খুলনা সিটি নির্বাচন

সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন চান ওয়ার্ডবাসী

  খুলনা ব্যুরো ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের পুরাতন গল্লামারী রোড, আরামবাগ সড়ক শশীভুষণ রোড, কাদের খান রোড, হাজী ইসমাইল রোডসহ ওয়ার্ডের প্রধান প্রধান সড়ক চলাচলের উপযোগী থাকলেও শাখা রাস্তাগুলোর অবস্থা বেহাল। অপরদিকে ২৬নং ওয়ার্ডে নগরীর শেরেবাংলা রোড থেকে শুরু করে গল্লামারী লায়ন্স স্কুলের পেছন পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নজিরই চোখে পড়ে না। ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশা বেহাল সড়কের ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। সে ক্ষেত্রে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে চান ভোটাররা। এই দুটি ওয়ার্ড থেকে ৮ জন প্রার্থী আগামী ১৫ মে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

২৫নং ওয়ার্ড : ওয়ার্ডটিতে ২০০৮ ও ২০১৩ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা দ্বিতীয়বার কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন নগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আলী আকবর টিপু। বর্তমান ভোটার রয়েছেন ১৬ হাজার ৫৪৬ জন। কাউন্সিলর হিসেবে টিপুর সব থেকে বড় অর্জন কমিউনিটি সেন্টার কাম কাউন্সিলরের কার্যালয় নির্মাণ, যা কেসিসির সব থেকে আধুনিক কাউন্সিলরের কার্যালয়। তবে ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে তিনি তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে মনে করেন অনেক ভোটার। এর কারণ হিসেবে তিনি বিএনপির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে দায়ী করেন। তবে আগামীতে নির্বাচিত হলে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করবেন। এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নতুন প্রার্থী হলেন আনিসুর রহমান আরজু। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ইমরান হোসেন মিয়া। ওয়ার্ডবাসীরা জানান, সড়কের নাজুক অবস্থার পাশাপাশি মশার উপদ্রব, সড়কবাতির সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি চান ওয়ার্ডবাসী। বিএনপির প্রার্থী আনিসুর রহমান বলেন, ওয়ার্ডের অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে কাউন্সিলর এগুলোর সমাধান করতে পারেননি। তিনি নির্বাচিত হলে সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক, জলাবদ্ধতা দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান।

২৬নং ওয়ার্ড : ওয়ার্ডে কোনো খেলার মাঠ নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট প্রকট। এ ওয়ার্ডের অনেক ভোটার বলেছেন, রাস্তাঘাটে রাতে লাইট জ্বলে না ঠিকমতো। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বলতে চাই না। আমরা চাই আমাদের নাগরিক সেবা। ওয়ার্ডটিতে জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার এবং ভোটার ১৫ হাজার ১৬৮ জন। ওয়ার্ডে ১০টি মসজিদ, ২১টি মাদ্রাসা, তিনটি মহিলা মাদ্রাসা, পাঁচটি প্রাইমারি স্কুল, দুটি হাইস্কুল রয়েছে। ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থান ঘুরে জানা গেছে, ওয়ার্ডে নাগরিক সেবার মান নিুগামী। বর্তমান কাউন্সিলরের এই মেয়াদের প্রায় সম্পূর্ণ সময়টাতে তিনি এলাকার বাইরে রয়েছেন। এলাকার জনগণের সঙ্গে কার্যত তার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ওয়ার্ড সচিবের মাধ্যমে নাগরিক সব সুবিধাই নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে কাউন্সিলর সূত্রে জানা গেছে। এলাকার শাখা রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যক্রম নেই সিটি কর্পোরেশনের। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র হিসেবে পুনরায় নির্বাচন করছেন ২০০২ সাল থেকে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা কাউন্সিলর মো. গোলাম মওলা শানু, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শেখ আবদুল আজিজ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এসএম মনিরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র রয়েছেন মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল ও আকবর পাঠান। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল আজিজ বলেন, ওয়ার্ডে নাগরিক সমস্যার অন্ত নেই। কাউন্সিলর এলাকায় থাকেন না, অভিভাবকহীন ওয়ার্ড। ফলে কোনো কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না। দলীয় সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে ওয়ার্ডে খেলার মাঠ দিয়ে যাব, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করব। সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করব। বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম মওলা শানু বলেন, অন্যায়ভাবে বিভিন্ন মামলায় আসামি করে এলাকাবাসী থেকে আমাকে আলাদা করে রেখেছে একটি মহল। আবার তারাই বলছে, আমি এলাকায় থাকি না। এলাকায় না থাকলেও সব নাগরিক সেবা আমি পৌঁছে দেই। আগামীতে নির্বাচিত হলে এ ওয়ার্ডে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করব।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.