অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণই নগর পিতার বড় চ্যালেঞ্জ

মহানগরীতে যানজট বেড়েছে কয়েকগুণ

প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন। ওই সিটিতে ভবিষ্যৎ নগর পিতার সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক আগামীতে নগর পিতা নির্বাচিত হলে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীতে যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে কেসিসির সূত্র মতে, নগরীতে বৈধ ইজিবাইক চলাচল করছে ১ হাজার ৯৬৩টি। কিন্তু কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের সূত্রে অবৈধ ইজিবাইক রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। আর এসবের চালকদের হিসেবে সংখ্যাটি ৪০ হাজারের ঊর্ধ্বে।

অবৈধ ইজিবাইক এখন নগরবাসীর জন্য যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে। যানজটও বেড়েছে কয়েকগুণ। এ অবস্থায় ইজিবাইক নগরবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি কেসিসির মেয়রের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই নগরীতে অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থা একাধিক বৈঠক করেন।

তবে কোনো সুফল আসেনি। নগরীর ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক সংগঠনগুলো হল মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি, রূপসা ইজিবাইক মালিক সমবায় সমিতি, একতা ইজিবাইক সমবায় সমিতি ও ইজিবাইক শ্রমিক লীগ।

এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিদিন ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখল, ট্রাফিক বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল না থাকাও নগরীতে যানজট বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

কেসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে তালুকদার আবদুল খালেক মেয়র থাকাকালীন নগরীতে ১ হাজার ৯৬৩টি ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া হয়। কিন্তু চলাচল করছে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি ইজিবাইক।

এ বিষয়ে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘নগরীতে বেশির ভাগ ইজিবাইক চলাচলের জন্য বৈধ কোনো অনুমতিপত্র নেই। নেই চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও।

এমনকি চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই। আমরা অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি এবং ইজিবাইক যন্ত্রাংশ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’