এক বৈশাখে দুই উৎসব!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে এক বৈশাখে দুই বৈশাখী উৎসবের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জেলায় যখন একের পর এক লাশ মিলছে তখন এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক চলছে জেলাজুড়ে।

এবার পহেলা বৈশাখে ব্যাপক আয়োজন করে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের ১৫ দিন পার না হতেই নতুন পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান যোগদানকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনে ফের আয়োজন করা হয় বৈশাখী উৎসবের। উৎসবে আগত অতিথিদের মনোরঞ্জনে ছিল গান-বাজনাসহ ব্যাপক আয়োজন। মধ্য রাত পর্যন্ত চলে এই গান-বাজনা। এতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল কবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এই অনুষ্ঠানের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে চলছে সমালোচনা। পর পর দুই অনুষ্ঠানের এত অর্থ জোগান হয় কিভাবে এমন প্রশ্ন সচেতনদের। তাছাড়া জেলায় যখন একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে তখন পুলিশের এমন আনন্দ উৎসব দায়িত্বপালনে উদাসীনতার বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মী আজিজুল সঞ্চয় তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন ‘নদীতে ভাসে লাশ, উজানে তাহাদের রঙ্গ তামাশা! ধিক।’

উল্লেখ্য, ২ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত জেলার সদর উপজেলা, আখাউড়া, কসবা, বিজয়নগর ও নাসিরনগর উপজেলা থেকে ১১টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া অনুষ্ঠানের দিন বৃহস্পতিবারও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়লেও টনক নড়ছে না পুলিশের।

জেলা নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান শাহীন বলেন, পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উদাসীন হয়ে পড়েছে। একটার পর একটা হত্যাকাণ্ডে জেলাবাসী উদ্বিগ্ন। এমন সময় পুলিশের গান-বাজনার আয়োজন জানান দেয় নৈতিকতার অবক্ষয়ের কথা। এ অবক্ষয় পুলিশেও বিস্তৃত হয়েছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী মুঠোফোনে যুগান্তরকে জানান, পুলিশের অনুষ্ঠানে বারবার টাকা দিতে তারা বিরক্ত। এক ব্যবসায়ী বলেন, জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ফোন করলে টাকা না দিয়ে কি রক্ষা পাওয়া যায়? তারা বলেন টাকা যথা সময়ে না দিতে পারলে তাদের অধিনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে বারবার ফোন করান এবং অফিসে এসে বসে থাকেন।

এদিকে জেলা পুলিশে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন এই অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করার দায়িত্বে থাকেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। তিনি অর্থ সংগ্রহসহ সব আয়োজনের কাজ করে থাকেন।

এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন মুঠোফোনে শুক্রবার সকালে যুগান্তরকে বলেন, এই রকম ২/১টি অনুষ্ঠান জেলা পুলিশ নিজেরা করতে পারে। তবে টাকার উৎস বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমাদের কোনো উৎসব ছিল না। সুশীল সমাজের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের পরিচিতি সভা ছিল। সভার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাওয়া-দাওয়া পর্ব ছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter