বিয়ে দিয়ে দাদনের অর্থ পরিশোধ

মৌলভীবাজারে ঋণের জালে অসহায় মানুষ

  হোসাইন আহমদ, মৌলভীবাজার ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে মৌলভীবাজার জেলায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন সক্রিয় শতাধিক দাদন ব্যবসায়ী। দাদন ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে এ জেলার অনেক সহজ-সরল মানুষ ভিটামাটি হারিয়ে এখন রাস্তায় দিনাতিপাত করছেন। এ ব্যবসায় ধনীরা রাতারাতি আরও ধনী হচ্ছেন। আর খেটে খাওয়া গরিব মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন ও সরকার দলে কিছু অসাধু নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে নির্দিধায় চলছে এ কাজ।

জানা যায়, সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ছয়টি পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করছে উপজেলার দাদন সম্রাট আসুক মিয়া। এছাড়াও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় বিয়ে করেছেন ওই ইউনিয়নের মিনার মিয়া ও তুয়াহিদ মিয়া। গত মাসে এ সংক্রান্ত বিষয়ে সদর উপজেলার পাগুড়িয়া এলাকার মুদি ব্যবসায়ী রিপন মিয়া খুন হন। দাদন ব্যবসায়ীদের দায়ের করা মামলায় অনেকেই এখন দিশেহারা। কেউ কেউ পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ক্ষেমসহস্র গ্রামের আবিদ উল্লার মেয়ে মজনু বেগমকে, শ্রীভোগ গ্রামের গনি ড্রাইভারের মেয়েকে, কেওলা গ্রামের রাজনা বেগমকে, পাঁচগাঁও গ্রামের চেরাগ মিয়ার মেয়ে নাজমা বেগমকে বিয়ে করেন দাদন সম্রাট আসুক মিয়া। এর বাইরে আরও ৩-৪টি বিয়ে করেছেন ওই আসুক। সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় শত্র“মর্দন গ্রামের গনি মিয়ার ভাগনিকে বিয়ে করেন মিনার মিয়া। সূত্র আরও জানায়, টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সুদ ব্যবসায়ী তারেক রহমান কর্নেল আমিরপুর গ্রামের তুতা মিয়া ও রুবিয়া বেগমের বসতবাড়ি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রার করে নিয়েছেন।

পরিচয় গোপন রেখে দাদন সম্রাট আসুক মিয়ার কাছে সুদে টাকা চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যবসা এখন বাদ দিয়ে দিছি। পরে পরিচয় দিয়ে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি বিয়ের কথা স্বীকার করে তিনি ফোন কেটে দেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ব্যবসার সঙ্গে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি, জনপ্রতিনিধি, সরকার দলের নেতাকর্মী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও এলাকার মাতব্বরসহ কয়েক শতাধিক মানুষ জড়িত। এ বিষয়ে কয়েক মাস আগে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হলেও এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার সাদুহাটি আবদুল বারী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার দাদন ব্যবসা করে আসছেন। তিনি প্রভাবশালী থাকায় এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। দাদন ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন রাজনগর উপজেলার মনিপুর গ্রামের মো. পারভেজ আলী।

এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন সদর উপজেলার হলিমপুর গ্রামের পবলু মিয়া, জগন্নাতপুরের শামীম আহমদ, বাদে ফতেহপুরের আসাদ মিয়া, বেকামুড়ার মাহমদ মিয়া। রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের শফিক মিয়া, হাতকাটা কুটি, আজিজুল, কদর মিয়া, রুমেল, সিকদার, আবদুল হক সেফুল, মজমিল, আসুক মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মুকিত, বর্তমান ইউপি সদস্য তারেক রহমান কর্নেল, আখই মিয়া, উকুল আলী। ঘরগাঁও এলাকার একিন মিয়া, সেঞ্চু মিয়া-১, সেঞ্চু মিয়া-২, ফরব মিয়া, শামীম মিয়া, উত্তর ঘরগাঁও এলাকার শাহিন মিয়া। টেংরা ইউনিয়নের সৈয়দনগর গ্রামের নজির মিয়া, বদরুল মিয়া, আনর মিয়া, মন্নান, মসাহিদ, জসিম। আকুয়া গ্রামের শাহাজান। এছাড়াও জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে দাদন ব্যবসা চলছে। দাদন ব্যবসায়ী সদর উপজেলার সাদুহাটি আবদুল বারী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদ মিয়া বলেন, ‘বরাক’ নামে আমার একটি সমিতি আছে। এটার মাধ্যমে সরকার বাজারের কিছু ব্যবসায়ীদের কাছে ঋণ দেই। মামলার বাদী রাজনগর উপজেলার মনিপুর গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী মো. পারভেজ আলী বলেন, আমি বলতে পারব না, মরির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মামলার বাদী হিসেবে আপনি জানার কথা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরাসরি দেখা হলে বিস্তারিত বলব। মামলার বিবাদী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক চেক দিয়ে পারভেজ আলীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেই। পরে তিনি আমার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মামলা দায়ের করেন। এভাবে তিনি এলাকার প্রায় ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বিভিন্ন ঝামেলা হওয়ায় হতদরিদ্র মানুষ দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আনছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দাদন ব্যবসার জন্য অনেকটাই প্রশাসন দায়ী।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.