২৩ বাঁশমহালের বেশির ভাগ খাসিয়াদের পেটে
jugantor
হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য
২৩ বাঁশমহালের বেশির ভাগ খাসিয়াদের পেটে

  কুলাউড়া, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের পাহাড়ি জনপদে চারটি রেঞ্জের আওতায় ছিল ২৩টি বাঁশমহাল। যা থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করত। কালে বিবর্তনে বাঁশমহালগুলো আজ বিলীন। বেশির ভাগ গেছে খাসিয়াদের পেটে। যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তাও বিলুপ্তির পথে। বনবিভাগ যেন ঠুঁটো জগন্নাথ।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বনবিভাগের আওতায় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিশাল বনভূমি জুড়ে চারটি রেঞ্জের আওতায় ১৪টি বনবিটে ২৩টি বাঁশমহাল ছিল। বনবিটগুলো আছে, আছে রেঞ্জ এবং এই রেঞ্জগুলোর সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত বন সংরক্ষকের কার্যালয়। কিন্তু বিটের আওতায় অবস্থিত বেশির ভাগ বাঁশমহাল উজাড় হয়ে গেছে। এই উজাড়ের নেপথ্যে এই পাহাড়ি জনপদ জবরদখল করে ওঠা খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের ৭৯টি পানপুঞ্জি। গঠিত হয়েছে কুবরাজ (কুলাউড়া, বড়লেখা, রাজনগর ও জুড়ী) নামে আন্তঃপানপুঞ্জি সংগঠন। বাঁশের জায়গা দখল করে নিয়েছে পান। সরকার বাঁশমহাল থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও সেই স্থানে জবরদখলে নেওয়া পান থেকে রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ার কোনো নজির নেই।

বাঁশমহাল বিলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, দিন দিন সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে খাসিয়া ও গারোদের পানপুঞ্জির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাঁশের ওপর। শুধু বাঁশ আর গাছ নয়, জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। আগে এসব সংরক্ষিত বনে বাঘ, হরিণ, বানর, বন্যহাতি, বনমোরগের দেখা মিলত অহরহ। কিন্তু এখন এদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পান লাগানোর জন্য বাঁশ আর গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ফলে খাবারের সন্ধানে শেয়াল আর বানর হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। বস্তির মানুষের সঙ্গে লড়াই করে ওরা নিজের খাবারের সংস্থান করতে পারলেও খাসিয়াদের কাছে হার মেনে ছাড়ছে বন।

সরেজমিন দেখা যায়, খাসিয়ারা প্রথমে বাঁশ কাটে। সেই কাটা বাঁশ শুকিয়ে যাওয়ার পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাঁশ সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর ছয় মাস থেকে এক বছর পর সেই স্থানে খাসিয়ারা পানের চারা রোপণ করে। আর এভাবে বাঁশ ও গাছমহাল পানজুমে পরিণত হয়।

বড়লেখা রেঞ্জ অফিসার শেখর রঞ্জন দাস খাসিয়াদের জবরদখলের বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, বাঁশে ফুল এলে বাঁশমহাল মরে যায়। আর এভাবে আস্তে আস্তে বাঁশমহাল বিলুপ্ত হয় বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত বন সংরক্ষক এবিএম আবু বক্কর জানান, শুধু জুড়ীতে নয় রাজকান্দি রেঞ্জেও বাঁশমহাল রয়েছে। ক্রেতারা (মহালদাররা) এখন মহাল নিতে অনাগ্রহী। অনেক বাঁশমহালে মহালদাররা টেন্ডারে অংশ নেন না। ফলে সেই মহাল আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

২৩ বাঁশমহালের বেশির ভাগ খাসিয়াদের পেটে

 কুলাউড়া, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের পাহাড়ি জনপদে চারটি রেঞ্জের আওতায় ছিল ২৩টি বাঁশমহাল। যা থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করত। কালে বিবর্তনে বাঁশমহালগুলো আজ বিলীন। বেশির ভাগ গেছে খাসিয়াদের পেটে। যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তাও বিলুপ্তির পথে। বনবিভাগ যেন ঠুঁটো জগন্নাথ।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বনবিভাগের আওতায় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিশাল বনভূমি জুড়ে চারটি রেঞ্জের আওতায় ১৪টি বনবিটে ২৩টি বাঁশমহাল ছিল। বনবিটগুলো আছে, আছে রেঞ্জ এবং এই রেঞ্জগুলোর সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত বন সংরক্ষকের কার্যালয়। কিন্তু বিটের আওতায় অবস্থিত বেশির ভাগ বাঁশমহাল উজাড় হয়ে গেছে। এই উজাড়ের নেপথ্যে এই পাহাড়ি জনপদ জবরদখল করে ওঠা খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের ৭৯টি পানপুঞ্জি। গঠিত হয়েছে কুবরাজ (কুলাউড়া, বড়লেখা, রাজনগর ও জুড়ী) নামে আন্তঃপানপুঞ্জি সংগঠন। বাঁশের জায়গা দখল করে নিয়েছে পান। সরকার বাঁশমহাল থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও সেই স্থানে জবরদখলে নেওয়া পান থেকে রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ার কোনো নজির নেই।

বাঁশমহাল বিলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, দিন দিন সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে খাসিয়া ও গারোদের পানপুঞ্জির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাঁশের ওপর। শুধু বাঁশ আর গাছ নয়, জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। আগে এসব সংরক্ষিত বনে বাঘ, হরিণ, বানর, বন্যহাতি, বনমোরগের দেখা মিলত অহরহ। কিন্তু এখন এদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পান লাগানোর জন্য বাঁশ আর গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ফলে খাবারের সন্ধানে শেয়াল আর বানর হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। বস্তির মানুষের সঙ্গে লড়াই করে ওরা নিজের খাবারের সংস্থান করতে পারলেও খাসিয়াদের কাছে হার মেনে ছাড়ছে বন।

সরেজমিন দেখা যায়, খাসিয়ারা প্রথমে বাঁশ কাটে। সেই কাটা বাঁশ শুকিয়ে যাওয়ার পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাঁশ সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর ছয় মাস থেকে এক বছর পর সেই স্থানে খাসিয়ারা পানের চারা রোপণ করে। আর এভাবে বাঁশ ও গাছমহাল পানজুমে পরিণত হয়।

বড়লেখা রেঞ্জ অফিসার শেখর রঞ্জন দাস খাসিয়াদের জবরদখলের বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, বাঁশে ফুল এলে বাঁশমহাল মরে যায়। আর এভাবে আস্তে আস্তে বাঁশমহাল বিলুপ্ত হয় বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত বন সংরক্ষক এবিএম আবু বক্কর জানান, শুধু জুড়ীতে নয় রাজকান্দি রেঞ্জেও বাঁশমহাল রয়েছে। ক্রেতারা (মহালদাররা) এখন মহাল নিতে অনাগ্রহী। অনেক বাঁশমহালে মহালদাররা টেন্ডারে অংশ নেন না। ফলে সেই মহাল আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন