রাঙ্গামাটিতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

  রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙ্গামাটিতে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ঘুষ-বাণিজ্য, দলীয় ও আত্মীয়করণসহ স্বজনপ্রীতির ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে জানান নিয়োগবঞ্চিত সাধারণ প্রার্থীরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধীন বিদ্যমান শূন্যপদ পূরণে এ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সরকারের পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগ। বুধবার রাতে প্রকাশ করা চূড়ান্ত ফলের মধ্য দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পার্বত্য চুক্তির শর্তে ৩৩ বিভাগের এরই মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষাসহ ২৯ সরকারি দফতর ও বিভাগ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করেছে সরকার। অভিযোগ মতে, এসব বিভাগ ও দফতর সুষ্ঠু ও সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর কর্তব্য ন্যস্ত থাকলেও শুধু শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। কার্যক্রম কীভাবে চলছে তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই তাদের। এসব নিয়োগ নিয়ে ওঠে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। তাতে জড়ানো হয় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্যসহ ক্ষমতাসীন নেতাদের। এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জানা যায়, জেলার ১০ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদ পূরণে ১২০ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৫০ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা হয়েছে ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত করে চাকরি দেয়া হয়েছে চেয়ারম্যান, সদস্যসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বাছাই করা ১২০ জনকে।

অভিযোগের তথ্য মতে, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও বেশিরভাগ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। টাকার ভাগ পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও। প্রতি শিক্ষকের পদে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক প্রার্থী ও অভিভাবক। নিজেদের বাছাই করা লোকজনকে চাকরি দিতে আশ্রয় নেয়া হয় ব্যাপক অনিয়মের। পরীক্ষায় টেকাতে অবলম্বন করা হয় নানা কৌশল। এছাড়া কোনো উপজেলায় লোক বেশি থাকলে অন্য উপজেলা থেকে পদ কেটে নিয়ে তা পূরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে লংগদু উপজেলায় শূন্যপদ দেখানো হয়েছিল ২০। কিন্তু সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৮ জনকে। নিয়োগকৃত প্রায় শিক্ষক থেকে নেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের ঘুষ। সংশ্লিষ্ট উপজেলার দায়িত্বে থাকা জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানে আলমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন জানে আলম।

এদিকে সাধারণ প্রার্থী অনেকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও সাধারণ প্রার্থীদের কোনো মূল্যায়ন নেই। ফলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন অবনতির পথে। আর ডিগ্রিধারী উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের ইন্টারভিউ দিতে হয় জেলা পরিষদের অর্ধশিক্ষিত চেয়ারম্যান সদস্যের কাছে। চেয়ারম্যানসহ পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য অর্ধশিক্ষিত। যোগাযোগ করা হলে ঘুষ-বাণিজ্যসহ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, কারও বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের প্রমাণ করতে পারলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, পদ কম, প্রার্থী অনেক। যোগ্য হলেও কাকে ফেলে কাকে চাকরি দেব। চাকরি তো পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনছুর আলী বলেন, নিয়োগ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঘুষ, দলীয় ও স্বজনপ্রীতিতে জেলা পরিষদের কেউ জড়িত কিনা তা আমার জানা নেই। এসব অভিযোগ নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলবে, কিন্তু আমি কোনো অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter