মাদারগঞ্জে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য

  মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবাধে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোচিং ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে শিক্ষকরা নিয়মিত তাদের বিদ্যালয়ের উপস্থিত হন না। জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌর এলাকার সানশাইন একাডেমির পাঁচটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চার বছর ধরে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে আসছে উপজেলার পশ্চিম তারতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহিদুল ইসলাম, চরপাকেরদহ সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, নব্যচর সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, চরনাদাগাড়ী সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও গাবেরগ্রাম সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষর শাহনেওয়াজ আহম্মেদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্র অভিভাবকদের অভিযোগ, বর্তমানে উপজেলার সব সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার চালানো থেকে বিরত আছেন। কিন্তু শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ওই পাঁচ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অবাধে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। তারা কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকের সময়িক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্রও ফাঁস করে দিচ্ছেন। সরেজমিন সানশাইন একাডেমিতে গিয়ে পাঁচটি কক্ষে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে কোচিং ক্লাস করাতে দেখা যায়। সানশাইন একাডেমির শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রাইমারির কোচিংয়ের কারণে স্কুলে এসেও তারা ক্লাসরুমে ঢুকতে পারে না। কোচিং শেষে হুড়োহুড়ি করে ক্লাসে ঢুকে তারা অনেক সময় আগে উপস্থিত হয়েও পেছনের বেঞ্চে বসতে বাধ্য হয়। নিষিদ্ধ হলেও সরকারি শিক্ষক হয়ে কীভাবে কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন জানতে চাইলে পশ্চিম তারতাপাড়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহিদুল ইসলাম প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের কোচিং সেন্টারের বিষয়ে স্যারেরা (শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা) জানেন। সাড়ে ৮টায় কোচিং ক্লাস শেষে ৪ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে সময়মতো কিভাবে পৌঁছানো সম্ভব এমন প্রশ্নে শিক্ষকরা জানান, তারা মোটরসাইকেলে সকাল ৯টার মধ্যেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। সানশাইন একাডেমির প্রিন্সিপাল গোলাম মোহাম্মদ জানান, শুভেচ্ছা কোচিং-এর শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে যাতে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় সেজন্যই কয়েকটি কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে। মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার খোরশেদ আলম সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাণিজ্যিকভাবে কোনো কোচিং সেন্টার চালাতে পারেন না জানিয়ে বলেন, ওই পাঁচ শিক্ষকের কোচিং সেন্টার চালোনোর বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.