ফুলপুরে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট, জনদুর্ভোগ
jugantor
ফুলপুরে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট, জনদুর্ভোগ

  ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফুলপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণে জনদুর্ভোগের ৭ বছরেও সুরাহা হয়নি। জানা যায়, উপজেলার ফুলপুর ইউনিয়ন ও আশপাশ এলাকাকে বন্যামুক্ত রাখার নামে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরাধীন পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে জাইকার অর্থায়ন ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে বাখাই- বাঁশতলা সড়কের বাতিকুড়া গ্রামের বটখালি খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জায়গায় স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। এতে উজান থেকে পানি প্রবেশের জায়গায় বাঁধ নির্মাণ না করে উলটো পানি বের হওয়ার পথে মাত্র ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের ৪টি গেট রাখা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই নাকানন্দি ও কুড়িয়া নদীসহ উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি এসব স্লুইস গেট দিয়ে বের হওয়ার সংকুলান না হয়ে এলাকায় ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে রাস্তাসহ ভেঙে পানি বের হয়ে অপর একটি খালের সৃষ্টি করে। আগে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হতে পারলেও পরে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে যুগান্তরে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ‘ফুলপুরে স্লুইস গেট নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্প ব্যয় বরাদ্দে আগের স্লুইস গেটে সংযুক্ত করে প্রায় ২৯ ফুট দৈর্ঘ্যরে অপর একটি স্লুইস গেটসহ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে পানি বের হওয়ার জন্য ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের মাত্র ৩টি গেট রাখা হয়। পরের বছরও স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে প্রায় ৫০০ ফুট রাস্তাসহ ভেঙে অপর একটি খালের সৃষ্টি করে। ফলে এলাকাবাসীকে রাস্তা ছেড়ে মাঠ দিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছিল। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপির সহায়তায় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম গর্ত ভরাটসহ স্লুইস গেটের সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ করেন। এতে জনদুর্ভোগ সাময়িক লাগব হলেও কিছুদিন পর বন্যায় আবারও অনেক রাস্তা ভেঙে ভেসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এভাবে প্রতি বছরই বন্যায় রাস্তা নিশ্চিত ভাঙনের ফলে শুকনো মৌসুমে হালকা মেরামতের মাধ্যমে লোকজন যাতায়াত করছেন। বর্ষা মৌসুমে যানচলাচল বন্ধ রেখে নৌকায় বা হেঁটে পানি পেরিয়ে চলাচল করছেন। অপরিকল্পিত স্লুইচ গেট নির্মাণের ফলে এভাবেই চলছে বছরের পর বছর ধরে জনদুর্ভোগ। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রকল্পটি এলাকাবাসীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতিকুড়া গ্রামের সুরুজ আলী খাঁসহ অনেকেই জানান, শুধু অর্থের লুটপাট করতেই এ ধরনের প্রকল্প করা হয়েছে। আব্দুল কাদির জানান, যানচলাচলে আধা কিলোমিটার দূরের পাকা রাস্তায় যেতে ৫ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। বাঁশতলা গ্রামের সিরাজ আলী জানান, এখন ভেঙে এক খালের পরিবর্তে তিন খাল হচ্ছে। আগে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হলেও এখন নৌকায় যেতে হচ্ছে। ফুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্লুইস গেট সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় পাশে ব্রিজ বা স্লুইস গেটের ছিদ্রগুলো ভেঙে বড় করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করারও বৈধতা মিলছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দীর্ঘদিন ধরে সুরাহার চেষ্টা করছি। উপজেলা প্রকৌশলী মামুন-অর-রশিদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হতে পারে।

ফুলপুরে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট, জনদুর্ভোগ

 ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফুলপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণে জনদুর্ভোগের ৭ বছরেও সুরাহা হয়নি। জানা যায়, উপজেলার ফুলপুর ইউনিয়ন ও আশপাশ এলাকাকে বন্যামুক্ত রাখার নামে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরাধীন পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে জাইকার অর্থায়ন ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে বাখাই- বাঁশতলা সড়কের বাতিকুড়া গ্রামের বটখালি খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জায়গায় স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। এতে উজান থেকে পানি প্রবেশের জায়গায় বাঁধ নির্মাণ না করে উলটো পানি বের হওয়ার পথে মাত্র ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের ৪টি গেট রাখা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই নাকানন্দি ও কুড়িয়া নদীসহ উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি এসব স্লুইস গেট দিয়ে বের হওয়ার সংকুলান না হয়ে এলাকায় ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে রাস্তাসহ ভেঙে পানি বের হয়ে অপর একটি খালের সৃষ্টি করে। আগে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হতে পারলেও পরে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে যুগান্তরে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ‘ফুলপুরে স্লুইস গেট নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্প ব্যয় বরাদ্দে আগের স্লুইস গেটে সংযুক্ত করে প্রায় ২৯ ফুট দৈর্ঘ্যরে অপর একটি স্লুইস গেটসহ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে পানি বের হওয়ার জন্য ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের মাত্র ৩টি গেট রাখা হয়। পরের বছরও স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে প্রায় ৫০০ ফুট রাস্তাসহ ভেঙে অপর একটি খালের সৃষ্টি করে। ফলে এলাকাবাসীকে রাস্তা ছেড়ে মাঠ দিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছিল। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপির সহায়তায় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম গর্ত ভরাটসহ স্লুইস গেটের সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ করেন। এতে জনদুর্ভোগ সাময়িক লাগব হলেও কিছুদিন পর বন্যায় আবারও অনেক রাস্তা ভেঙে ভেসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এভাবে প্রতি বছরই বন্যায় রাস্তা নিশ্চিত ভাঙনের ফলে শুকনো মৌসুমে হালকা মেরামতের মাধ্যমে লোকজন যাতায়াত করছেন। বর্ষা মৌসুমে যানচলাচল বন্ধ রেখে নৌকায় বা হেঁটে পানি পেরিয়ে চলাচল করছেন। অপরিকল্পিত স্লুইচ গেট নির্মাণের ফলে এভাবেই চলছে বছরের পর বছর ধরে জনদুর্ভোগ। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রকল্পটি এলাকাবাসীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতিকুড়া গ্রামের সুরুজ আলী খাঁসহ অনেকেই জানান, শুধু অর্থের লুটপাট করতেই এ ধরনের প্রকল্প করা হয়েছে। আব্দুল কাদির জানান, যানচলাচলে আধা কিলোমিটার দূরের পাকা রাস্তায় যেতে ৫ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। বাঁশতলা গ্রামের সিরাজ আলী জানান, এখন ভেঙে এক খালের পরিবর্তে তিন খাল হচ্ছে। আগে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হলেও এখন নৌকায় যেতে হচ্ছে। ফুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্লুইস গেট সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় পাশে ব্রিজ বা স্লুইস গেটের ছিদ্রগুলো ভেঙে বড় করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করারও বৈধতা মিলছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দীর্ঘদিন ধরে সুরাহার চেষ্টা করছি। উপজেলা প্রকৌশলী মামুন-অর-রশিদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন