সিংড়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না শিক্ষক মজিদের
jugantor
সিংড়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না শিক্ষক মজিদের

  সাইফুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর)  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাদ আছে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। আমার ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে পড়িয়েছি। যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ হয়েছে ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ সরকারি চাকরিজীবী আবার অনেকেই দেশ-বিদেশে কর্মরত আছে। কিন্তু তিনি নিজেই একজন হতভাগা কারিগর। লজ্জায় মানুষের কাছে হাত-বাড়াতে পারছেন না। যেখানে সংসারই চলছে না আর চিকিৎসাই বা কিভাবে চলবে। সোমবার যুগান্তরের এই প্রতিবেদকের কাছে কাতর কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সিংড়া উপজেলার কলম উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ (৭০)। শিক্ষক আব্দুল মজিদ প্রায় ২ যুগ ধরে হার্ডব্লক, হিব জয়েন্ট, ডায়াবেটিস, হাইপেসারসহ বিভিন্ন অজানা রোগে ভুগছেন। তিনি সিংড়া, নাটোর, রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ চালিয়ে নিঃস্ব। তার এখন শরীরের একটি অঙ্গে অপারেশনের জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন।

শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, ১৯৮১ সালে কলম উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি ও অর্থনীতি) হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করি। শেষের ৪ বছর দক্ষতার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। ৩৫ বছরের শিক্ষকতায় অসংখ্য পাইভেট পড়িয়েছি, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি। এর মাঝে শিক্ষক হয়েও একমাত্র ছেলের লেখাপড়া চালাতে পারিনি। এখন গ্রামে ছেলের ছোট একটি মুদি দোকানের উপার্জনে সংসার চালানো বড় কষ্টকর। আর চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা। আর একা হাঁটাচলা করতে পারি না। শেষ জীবনে এতো বড় পরাজয় নেমে আসবে কখনও ভাবিনি!

কলম ডিগ্রি কলেজের ভূগোলের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, স্যার এর অসুস্থতা ও সাংসারিক অবস্থার খবর শুনে কিছুটা সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সিংড়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না শিক্ষক মজিদের

 সাইফুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাদ আছে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। আমার ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে পড়িয়েছি। যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ হয়েছে ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ সরকারি চাকরিজীবী আবার অনেকেই দেশ-বিদেশে কর্মরত আছে। কিন্তু তিনি নিজেই একজন হতভাগা কারিগর। লজ্জায় মানুষের কাছে হাত-বাড়াতে পারছেন না। যেখানে সংসারই চলছে না আর চিকিৎসাই বা কিভাবে চলবে। সোমবার যুগান্তরের এই প্রতিবেদকের কাছে কাতর কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সিংড়া উপজেলার কলম উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ (৭০)। শিক্ষক আব্দুল মজিদ প্রায় ২ যুগ ধরে হার্ডব্লক, হিব জয়েন্ট, ডায়াবেটিস, হাইপেসারসহ বিভিন্ন অজানা রোগে ভুগছেন। তিনি সিংড়া, নাটোর, রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ চালিয়ে নিঃস্ব। তার এখন শরীরের একটি অঙ্গে অপারেশনের জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন।

শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, ১৯৮১ সালে কলম উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি ও অর্থনীতি) হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করি। শেষের ৪ বছর দক্ষতার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। ৩৫ বছরের শিক্ষকতায় অসংখ্য পাইভেট পড়িয়েছি, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি। এর মাঝে শিক্ষক হয়েও একমাত্র ছেলের লেখাপড়া চালাতে পারিনি। এখন গ্রামে ছেলের ছোট একটি মুদি দোকানের উপার্জনে সংসার চালানো বড় কষ্টকর। আর চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা। আর একা হাঁটাচলা করতে পারি না। শেষ জীবনে এতো বড় পরাজয় নেমে আসবে কখনও ভাবিনি!

কলম ডিগ্রি কলেজের ভূগোলের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, স্যার এর অসুস্থতা ও সাংসারিক অবস্থার খবর শুনে কিছুটা সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব শিক্ষক দিবস

০৫ অক্টোবর, ২০২১