গৌরীপুরের চার সড়কে শতাধিক গাছে মড়ক

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উপর দিক থেকে মরে মরে নিচে পড়ে নিঃশেষ হচ্ছে ডালপালা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মরণব্যাধি ভাইরাস ও ডাইবেট ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৪টি আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত শতাধিক গাছ মরে যাচ্ছে। এসব গাছ না কাটার কারণে জীববৈচিত্র্যও ধ্বংসের পথে। এ ভাইরাস ও পোকা দেশীয় ফলজ-বনজ গাছে সংক্রমিত হচ্ছে।

নীল আকাশের কালো পিচঢালা রাস্তার দু’ধারে সবুজের সমারোহে আছে রেন্টি, সেগুন, মেহগনি, বড়ই, আমলকি, হরীতকী, কাঁঠাল, জাম, আকাশমনিসহ অজস্র বৃক্ষরাজি। এসব বৃক্ষরাজির মাঝখানে আস্তে আস্তে মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ছে শিশু গাছগুলো। কীট-পতঙ্গের আক্রমণে আলকাতরা রঙের এক ধরনের আঠালো পদার্থ বের হয় যা গাছকে উপর দিক থেকে আস্তে আস্তে ধ্বংস করে ফেলছে বলে জানান প্রফেসর ড. জিএম মজিবুর রহমান। বিদেশি এ গাছগুলো দেশের জলবায়ুর সঙ্গে ১০-১৫ বছরের বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। তবে পরিচর্যা নেই, তাই মরে যাচ্ছে বলে জানিয়ে ছিলেন বাকৃবির প্যাথোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. ইসমাইল হোসেন।

এদিকে এক সময় শুধু শিশুগাছ মারা গেলেও মৃত্যুর সারিতে এবার রেন্টি, মেহগনি, আকাশিসহ দেশি ও বিদেশি গাছও যোগ হচ্ছে। গৌরীপুর থেকে শ্যামগঞ্জ, রামগোপালপুর, কলতাপাড়া ও শাহগঞ্জ- এ চার সড়কে মৃত গাছের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে। অনুরূপ অবস্থায় রয়েছে শাহগঞ্জ-সহনাটী সড়ক, সিধলা সড়ক, তারাকান্দা সড়ক, গোবিন্দপুর সড়ক, ডৌহাখলা-তারুন্দিয়া সড়ক, ভাংনামারী সড়ক পথে লাগানো গাছের। গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের পৌর সীমানা অতিক্রম করলেও দেখা যায়, রেন্টি, মেহগনির কয়েকটি গাছ মারা গেছে। এসব গাছ আশপাশের গাছেরও ক্ষতি করছে। কলতাপাড়া-গৌরীপুর সড়কের তাঁতকুড়া নামক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মরা শিশু গাছটি পড়ে কৃষকের চাষাবাদের অসুবিধা সৃষ্টি করলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর গাছটি সরানোর উদ্যোগ নেয়নি। অবশেষে পচে নষ্ট হয়। গৌরীপুর-রামগোপালপুর সড়কের বালুয়াপাড়া, বাহাদুরপুর, ভবানীপুর নামক স্থানে ৭-৮টি শিশুগাছ মরে বৃষ্টিতে ভিজে-রোদে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। গৌরীপুর-শাহগঞ্জ সড়কে দারিয়াপুর, অচিন্তপুর ও বালুয়াপাড়া অর্ধশত গাছ মরে গেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো ফরেস্টি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, শিশুগাছ ডাইবেট রোগে মারা যাচ্ছে। পানি সহনশীল নয়, ফলে নতুনভাবে রাস্তার পাশে শিশুগাছ রোপণ না করারও আহ্বান জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ডক্টর সাদিকুর রহমান জানান, কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে শিশুগাছ মারা যাচ্ছে। এ পোকা ও ভাইরাস দেশীয় ফলজ-বনজ গাছেও ছাড়াচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, পরিবেশ ও বন বিভাগের মাধ্যমে মৃত, ক্ষতিকর গাছগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter