বস্তা তো পোকাই খেয়ে ফেলেছে’। পারভীন চাল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যুগান্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুঃখ একটাই-দস্তখত দিলাম ৬ বস্তা চালের আর চাল পেলাম ৫ বস্তা।’

এমন ঘটনা শুধু পারভীনের ক্ষেত্রেই নয়, অনেককেই মেম্বারের কাছ থেকে কার্ড নিতে ভেলকিবাজির শিকার হতে হয়েছে। এর মধ্যে কাহেদ গ্রামের কুলছুম, নাছিমা আক্তার কুমারুলী গ্রামের মেরিনা, হাসনারা খাতুন, আক্তারা খাতুনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ইউপি সচিব হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। এ সম্পর্কে চেয়ারম্যান শামছুল হক ঝন্টুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন এক বস্তা চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাকে ৫ বস্তাই দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডির কার্ড নিয়ে ‘ভেলকিবাজি’

 আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) 
২৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী দুস্থ নারী পারভীন কার্ড পেতে যেমন ভেলকিবাজির শিকার হলেন, তেমনই জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার কার্ডের ৬ মাসের বরাদ্দকৃত চাল ওঠাতে গিয়েও চালবাজির শিকার হয়েছেন।

যুগান্তরে ১৭ জুন ঈশ্বরগঞ্জে ভিজিডি কর্মসূচিতে অনিয়ম ‘কার্ড নিলে লাগবে টাকা’-এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে যুগান্তর প্রতিনিধির সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও চমকপ্রদ তথ্য বেড়িয়ে আসে।

হতদরিদ্র অসহায় পরিবারে জন্ম জাটিয়া ইউনিয়নের মাকরঝাপ গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে পারভীনের (৩৫)। ১৫ বছর আগে একই ইউপির মাকরঝাপ গ্রামের আব্দুছ সালামের ছেলে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে বিয়ে হয়। তার ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়েপাগল স্বামী ইতোমধ্যে তিনটি বিয়ে করেন। আট বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই পারভীনের। তিনি জানান, তার স্বামী প্রবাসে রয়েছেন। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তার দুই মেয়েকে নিয়ে হতদরিদ্র বাবার সংসারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পারভীন জানান, সাত-আট মাস আগে ভিজিডি কার্ডের চালের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। দীর্ঘদিন তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে তার নামে ভিজিডি কার্ড হয়েছে কি না তা জানতে পারেননি। বুধবার পারভিনের মুখোমুখি হলে যুগান্তর প্রতিনিধির কাছ থেকে জানতে পাড়েন ৬ মাস আগে তার নামে ভিজিডি কার্ড ইস্যু হয়েছে এবং প্রতিমাসে ৩০ কেজি চালও বরাদ্দ রয়েছে।

যুগান্তরের সংবাদ প্রকাশের পূর্বপর্যন্ত তিনি জানতে পারেননি এ তথ্য। ওইদিন বিকালেই পারভীন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জানতে চান তার নামে কার্ড হয়েছে কি না। পরে পারভীন যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি জানালে চেয়ারম্যান ইউপি সচিবকে বলেন তার নামে কার্ড ইস্যু করা থাকলে চাল দিয়ে দেন। সচিব চেয়ারম্যানের নির্দেশমতো একসঙ্গে ৩০ কেজির ৫টি বস্তা দিয়ে দেন। কিন্তু পারভীনের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় ৬ বস্তা চালের। এ সময় পারভীন এর কারণ জানতে চাইলে চাল বিতরণকারীরা তাকে জানান, এতদিন ইউনিয়ন পরিষদের পাকা ফ্লোরে বস্তা পড়ে থাকায় ‘এক বস্তা তো পোকাই খেয়ে ফেলেছে’। পারভীন চাল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যুগান্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুঃখ একটাই-দস্তখত দিলাম ৬ বস্তা চালের আর চাল পেলাম ৫ বস্তা।’

এমন ঘটনা শুধু পারভীনের ক্ষেত্রেই নয়, অনেককেই মেম্বারের কাছ থেকে কার্ড নিতে ভেলকিবাজির শিকার হতে হয়েছে। এর মধ্যে কাহেদ গ্রামের কুলছুম, নাছিমা আক্তার কুমারুলী গ্রামের মেরিনা, হাসনারা খাতুন, আক্তারা খাতুনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ইউপি সচিব হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। এ সম্পর্কে চেয়ারম্যান শামছুল হক ঝন্টুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন এক বস্তা চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাকে ৫ বস্তাই দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন