গঙ্গাচড়ায় তিস্তা ডান তীররক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম

  গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা ডান তীর প্রতিরক্ষা কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পাউবো কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সচেতন এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, তিস্তা ডান তীর প্রতিরক্ষা (মহিপুর বিজয়) বাঁধের ২৫০ মিটার সুরক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে পানি উন্নয়ন বোর্ড টেন্ডার আহ্বান করে। কাজটি পায় ফুলবাড়ী রোড বগুড়ার মেসার্স শাহ্রিয়ার কনস্ট্রাকশন। কার্যাদেশ পাওয়ার পরেই তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসাজশে নদী থেকে অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে নিুমানের বালু উত্তোলন করেন। ওই বালু ও নিুমানের পাথর দিয়ে তৈরি করেন ব্লক। এছাড়াও নদীর তীর ঘেষে কর্দমাক্ত বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগ ভরাট করছেন। পিচিং কাজে ব্লকের নিচে ব্যবহার করা হচ্ছে অতি নিুমানের খোয়া। এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কামরুজ্জামান সেলিম, সুলতান মাহবুবসহ সচেতন এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানান ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুই-একদিনের জন্য কাজটি বন্ধ রাখেন। পরে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকরা প্রতিবাদকারীদের সন্ত্রাসী, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় নিুমানের সামগ্রী দিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সরেজমিনে মহিপুর বিজয় বাঁধ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বরকত আলীর উপস্থিতিতেই স্যালোমেশিন দিয়ে নদীর পাড় থেকে কর্দমাক্ত বালু উত্তোলন করে তা দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাট করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বরকত আলী বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মৌখিক অনুমতি নিয়েই এখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে নদী থেকে বালু উত্তোলন করতেই পারে। একই বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব জানান, গঙ্গাচড়ায় তো বালু মহাল নেই, বিষয়টি নিয়ে আমি গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter