সোনাগাজীতে লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসি দাবি
jugantor
ছাত্রকে বলাৎকারের পর হত্যা
সোনাগাজীতে লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসি দাবি

  ফেনী প্রতিনিধি  

০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সোনাগাজীতে লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসি দাবি

জেলার সোনাগাজীর চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রায় ৩৫ ছাত্রকে বলাৎকার করা হয়েছে। বলাৎকারের পর ছাত্র আরাফাত হোসেন হত্যা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন আদালতে ২৬ আগস্ট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য প্রদান করেন। তিনি সাত বছরে মাদ্রাসার ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের কথা আদালতে অকপটে স্বীকার করেন।

মামলার আসামি চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন ও নূর আলী আরাফাতের ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে অধিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাগাজী মডেল থানার ওসি ও দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এসব লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসির দাবি তুলেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু ইউছুফ, মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আবুল বাশার ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চুসহ এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বলাৎকারের পর ছাত্র আরাফাত হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত করে রায় দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

২৬ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন শিক্ষক মোশারফ হোসেন। জবানবন্দিতে মাদ্রাসায় বিভিন্ন সময় ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করে তাদের নামও প্রকাশ করেন তিনি।

তার যৌন নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি ওই মাদ্রাসার ছাত্র মামাতো ভাইও। আদালতে জবানবন্দিতে মোশারফ হোসেন জানান, তিনি ২০১১ সালে চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তিনি হেফজখানা ও এতিমখানা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময় কৌশলে মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের যৌন নির্যাতন করেন তিনি। নিহত ছাত্র আরাফাত হোসেনকে ইতোপূর্বে পাঁচবার বলাৎকার করেন। ২২ আগস্ট রাতে আরাফাতকে বলাৎকার করার পর তার বাবাকে জানিয়ে দেবে বললে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার প্রায় ৩৫ ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেছেন।

বর্তমানে অধ্যয়নরত ছয়জন ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেছেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁঠাল ডাঙ্গুরী গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে আদালতের আদেশ অনুসারে ঘটনার অধিকতর তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানান সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট রাতে উপজেলার চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র আরাফাত হোসেনকে (৯) বলাৎকারের পর হত্যা করে মাদ্রাসার সামনে প্রবাসী মিজানুর রহমানের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

ছাত্রকে বলাৎকারের পর হত্যা

সোনাগাজীতে লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসি দাবি

 ফেনী প্রতিনিধি 
০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সোনাগাজীতে লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসি দাবি
ছবি: যুগান্তর

জেলার সোনাগাজীর চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রায় ৩৫ ছাত্রকে বলাৎকার করা হয়েছে। বলাৎকারের পর ছাত্র আরাফাত হোসেন হত্যা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন আদালতে ২৬ আগস্ট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য প্রদান করেন। তিনি সাত বছরে মাদ্রাসার ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের কথা আদালতে অকপটে স্বীকার করেন।

মামলার আসামি চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন ও নূর আলী আরাফাতের ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে অধিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাগাজী মডেল থানার ওসি ও দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এসব লম্পট মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাঁসির দাবি তুলেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু ইউছুফ, মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আবুল বাশার ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চুসহ এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বলাৎকারের পর ছাত্র আরাফাত হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত করে রায় দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

২৬ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন শিক্ষক মোশারফ হোসেন। জবানবন্দিতে মাদ্রাসায় বিভিন্ন সময় ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করে তাদের নামও প্রকাশ করেন তিনি।

তার যৌন নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি ওই মাদ্রাসার ছাত্র মামাতো ভাইও। আদালতে জবানবন্দিতে মোশারফ হোসেন জানান, তিনি ২০১১ সালে চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তিনি হেফজখানা ও এতিমখানা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময় কৌশলে মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের যৌন নির্যাতন করেন তিনি। নিহত ছাত্র আরাফাত হোসেনকে ইতোপূর্বে পাঁচবার বলাৎকার করেন। ২২ আগস্ট রাতে আরাফাতকে বলাৎকার করার পর তার বাবাকে জানিয়ে দেবে বললে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার প্রায় ৩৫ ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেছেন।

বর্তমানে অধ্যয়নরত ছয়জন ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেছেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁঠাল ডাঙ্গুরী গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে আদালতের আদেশ অনুসারে ঘটনার অধিকতর তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানান সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট রাতে উপজেলার চরলক্ষ্মীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র আরাফাত হোসেনকে (৯) বলাৎকারের পর হত্যা করে মাদ্রাসার সামনে প্রবাসী মিজানুর রহমানের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন