কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

  সাইফুল ইসলাম, সিংড়া ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শস্যভাণ্ডার খ্যাত সিংড়ার চলনবিলের বাঁশবাড়িয়া ও সোনাপাতিল খালটি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। টানা কয়েক দিনের ভারি বষর্ণে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এই খাল ফুঁসে উঠে উপজেলার ইটালী ও ডাহিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের ফসলি মাঠ নিমজ্জিত হয়ে এই অঞ্চলের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও নাগর নদীর পানি নতুন করে আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় সারদানগর বাঁধ প্লাবিত হয়ে সাদরানগর, জয়নগর, হুলহুলিয়া ও ছাতারদীঘি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে পচছে। শ্রমিক সংকটে বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে চলনবিলের কৃষকরা। এদিকে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নাটোর কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম ও সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারদানগর বাঁধ দিয়ে চলনবিলে প্রবেশ করে উপজেলার চৌগ্রাম, ছাতারদীঘি ও তাজপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ফসলি মাঠ নিমজ্জিত হয়েছে। এ ছাড়াও সিংড়ার চলনবিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য পানাসি প্রকল্পের খনন করা বাঁশবাড়িয়া ও সোনাপাতিল খাল উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ফুঁসে উঠে ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বেড়াবাড়ি, কাউয়াটিকরী, বিলদহর, তাজপুর, হিজলী, বাঁশবাড়িয়াসহ আরও কয়েকটি গ্রামের বোরো ও ভুট্টার আধাপাকা ক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

চলনবিলের ডাহিয়া গ্রামের আবু হানিফ, ইমান আলীসহ অনেকেই বলেন, উজানের বর্ষণ ও ঢলের পানিতে বাঁশবাড়িয়া ও সোনাপাতিল খাল ফুঁসে উঠে চলনবিলের বোরো ধান ও ভুট্টা ডুবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত। হরদমার বড় নদী নামক এলাকায় এই খালের পানি নামার মুখে খনন না করায় এই খালটি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, গত বছর ১ মে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে এই খাল বড় নদী পর্যন্ত খনন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও চলনবিলের কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে পচছে।

সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, অসময়ে অতিবর্ষণে ও উজানের ঢলের পানিতে চলনবিলের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। এটা একটি প্রাকৃতি দুর্যোগ। আমরা সতর্ক রয়েছি। আর এ বিষয়ে আগামী রোববার আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ জেলা ও উপজেলার সব কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ শারমিন সুলতানা বলেন, অত্র উপজেলাতে ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও অতি বর্ষণে উপজেলার ১০ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ ও ৫০ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ডাহিয়া ইউনিয়নের দুটি খালে বৃষ্টির পানি ফুঁসে উঠে চলনবিলের কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর জমির ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই আমরা ধান কেটে নিতে কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছি।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter