পেনশন না পেয়ে মানবেতর জীবন শিক্ষকের
jugantor
পেনশন না পেয়ে মানবেতর জীবন শিক্ষকের

  মো. আবু সাঈদ, নওগাঁ  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রেহানুল হক। বয়স ৬৩ বছর। পত্নীতলার কাঁটাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন। শিক্ষক নেতা হিসাবে ছিলেন সুপরিচিত। সরকারি বিধি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১৫ জুন তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষক নেতা হিসাবে তিনি শিক্ষক সমাজের শত শত সমস্যা নিরসন করলেও আজ তিনি নিজেই চরম সমস্যার মধ্যে নিমজ্জিত। অবসরের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন। হয়রানির শিকার শিক্ষক মো. রেহানুল হক কর্তৃক চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা সচিব বরাবর প্রদত্ত আবেদন থেকে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় এক নারী শিক্ষকের পক্ষে ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিপক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় তৎকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মণ্ডল তড়িঘড়ি করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেন এবং ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক পদে অবনমন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট ওই বছরের ৭ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল করে দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি আজীবন বন্ধ করে রায় ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বগুড়ায় একটি মামলা করেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৮ মে তার পক্ষে রায় দেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় পাওয়ার পর শিক্ষক রায়হানুল হক নিয়ম অনুসারে পিআরএল অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পত্নীতলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের কাছে জমা দেন। কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি বারবার অফিসে যোগাযোগ করলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেতুক কালক্ষেপণ করতে শুরু করেন। পরে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য সালের ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট ডিজি অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক রেহানুল হকের ফাইলটি অদৃশ্য কারণে অধিদপ্তরের আইন শাখায় পড়ে আছে।

পেনশন না পেয়ে মানবেতর জীবন শিক্ষকের

 মো. আবু সাঈদ, নওগাঁ 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রেহানুল হক। বয়স ৬৩ বছর। পত্নীতলার কাঁটাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন। শিক্ষক নেতা হিসাবে ছিলেন সুপরিচিত। সরকারি বিধি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১৫ জুন তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষক নেতা হিসাবে তিনি শিক্ষক সমাজের শত শত সমস্যা নিরসন করলেও আজ তিনি নিজেই চরম সমস্যার মধ্যে নিমজ্জিত। অবসরের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন। হয়রানির শিকার শিক্ষক মো. রেহানুল হক কর্তৃক চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা সচিব বরাবর প্রদত্ত আবেদন থেকে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় এক নারী শিক্ষকের পক্ষে ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিপক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় তৎকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মণ্ডল তড়িঘড়ি করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেন এবং ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক পদে অবনমন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট ওই বছরের ৭ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল করে দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি আজীবন বন্ধ করে রায় ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বগুড়ায় একটি মামলা করেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৮ মে তার পক্ষে রায় দেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় পাওয়ার পর শিক্ষক রায়হানুল হক নিয়ম অনুসারে পিআরএল অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পত্নীতলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের কাছে জমা দেন। কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি বারবার অফিসে যোগাযোগ করলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেতুক কালক্ষেপণ করতে শুরু করেন। পরে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য সালের ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট ডিজি অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক রেহানুল হকের ফাইলটি অদৃশ্য কারণে অধিদপ্তরের আইন শাখায় পড়ে আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব শিক্ষক দিবস

০৫ অক্টোবর, ২০২১