সীমান্তে মাদক ব্যবসা রমরমা

  মো. শফিকুল ইসলাম ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এখন সক্রিয় তিন শতাধিকের উপরে মাদক ব্যবসায়ী। প্রতি দিন কোটি কোটি টাকার মাদক পাচার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগসাজশে ব্যবসা। বিজয়নগরে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী তালিকায় রয়েছে স্থানীয় রাজ নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীসহ পুলিশের সদস্য। মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আর মাদক উদ্ধারে পুলিশে ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও পুলিশ বলছে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।

বিজয়নগরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী। ইউনিয়নে হরষপুরে শিয়াললড়ি, ধর্মঘর পাহাড়পুর ইউনিয়নে সেজামুড়া, চাঁনপুর, কামালমুড়া, তোফায়েল নগর, মনিপুর, দুরানল ও বামুটিয়া। সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে নলঘুড়িয়া, কাশিনগর ও নোয়াবাদী। আর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কালাছড়া ও রুপা এলাকা দিয়ে প্রতিদিন মাদক প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে প্রতিদিন তিন বেলা মাদক প্রবেশ করে। বিশেষ করে বিএসএফ টহল দল পরিবর্তনের সময় স্থানীয় সীমান্তে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে সকাল ৬টা, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৬টায় মাদক প্রবেশ করে। এ ছাড়া ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে রয়েছে আরও দুই ইউনিয়ন পত্তন ও চান্দুরা।

জাতীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায় বিজয়নগরে এখনও তিন শতাধিকের উপরে মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে সীমান্তবর্তী সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী তালিকায় রয়েছেন কবির হোসেন, আলমগীর মিয়া, বিল্লাল মিয়া, সেলিম, জিতু, পরান, ওয়াসিম, জসিম, আলামিন, মাতু, পাগলা বাচ্চু, ইকবাল আজাদ শাহজাহান, পিচ্ছি জামাল ও মিষ্টি। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে হানিফ মেম্বার, কাজল, জালাল, মানটু, বাবু, তুহিদ, লিটন ও মোজাম্মেল। পাহাড়পুরে কালু, নাছির উদ্দিন, রাসেল মিয়া, শামিম, রহিম, নিজাম, আবদুল হক, মনি, দুলাল, আলমগীর, দেলোয়ার হোসেন গিরু, জাহাঙ্গীর ও লিটার নাম রয়েছে এবং হরষপুর ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম ও জজ মিয়া। চান্দুরা ইউপিতে ফজলুর রহমান বজলু মিয়া, আকতার হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, শাহ আলম-১, মাসুক, শাহ আলম-২ ও মোবারক, তোফাজ্জল, শফিকুল, মোবারক হোসেন ও শামসুন্নাহার। পত্তন ইউপিতে ইকবাল, আকতার, আলেয়া বেগম, আমিন ভুইয়া, ইসহাক ভুইয়া, মুবল্লাহ, রোমা, সামছু ও নাহিদ। বিজয়নগরে মাদক ব্যবসা সিন্ডিকেটে রয়েছে এক ডজন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। তাদের উল্লেখযোগ্য উপজেলা যুব লীগের সম্পাদক রাসেল মিয়া, তবে উপজেলা যুবলীগের সম্পাদক রাসেল মিয়া জানান, এ ব্যাপারে প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি থেকে চিরদিনের জন্য অব্যাহতি নেব। বিজয়নগরে মাদক ব্যবসায় পুলিশের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে কিংবা সপ্তাহে পুলিশকে মাসোহায়া দিয়ে চলছে এই মাদক ব্যবসা। জেলা পুলিশে শীর্ষ এক-দু’জন কর্মকর্তা ছাড়া বিজয়নগর থানার বাকি সবাই এই মাসোহায়া নিয়মিত নিয়ে থাকেন। যাদের বিরুদ্ধে মাসোহায়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তারা হলেন বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আর্শাদ, এসআই তোফায়েল, এএসআই ফারুক। তবে বিজয়নগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আর্শাদ যুগান্তরকে জানান, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করছি। তিনি তাদের বিরুদ্ধে আনীত মাসোয়ারা গ্রহণের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান যুগান্তরকে জানান, আমি নতুন এই জেলায় যোগদান করেছি। এ বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি আমার কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter