মতলবে মুক্তিযোদ্ধা ছফিউল্লাহ হত্যার সঠিক তদন্ত দাবি

  চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ছফিউল্লাহ হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা ছফিউল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মামলা করায় আসামিরা এখন তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। অন্যদিকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত না করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য না নিয়েই প্রতিবেদন দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, লবাইরকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ছফিউল্লাহ গাজী ও তার ছোট ভাই রহমান গাজীর মধ্যে পূর্বে থেকেই সম্পত্তিগত বিরোধ ছিল। এরই সূত্র ধরে ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর ভোরে দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মধ্যে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে ছফিউল্লাহর ওপর হামলা করে তার ছোট ভাই রহমান গাজী ও তার ছেলে বাদল গাজী। এ সময় তাকে বাড়ির উঠোনে শ্বাসরোধসহ বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে গলাটিপে ধরে, তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় তার স্ত্রী লাভলি বেগম ও ছেলে সাগর। পরে তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে উঠানে পড়ে থাকা ছফিউল্লাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত

ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা সফিউল্লার স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে, মতলব উত্তর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ সময় পুলিশ রহমান গাজীকে গ্রেফতার করলেও পালিয়ে যায় তার ছেলে বাদল গাজী। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযোগপত্রে বাদল গাজীর বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য না পাওয়ার কথা বলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মুক্তিযোদ্ধা ছফিউল্লাহ হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছে বলে রিপোর্ট আসে। ফলে তারা পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন।

প্রতিবেশী ফারুক দেওয়ান জানান, এখানে যা ঘটেছে তা এলাকার সবাই জানে। মুক্তিযোদ্ধা ছফিউল্লাকে হত্যা করা হয়েছে। কিছুদিন আগেও প্রকাশ্যে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সাগরকে হত্যার হুমকি দিয়ে বাদল গাজী বলেছে, ‘তোর বাবাকে মেরে ফেলেছি, এখন বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকেও মেরে ফেলব’। অভিযুক্ত বাদল গাজী জানান, ঘটনার পর আমি পলাতক ছিলাম। আমার বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও পরে জামিনে রয়েছেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলেছে, তিনি হার্টএটাকে মারা গেছেন। তাই এ ঘটনা নিয়ে এখন কিছু বলব না। এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বাদী পক্ষের অনেক সুযোগ আছে। তারা এ তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করতে পারে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter