বড়াইগ্রামে গৃহবধূকে পরকীয়ার অপবাদ

তালাকে বাধ্য করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

  যুগান্তর রিপোর্ট, নাটোর ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বড়াইগ্রামের জোয়াড়ী ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে গ্রাম্য সালিশে প্রধানদের হুমকির মুখে খোলা তালাক কার্যকর করা গৃহবধূ রুনা খাতুন এখন স্বামী-সংসার ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ ঘটনায় পুলিশ গ্রাম প্রধানদের ধরে থানায় নিয়ে এলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে স্বামী-সংসার ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাসে প্রধানদের ছাড়িয়ে নিতে সহযোগিতা করেন গৃহবধূ রুনা খাতুন কিন্তু থানা থেকে ছাড়া পেয়ে গ্রাম প্রধান ও চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তাদের প্রতিশ্রুতি তো রাখছেনই না, উল্টো স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল ওহাবসহ কযেকজন প্রধান সমস্যা মিটিয়ে দিতে রুনার পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করছেন। এ বিষয় নিয়ে কোথাও গেলে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াসহ নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন ওই গ্রাম প্রধানরা। এদিকে এসব বিষয়ে ১ মে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। নাটোর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই গৃহবধূ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে রুনা খাতুন ছাড়াও তার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে রুনা জানান, ২৪ মার্চ প্রতিবেশী কলেজছাত্র আলমগীরের সঙ্গে রুনার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে গ্রাম প্রধানরা সালিশ বসান। স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আবদুল ওহাব ও আবদুল গফুর, গ্রাম প্রধান ইউনুস আলী, চাঁদ মিয়া, আবু সাঈদসহ গ্রাম্য প্রধানরা দ্বিতীয় দফা সালিশ বসিয়ে রুনার বাবা দরিদ্র ভ্যানচালক আবদুর রহমানকে একা ডেকে নিয়ে যান। শালিসে এক তরফাভাবে রুনাকে দায়ী করা হয়। পরে কাজী ডেকে এনে হুমকির মুখে স্বামী আলমের সঙ্গে রুনার খোলা তালাকে বাধ্য করেন। একই সঙ্গে কলেজছাত্র আলমগীরের সঙ্গে আগামী সাতদিনের মধ্যে বিয়ে দেয়া হবে মর্মে আলমগীরের বাবা আবদুল আজিজকে দিয়ে জোরপূর্বক লিখিত আদায় করে নেন। তাদের বিয়ের কাবিননামায় এক লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য থাকলেও সালিশে রুনাকে ৭০ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রুনার স্বামী আলম সে টাকা পরিশোধ করলেও সেই টাকা রুনাকে নাা দিয়ে গ্রাম প্রধানরা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে রুনা জানান। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ৩০ মার্চ বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ গ্রামে গিয়ে গ্রাম প্রধানদের ধরে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় খবর পেয়ে রুনা ও তার বাবা থানায় মামলা করতে গেলে আলমের সঙ্গে পুনরায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে দেয়াসহ সংসার ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান চাঁদ মাহমুদসহ গ্রাম প্রধানরা তাদের অনুরোধ করে মামলা করা থেকে বিরত রাখেন কিন্তু ঘটনার পর থানা থেকে ছাড়া পেয়ে গত ২৫ দিনেও তারা রুনার কাছে দেয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেননি। উল্টো তারাই রুনার সাবেক স্বামীকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে রুনা অভিযোগ করেছেন এমনকি স্বামী ও সংসার ফিরে পাওয়ার দাবি করায় এর মধ্যেই গ্রাম প্রধানরা তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে একাধিকবার অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান চাঁদ মাহমুদ জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকেই রুনাকে তার সাবেক স্বামীর কাছেন ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু স্বামী রাজি হচ্ছেন না। বড়াইগ্রাম থানার ওসি শাহরিয়ার খান জানান, ঘটনার পর পর রুনা খাতুনের পক্ষ থেকে থানা মামলা হলে অভিযুক্তদের ধরে থানায় আনলে রুনা তাদের বিরুদ্ধের মামলা না করে ছাড়িয়ে নিতে

সাহায্য করায় তার পক্ষে আর কিছু করার নেই।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.