গোয়ালন্দে টেন্ডার ছাড়াই ব্রিজ বিক্রি!

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল হোসেন টেন্ডার ছাড়াই একটি সরকারি পুরনো ব্রিজ বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আনোয়ার হোসেন নামক ব্যক্তি ৪০ হাজার টাকায় ব্রিজটি কিনেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। ক্রেতা আনোয়ার হোসেন কয়েক দিন ধরে ভেকু দিয়ে রাস্তার মাটি কেটে ওই ব্রিজের ইট ও রড খুলে নেয়ায় রাস্তার মাঝে বিশাল গর্ত তৈরি হয়। এতে জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে উজানচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম উজানচর নবু ওসিমদ্দিন পাড়া মোকবুলের দোকান এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে শোমসেরপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন ওই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। গোয়ালন্দ উপজেলার এলজিইডি বিভাগ সরকারি অর্থায়নে ব্রিজটি নির্মাণ করে। ওই ব্রিজটি দিয়ে এলাকার মাঠের পানি বের হওয়াসহ মানুষ যাতায়াত করে আসছিল। বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে ব্রিজ সংলগ্ন মসজিদটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়লে এবং মাঠের পানি বের হওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী ব্রিজটির মুখ ভরাট করে দেয়। স্থানীয় শাজাহান শেখ, ওয়ালিউল ইসলাম, দোয়াত শেখ, হারেজ শেখ, আক্কাছ হোসেন, খবির শেখসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবুল কাউকে কোনো কিছু না জানিয়ে আনোয়ারের কাছে ব্রিজটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। সরকারি টাকায় নির্মিত ব্রিজ টেন্ডার ছাড়া উনি কীভাবে বিক্রি করলেন আমরা তা বুঝতে পারছি না। তাছাড়া ব্রিজটি ভেঙে ফেলাতে সেখান দিয়ে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজনের চলাচলে খুবই সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্রিজটি কেনার বিষয়টি স্বীকার করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ৪০ হাজার টাকায় নয়, আবুলকে আমি ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। তবে এলাকাবাসী পুরোটা ভাংতে না পারায় মেম্বার আমাকে ১ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল হোসেন দাবি করে জানান, ওই রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে মেরামত করা হবে। তাছাড়া সেখানে আর ব্রিজটির কোনো প্রয়োজন না থাকায় মাটি ফেলানোর সুবিধার্থে ব্রিজটির উপরের অংশ আমি লোক দিয়ে ভেঙে ফেলেছি। কারও কাছে বিক্রি করিনি। তবে ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি আমি অবগত করেছি বলে তিনি দাবি করেন। উজানচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকীর জানান, ব্রিজটির ব্যাপারে আবুল বা অন্য কেউ আমাকে কিছুই জানাননি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.