চিকিৎসাসেবা ‘তালাবদ্ধ’
jugantor
টাঙ্গাইল কোটালীপাড়া ভেদরগঞ্জ গোয়ালন্দ নাগরপুর ও ঘাটাইল
চিকিৎসাসেবা ‘তালাবদ্ধ’
এক্স-রে, আল্ট্রসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বন্ধ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। হাসপাতালে আধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকলেও তা কক্ষে তালাবদ্ধ কিংবা বাক্সবন্দি করে রাখা হয়েছে। আল্ট্রসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষাও বন্ধ রয়েছে। এতে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। যুগান্তর প্রতিনিধি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে এইচএম মেহেদী হাসানাত, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে শামীম শেখ, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে শাকিল আহম্মেদ, টাঙ্গাইল থেকে জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে আক্তারুজ্জামান বকুল ও ঘাটাইল থেকে খান ফজলুর রহমানের পাঠানো খবর-

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৮ সালের জুনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫০০ এমএ আধুনিক এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তিন বছরেও মেশিনটি ইনস্টল করে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেডিওগ্রাফার দিলীপ বাড়ৈ। অযত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার এই যন্ত্রটি।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আড়াই বছর ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল। মেরামতের চেষ্টা করেও সচল করা যায়নি। ফলে গত জানুয়ারিতে সরকারিভাবে নতুন আরেকটি এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়। সেটিও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) : ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাড়ে সাত লাখ টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিনটি ২০০২ সালে স্থাপন করা হলেও সেটি পরিচালনায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে মূল্যবান যন্ত্রটি। একই কারণে ২০১৪ সালে স্থাপন করা সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও পড়ে আছে। একই হাল ইসিজি, অ্যানেস্থেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, এনালাইজার, রেফ্রিজারেটর, জিন এক্সপার্ট মেশিনেও। জনবল সংকটের কারণে এসবের কোনোটিই ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কবির হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেঙ্গল সাইন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানো হয়। প্রায় ছয় মাসের মতো এই মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা হলেও তারপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মেশিনটির পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও কোম্পানি তার চুক্তি অনুযায়ী মেরামত করে দেয়নি।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। নেই কোনো টেকনিশিয়ানও। মান্ধাত্মা আমলের (এনালগ) এক্স-রে মেশিন থাকলেও আট মাস ধরে অকেজো।

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে কক্ষটির উদ্বোধন করা হয় চলতি বছর ২০ মার্চ। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় মেশিনটি কোনো কাজে আসছে না। ডিজিটাল এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ।

টাঙ্গাইল কোটালীপাড়া ভেদরগঞ্জ গোয়ালন্দ নাগরপুর ও ঘাটাইল

চিকিৎসাসেবা ‘তালাবদ্ধ’

এক্স-রে, আল্ট্রসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বন্ধ
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। হাসপাতালে আধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকলেও তা কক্ষে তালাবদ্ধ কিংবা বাক্সবন্দি করে রাখা হয়েছে। আল্ট্রসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষাও বন্ধ রয়েছে। এতে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। যুগান্তর প্রতিনিধি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে এইচএম মেহেদী হাসানাত, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে শামীম শেখ, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে শাকিল আহম্মেদ, টাঙ্গাইল থেকে জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে আক্তারুজ্জামান বকুল ও ঘাটাইল থেকে খান ফজলুর রহমানের পাঠানো খবর-

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৮ সালের জুনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫০০ এমএ আধুনিক এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তিন বছরেও মেশিনটি ইনস্টল করে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেডিওগ্রাফার দিলীপ বাড়ৈ। অযত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার এই যন্ত্রটি।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আড়াই বছর ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল। মেরামতের চেষ্টা করেও সচল করা যায়নি। ফলে গত জানুয়ারিতে সরকারিভাবে নতুন আরেকটি এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়। সেটিও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) : ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাড়ে সাত লাখ টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিনটি ২০০২ সালে স্থাপন করা হলেও সেটি পরিচালনায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে মূল্যবান যন্ত্রটি। একই কারণে ২০১৪ সালে স্থাপন করা সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও পড়ে আছে। একই হাল ইসিজি, অ্যানেস্থেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, এনালাইজার, রেফ্রিজারেটর, জিন এক্সপার্ট মেশিনেও। জনবল সংকটের কারণে এসবের কোনোটিই ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কবির হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেঙ্গল সাইন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানো হয়। প্রায় ছয় মাসের মতো এই মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা হলেও তারপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মেশিনটির পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও কোম্পানি তার চুক্তি অনুযায়ী মেরামত করে দেয়নি।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। নেই কোনো টেকনিশিয়ানও। মান্ধাত্মা আমলের (এনালগ) এক্স-রে মেশিন থাকলেও আট মাস ধরে অকেজো।

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে কক্ষটির উদ্বোধন করা হয় চলতি বছর ২০ মার্চ। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় মেশিনটি কোনো কাজে আসছে না। ডিজিটাল এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বেহাল স্বাস্থ্যসেবা