শিক্ষকের আলোকিত পরিবার
jugantor
শিক্ষকের আলোকিত পরিবার

  সাজ্জাদুর রহমান, রামগতি (লক্ষ্মীপুর)  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নুরুল ইসলাম একজন আদর্শ শিক্ষক, সফল অভিভাবক ও বাবা। মানুষ গড়ার এ কারিগরের জীবনে কোনো অপূর্ণতা নেই। নিজের ৯ ছেলেমেয়েকে করেছেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের পড়ালেখা শিখিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাডেট কলেজসহ সেরাসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সন্তানরা এখন চাকরি করছেন বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর অফিসারসহ সরকারি বেসকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে; এক ছেলে দুই মেয়ে শিক্ষকতাও করছেন। কেবল নিজের সন্তানদেরই নয় হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়িয়েছেন এই মহান মানুষটি। গড়েছেন শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী।

নুরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৩ সালে উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া এসসি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে যান। ১৯৭২ সাল থেকে শিক্ষকতা শুরু করেন। শুরুটা হয়েছে হাজিরহাট হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসাবে। এরপর চর লরেন্স উচ্চবিদ্যালয় ও হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমি (উচ্চবিদ্যালয়ে) সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর পেয়ে হজ পালন করেন। নুরুল ইসলামের ৪ ছেলে, ৫ মেয়ে। বড় মেয়ে তাসলিমা বেগম এমএ, বিএড পাশ করে শিক্ষকতা করছেন, ছেলে মো. ইব্রাহিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে একটি প্রাইভেট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। মেঝ ছেলে আরিফুর রহমান পড়ালেখা করেছে ক্যাডেট কলেজে। এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার। মেয়ে সালমা ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এমবিএ পাশ করে এনসিসি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত। মেয়ে শাহানা ইসলাম মাস্টার্স পাশ করে এখন কমলনগর উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা। রিপাত সুলতানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছোট মেয়ে ইসরাত জাহান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে এখন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছেলে আমিনুল ইসলাম ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে জুডিশিয়াল পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম ঢাকা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স পড়ছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, সুনামের সঙ্গে ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছি। আমার ছাত্ররা ও সন্তানরা এখন নানা ক্ষেত্রে সফল। এটাই আমার বড় সাফল্য ও অর্জন। নিজের ৯ ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে আনন্দ অশ্রু ঝরিয়ে বলেন, তার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন তার স্ত্রী বিবি মরিয়ম। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়ে তিনি অনেক সুখী।

শিক্ষকের আলোকিত পরিবার

 সাজ্জাদুর রহমান, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নুরুল ইসলাম একজন আদর্শ শিক্ষক, সফল অভিভাবক ও বাবা। মানুষ গড়ার এ কারিগরের জীবনে কোনো অপূর্ণতা নেই। নিজের ৯ ছেলেমেয়েকে করেছেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের পড়ালেখা শিখিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাডেট কলেজসহ সেরাসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সন্তানরা এখন চাকরি করছেন বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর অফিসারসহ সরকারি বেসকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে; এক ছেলে দুই মেয়ে শিক্ষকতাও করছেন। কেবল নিজের সন্তানদেরই নয় হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়িয়েছেন এই মহান মানুষটি। গড়েছেন শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী।

নুরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৩ সালে উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া এসসি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে যান। ১৯৭২ সাল থেকে শিক্ষকতা শুরু করেন। শুরুটা হয়েছে হাজিরহাট হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসাবে। এরপর চর লরেন্স উচ্চবিদ্যালয় ও হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমি (উচ্চবিদ্যালয়ে) সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর পেয়ে হজ পালন করেন। নুরুল ইসলামের ৪ ছেলে, ৫ মেয়ে। বড় মেয়ে তাসলিমা বেগম এমএ, বিএড পাশ করে শিক্ষকতা করছেন, ছেলে মো. ইব্রাহিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে একটি প্রাইভেট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। মেঝ ছেলে আরিফুর রহমান পড়ালেখা করেছে ক্যাডেট কলেজে। এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার। মেয়ে সালমা ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এমবিএ পাশ করে এনসিসি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত। মেয়ে শাহানা ইসলাম মাস্টার্স পাশ করে এখন কমলনগর উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা। রিপাত সুলতানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছোট মেয়ে ইসরাত জাহান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে এখন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছেলে আমিনুল ইসলাম ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে জুডিশিয়াল পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম ঢাকা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স পড়ছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, সুনামের সঙ্গে ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছি। আমার ছাত্ররা ও সন্তানরা এখন নানা ক্ষেত্রে সফল। এটাই আমার বড় সাফল্য ও অর্জন। নিজের ৯ ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে আনন্দ অশ্রু ঝরিয়ে বলেন, তার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন তার স্ত্রী বিবি মরিয়ম। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়ে তিনি অনেক সুখী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব শিক্ষক দিবস