সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই মেয়র প্রার্থীদের ইশতেহারে

খুলনা মহানগরীর সুয়ারেজ ব্যবস্থা

  আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার পর ৪৭ বছর পার হলেও খুলনায় এখনও পর্যন্ত পরিকল্পিত সুয়ারেজ (পয়ঃনিষ্কাশন) ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। এতে শহরের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দূষণের কবলে পড়ছে নগরীর আশপাশের জলাশয়। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে শিগগিরই পরিস্থিতি পরিবর্তনে মাস্টার প্লান হাতে নেয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো প্রার্থীই সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার বিষয় উল্লেখ করেননি।

খুলনা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। অথচ শহরে পরিকল্পিত সুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে ময়ূর নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন খালে। এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে মরে যাবে শহরের ভেতর বাইরের সব জলাশয়, যা বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে খুলনা নগরীকে। নগরীতে এখন গৃহস্থালি, শিল্প ও মানববর্জ্য নিষ্কাশন হয় উন্মুক্ত পরিবেশে। সেপটিক ট্যাংক থেকে পানি বাড়ির পাশের ছোট ড্রেন, সেখান থেকে বড় ড্রেন, এরপর খাল দিয়ে নদীতে চলে যায়। বাড়ির আশপাশ ও বড় ড্রেনগুলোর ৮০ ভাগই উন্মুক্ত। এজন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনার মানুষ। ২০০৮ সালের ৫ মার্চ খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) গঠন করা হলেও দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরে এখন পর্যন্ত কোনো সুয়ারেজ লাইন স্থাপন করতে পারেনি ওয়াসা। নগরবিদদের মতে, এই পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য যে কোনো মেগা প্রকল্পের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কিন্তু অর্থ বরাদ্দের অভাব দেখিয়ে খুলনায় সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের প্রকল্প হাতে নিতে পারেনি ওয়াসা ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, যা রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক। আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও সুয়ারেজ স্থাপন নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য আশারবাণী শোনাননি কোনো মেয়র প্রার্থীই। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক তার নির্বাচনী ইশতেহারের ৩নং দফায় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের বিষয়টি উল্লেখ করলেও সেখানে বলা হয়েছে- নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আরও উন্নতি ঘটানো হবে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার ইশতেহারের ১৩নং দফায় উল্লেখ করেছেন- মহানগরীর সড়ক উন্নয়ন ও বর্জ্য-বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন সিটি কর্পোরেশনের পরিপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধান করবেন।

খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, খুলনা মহানগরীতে পয়ঃনিষ্কাশন কার্যক্রম আধুনিক করতে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে এডিবির একটি দল খুলনায় আসে। আইপিই গ্লোবাল ও বিটস কনসালটিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ৪ মাস ধরে প্রাক-সম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনা করে। তারা একটি সুয়ারেজ মাস্টার প্লান তৈরি করে ওয়াসায় জমা দেন। ২০৩৫ সালে খুলনার জনসংখ্যা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এ মাস্টার প্লান বাস্তবায়নের জন্য ওয়াসা কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনটি ধাপে খুলনায় সুয়ারেজ লাইন বসানো হবে। প্রথমপর্যায়ে নগরীতে ৩২০ কিলোমিটার সুয়ারেজ লাইন বসানো হবে। এজন্য নগরীতে উন্মুক্ত কোনো বর্জ্যরে ড্রেন থাকবে না। তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসার নিয়মিত দায়িত্ব। প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter