পাহাড়ে সূর্যমুখীর হাসি

  খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য এলাকায় তামাক কোম্পানি আগ্রাসনের কারণে দিন দিন কমছিল খাদ্যশস্য উৎপাদন। এক সময় পার্বত্য এলাকায় খাদ্য উৎপাদনে প্রাচুর্যতা থাকলেও বর্তমানে খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। কৃষক মুনাফার আশায় তামাক চাষে আগ্রহী ছিলেন। তবে কৃষি অফিসসহ সরকারের প্রণোদনা ও প্রচারণার কারণে সচেতন কৃষক তামাক চাষে বিমুখ হচ্ছেন। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে বেড়েছে ইক্ষু, তুলাসহ নানা অর্থকরী ফসলের চাষাবাদ। এমনকি এসব অর্থকরী ফসল উৎপাদনে রয়েছে পৃথক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে অনেক কৃষক তামাকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তেমনই তামাক চাষীদের নতুন ফসল উৎপাদন উৎসাহিত করতেই নিজেই বিকল্প শস্য আবাদে মন দেন কৃষক আবদুল খালেক। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জামতলী এলাকায় নিজের বসতবাড়ির জমিতে গড়ে তোলেন সূর্যমুখীর বাগান। প্রায় ১৪ শতক জায়গাজুড়ে সূর্যমুখী বাগান। সরেজমিন দেখা যায়, ‘বাড়ির পাশেই পতিত জমিতে সূর্যমুখীর বাগান পরিচর্যা করছেন কৃষক আবদুল খালেক। বাগানজুড়ে হলুদ সূর্যমুখীর হাসি। প্রতিটি গাছেই ফুল এসেছে। পুরো বাগানটি এখন হলুদ-সবুজের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে।

কৃষক আবদুল খালেক জানান, ‘বরগুনা থেকে ৪০০ টাকায় ২৫০ গ্রাম সূর্যমুখী বীজ নিয়ে আসি। আমার বাগানের বয়স প্রায় দু’মাস ২৮ দিন। অল্প বীজ রোপণ করে ব্যাপক ফুল পেয়েছি। ফুলের দানাগুলো পরিপক্ব হলেই গাছগুলো শুকিয়ে যাবে। এরপর দানা সংগ্রহ করে তা ঘানিতে ভাঙিয়ে তেল পাওয়া যাবে।’ তিনি জানান, ‘পারিবারিক কাজে বরিশাল গিয়ে সূর্যমুখীর বাগান দেখেছি। সেই থেকে সূর্যমুখী বাগান করার পরিকল্পনা ছিল। এর আগে এই জমিটি পতিত ছিল। এক বছর আলু চাষ করে লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, এই বাগান থেকে আমার পরিবারের ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ করেও বাড়তি তেল বিক্রি করা যাবে। এটি তামাকের চেয়ে অনেক লাভবান শস্য। কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, সবুজ অরণ্যের উঁচু-নিচু ভূমির দেশ খাগড়াছড়ি। জেলার ভূ-প্রাকৃতিক গঠনে রয়েছে ভিন্নতা। পাহাড়ের আদি জুম চাষই এখানকার কৃষির মূল ভিত্তি। পাহাড়ের পাশাপাশি এখানকার পতিত সমতল ভূমি কিংবা নদী তীরবর্তী উপত্যকার জমিতে চাষাবাদ হয়।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter