বাসে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি

  সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, বাহুবল ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে নারী শিক্ষার্থীরা। সেদিকে নজর নেই প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। অথচ সেই গণপরিবহনে যাথায়াত করছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের লোকজনও। এ ধরনের একটি যৌন হয়রানির ভিডিও এখন ভাইরাল।

সম্প্রতি গণপরিবহনে নারী শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির শিকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায়, বাসের হেলপার নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাতে দিয়ে বাসে উঠাচ্ছে। অনেকে হাত ধরে টেনে টেনে তাদের বাসে উঠাচ্ছে। এ বিষয়ে মুখ খুললেই নির্যাতন চলে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর। তারা নারী শিক্ষার্থীদের গাড়িতে উঠায় না।

নির্দিষ্ট স্থানে বাস দাঁড়ানোর কথা থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের দেখলে চালক ওই স্থানে গাড়ি দাঁড় করে না। বাস চালক জানায়, ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ে আমরা অন্য যাত্রী নিতে পারি না। তাও আবার তারা ভাড়া দেয় হাফ। জানা যায়, বাহুবল উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র মিরপুর বাজার। সেখানে একটি সরকারি অনার্স কলেজসহ দুটি কলেজ রয়েছে। রয়েছে দুটি উচ্চবিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা। রয়েছে উপজেলার নামিদামি তিনটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবক’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই দূর-দূরান্ত থেকে বাসে আসা-যাওয়া করে। আর সবক’টি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম শুরু করে সকাল ১০টা থেকে। শেষ হয় বিকাল ৪টায়।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়ে বাসে দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে আসতে হয় বিদ্যালয়ে। বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার মিরপুর বাজারের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে ছুটি হলে শুরু হয় বাসের প্রতিযোগিতা। হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির কয়েকটি বাস চালু রয়েছে। হবিগঞ্জ টু শ্রীমঙ্গল। আরেকটি রয়েছে হবিগঞ্জ টু পানিউমদা।

প্রতিটি লোকাল বাস আধাঘণ্টা পরপর হবিগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসে। বিকাল ৪টায় যখন বাস মিরপুর বাজারে এসে পৌঁছে তখন শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বাসে ওঠার প্রতিযোগিতা। এ সময় বাসের হেলপার বাসের গেটে দাঁড়িয়ে থেকে তার স্বাভাবিক যাত্রী তোলে আগে। পরে কিছু নারী শিক্ষার্থীকে উঠানো হয়। এ সময় তাদের শরীরে হাত দেয় বাসের হেলপার ও কন্ট্রাকটর।

মিরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী তামান্না আক্তার বলে, আমার বাড়ি নতুন বাজার এলাকায়। আমাকে বাসে করেই আসতে হয়। বাসে হাফ ভাড়া দিই বলে তারা আমাদের বাসে উঠায় না।

আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী শম্পা দাস বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি আলাদা বাসের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমরা যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে পারতাম। তিনি দাবি করে বলেন, মিরপুর এলাকায় অবস্থিত সবক’টি বিদ্যালয়ে পৃথক বাসের ব্যবস্থা করা হোক।

মিরপুর ফয়জুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী স্বপ্ন সাওতাল বলেন, আমি মুছাই এলাকার একটি চা বাগান থেকে আসি, বাস আমাদের দেখলে দাঁড় করায় না। মিরপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী হনুফা আক্তারের বাবা আলমাছ মিয়া বলেন, হবিগঞ্জ বাস মালিকদের যন্ত্রণায় অন্য কোনো বাস বাজারে দাঁড়ায় না। তাদের কিছু পেটুয়া বাহিনী নিযুক্ত রয়েছে। আমাদের মেয়েদের বাসে উঠায় না। উঠালেও তাদের গায়ে হাত দেয় বাসের স্টাফরা। মিরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবদুর রব বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এ অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে একটি ব্যবস্থা নেব। মিরপুর ফয়জুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ, খোলার পরে ম্যানেজিং কমিটিকে নিয়ে বসে আলোচনা করব।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, যৌন হয়রানির বিষয়টি আমার জানা নেই এবং কোনো অভিযোগও পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.