বাঘার শিক্ষক এখন হাটের খাজনা আদায়কারী
jugantor
বাঘার শিক্ষক এখন হাটের খাজনা আদায়কারী

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় জহুরুল ইসলাম বাবলু নামের এক কলেজশিক্ষক এখন হাট ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী। দুই বছর থেকে তিনি বিভিন্ন হাটে ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করে আসছেন। জহুরুল ইসলাম বাবলু আড়ানী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি আড়ানী সোনাহদ গ্রামের মৃত ছইরুদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে এবং পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের কম্পিউটার অপারেশন বিষয়ের প্রভাষক। তিনি ১৫ বছর চাকরি করেও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বৃদ্ধ মা’সহ সাত সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে বিভিন্ন হাটের ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি কয়েক মাস গ্রিল মিস্ত্রির শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছেন।

জানা যায়, জহুরুল ইসলাম বাবলু ১৯৯৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। তারপর তিনি কম্পিউটার বিষয়ে কোর্স করে ২০০৫ সালে বাঘা উপজেলার পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের কম্পিউটার অপারেশন বিষয়ে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। কিন্তু কলেজটি সরকারিভাবে সব শর্ত পূরণ করলেও ১৭ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি। তিনি ছোট থাকতেই বাবা মারা যান। যতটুকু জমি ছিল বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করে ছোট দুই ভাই ও চার বোনকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ছয় শতাংশ জমির ওপর দুটি ঘর তুলে বৃদ্ধ মা ও বোনের দুই ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন। বর্তমানে বেতনবিহীন কলেজে চাকরির পাশাপাশি হাটবাজারে খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত। তার দুই ছেলে রয়েছে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যের কারণে স্ত্রী বর্তমানে পাশে নেই। এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বাবলু বলেন, চাকরি করি কিন্তু বেতন নেই। সংসার চালাতে খরচ হয়। কি করে সংসার চালাব এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ি। লজ্জা না করে এবং কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে বিভিন্ন হাটে ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করি। এর আগে গ্রিল মিস্ত্রির কাজ করেছি। তবে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে এ কাজ আর করা লাগবে না।

বাঘার শিক্ষক এখন হাটের খাজনা আদায়কারী

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় জহুরুল ইসলাম বাবলু নামের এক কলেজশিক্ষক এখন হাট ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী। দুই বছর থেকে তিনি বিভিন্ন হাটে ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করে আসছেন। জহুরুল ইসলাম বাবলু আড়ানী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি আড়ানী সোনাহদ গ্রামের মৃত ছইরুদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে এবং পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের কম্পিউটার অপারেশন বিষয়ের প্রভাষক। তিনি ১৫ বছর চাকরি করেও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বৃদ্ধ মা’সহ সাত সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে বিভিন্ন হাটের ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি কয়েক মাস গ্রিল মিস্ত্রির শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছেন।

জানা যায়, জহুরুল ইসলাম বাবলু ১৯৯৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। তারপর তিনি কম্পিউটার বিষয়ে কোর্স করে ২০০৫ সালে বাঘা উপজেলার পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের কম্পিউটার অপারেশন বিষয়ে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। কিন্তু কলেজটি সরকারিভাবে সব শর্ত পূরণ করলেও ১৭ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি। তিনি ছোট থাকতেই বাবা মারা যান। যতটুকু জমি ছিল বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করে ছোট দুই ভাই ও চার বোনকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ছয় শতাংশ জমির ওপর দুটি ঘর তুলে বৃদ্ধ মা ও বোনের দুই ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন। বর্তমানে বেতনবিহীন কলেজে চাকরির পাশাপাশি হাটবাজারে খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত। তার দুই ছেলে রয়েছে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যের কারণে স্ত্রী বর্তমানে পাশে নেই। এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বাবলু বলেন, চাকরি করি কিন্তু বেতন নেই। সংসার চালাতে খরচ হয়। কি করে সংসার চালাব এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ি। লজ্জা না করে এবং কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে বিভিন্ন হাটে ইজারাদারের খাজনা আদায়কারী হিসাবে কাজ করি। এর আগে গ্রিল মিস্ত্রির কাজ করেছি। তবে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে এ কাজ আর করা লাগবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব শিক্ষক দিবস

০৫ অক্টোবর, ২০২১