বরিশালের শেবাচিম হাসপাতাল

দালালের হাতে জিম্মি রোগী

  বরিশাল ব্যুরো ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে সক্রিয় রয়েছে অর্ধশতাধিক রোগীর দালাল। এসব দালাল হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ও আন্তঃবিভাগে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে রোগীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হাসপাতালের আশপাশের একডজন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে সর্বস্ব লুটছে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের। গত বৃহস্পতিবারও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ১৭ দালালকে আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের স্টাফদের ছত্রছায়ায় দালালচক্র তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দৈনিক হাসপাতালটিতে দেড় হাজার রোগী সেবা নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা কারণে নিশ্চুপ থাকলেও প্রায়ই অভিযান চালায় র‌্যাব-৮। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি টিম। এ সময় আটক করা হয় ১৭ দালালকে। অভিযানকালে র‌্যাব-৮ এর উপ-পরিচালক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স গণমাধ্যম কর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে, সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে র‌্যাবের দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের বহিঃবিভাগে সব সময় ১৫ থেকে ২০ জন দালাল অবস্থান করে। এর মধ্যে জরুরি বিভাগে ৬-৭ জন দালাল এসে রোগীকে সহায়তার নামে হয়রানি করছে। দূরদূরান্ত থেকে কোনো মারধরের রোগী এলে আহত হওয়ার সার্টিফিকেট দেয়ার নামে তারা বাণিজ্য করে। একইভাবে হাসপাতালের মেডিসিন বহিঃবিভাগে চিকিৎসকদের কম্পাউন্ডাররা রোগীর দালালদের বিরুদ্ধে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মেডিসিন বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক রুমে অধিকাংশ সময়ে ২-৩ জন দালাল দেখা যায়। এছাড়া শিশু বহিঃবিভাগ এবং নাক কান ও চর্ম, ডেন্টাল বিভাগেও দালালদের তৎপরতা দেখা যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. দাস রণবীর এ প্রসঙ্গে ব্যস্ততার অজুহাতে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের সামনের ১০ থেকে ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে ওই দালালদের তৎপরতা রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের প্যাথলজি ও রেডিওলজি বিভাগে আসা রোগীদের আশপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের বিশেষ করে সার্জারি বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ ও লেবার বিভাগে দালালদের তৎপরতা বেশি দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের নিজ নিজ বিভাগের স্টাফরা সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে। এমনকি এই দালাল চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জড়িত বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, হাসপাতালে দালাল রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে এমনভাবে সমন্বয় করা হয়েছে যাতে নিয়মিত হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারাই তথ্য দিচ্ছেন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.