ইটভাটার ধোঁয়ায় ধানের সর্বনাশ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভাটার আশপাশে পুড়ে গেছে শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান। এতে প্রায় অর্ধ কোটির টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। ঘটনাটি ঘটেছে চিরিরবন্দর উপজেলার কিসমত নশরতপুর মৌজার ৯নং ওয়ার্ড ঘণ্টাঘর বাজারের পশ্চিমে অবস্থিত এমএসবি নামক ইটভাটার আশপাশের এলাকায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দীপক, প্রভাষ, পোয়াতু, সন্তোষ, কার্ত্তিক চৌকিদার, কৃষ্ণ, মিনতি, নিমাই, বাবু, অমূল্য, ধীরেন, সুনিদ, অনিল, ডলি, অঞ্জলীসহ অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বোরো ধান এবং ভুট্টাক্ষেত পুড়ে গিয়ে নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর আমরা ভাটা মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যোগাযোগ করতে পারিনি। বর্গাচাষী ডলি রানী ও অঞ্জলী রানী আরও জানান, ২০১৬ সালে এ ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভাটার আশপাশের আড়াই শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান ও বিভিন্ন ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছিল। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করে সঠিক সমাধান পাইনি। এ বছরও ঘটনা ঘটল। ইটভাটার কারণে ভাটার সংলগ্ন জনসাধারণের ফলজ গাছেও সঠিকভাবে ফল ধরে না। বোরো ধান, ভুট্টা ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল যেমন আম, কাঁঠাল, লিচু, সুপারি, কলাসহ নানা ধরনের ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কিছু প্রভাবশালী দালাল বিষয়টি গত বছরের মতো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। ইটভাটাটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. খাদেমূল ইসলাম ও শামীম আহম্মেদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে নশরতপুর ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বার বার ভাটার কারণে সাধারণ কৃষকের ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। ভাটা বন্ধ হওয়া দরকার। এ বিষয়ে আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। ১৫ বিঘা জমি বোরো ধান বিনষ্ট হওয়া মো. রবিউল ইসলাম তালুকদার আক্ষেপ করে বলেন, সব ক্ষতিপূরণ আমি দেব, কিন্তু ভাটা তুলে দিতে হবে। এ ব্যাপারে ইটভাটা মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। চিরিরবন্দর পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফি জানান, উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিবছর একের পর এক ভাটার ছাড়পত্র প্রদান করছে। ইটভাটাটি স্থাপনে সরকারি কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। তিন ফসলি জমি ও জনবসতি সংলগ্ন এলাকায় ভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। এটা বন্ধ করা দরকার। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, কৃষকের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter