বেলপুকুরে মাদকের রমরমা ব্যবসা

  পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর থানার দশটি স্থানে দুই শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন ব্যবসা করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছের লোক। এ কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ করলে বিভিন্নভাবে হয়বানির শিকার হতে হয়।

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা চারঘাট বাঘা ও গোদাগাড়ী। প্রতিদিন পুঠিয়া বেলপুকুর থানার দু’টির মাঝ দিয়ে কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য সারা দেশে পাচার হচ্ছে। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এরা ধরা পড়ছে। মামলা হচ্ছে। কিন্তু মাদক বিক্রি পাচার বন্ধ হচ্ছে না। শুধু মাদক পাচার করে বেলপুকুর থানা এলাকার অনেক মানুষ ধনীও হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ছেলে পুরো মাদক ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। বেলপুকুর রেলগেটের পাশে ন্যাংড়া লালনের নেতৃত্বে হেরোইনপাড়া গড়ে উঠেছে। বেলপুকুর বিদ্যালয়টি ছুটি হলেই স্কুলের ভেতর ইয়াবা হেরোইন ফেনসিডিলের ব্যবসা ও সেবন শুরু হয়। আমতলী ডিসি মোড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আফজাল নামে এক মাদক বিক্রেতা বিভিন্ন রকম মাদক বিক্রি করছে। জামিরা পূর্বপাড়ার পাইকারি বিক্রেতা শাহারুল, গাজীবুল। আগলায় মাসুদের হোটেলের পেছনে লিটনের ইয়াবা ব্যবসা। জামিরার বিভিন্ন স্থানে নুরুজ্জামান কালু, শহিদুল, মেরাজ, দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা করে আসছে। মধ্য জামিরায় রফিকুল, তার ছেলে তরিকুল, ফুলঝরি ও ভেদো অনেক দিন ধরে ইয়াবার পাইকারি ব্যবসায়ী। বেলপুকুর থানা এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত মাদক বিক্রেতা ব্যবসা করার জন্য অবস্থান করে থাকে। এ এলাকায় মাদকসেবীরা আসে মোটরসাইকেলে কিংবা পাইভেট গাড়িতে করে। কেউ সেবন করে আবার কেউ নিয়ে যায়। বেলপুকুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাদক বিক্রিতারা সবাই রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা করছে। যারা তাদের আওতার বাইরে ব্যবসা করতে যাবে তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হবে। বেলপুকুর, জামিরাসহ কয়েকটি গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই বিভিন্নভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এলাকার কেউ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি কিংবা চাপ সৃষ্টি করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ যদি ইচ্ছে করে দু-এক দিনের মধ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু কিছু পুলিশের জন্য তা হচ্ছে না। পুঠিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমনুজ্জামান সুমন বলেন, বেলপুকুর এলাকার কোনো রাজনৈতিক নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত নেই। এ এলাকা থেকে মাদক দূর করার জন্য আমরা তৎপর আছি। কোনো মাদক বিক্রেতা থানায় আটক হলে তার জন্য আমরা সুপারিশ পর্যন্ত করি না। মাদকের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই। পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বেলপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বদি বলেন, আগের তুলনায় মাদক বিক্রি অনেক কমে গেছে। বর্তমানে দু-একজন খুব গোপনে বিক্রি করতে পারে। থানার লোকজন প্রায় প্রতিদিন ধরপাকড় করছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter