মুজিবনগরে নির্মাণের ১৬ বছরেও চালু হয়নি স্কুল
jugantor
মুজিবনগরে নির্মাণের ১৬ বছরেও চালু হয়নি স্কুল
নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

  মেহেরপুর প্রতিনিধি  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৬ বছর আগে নির্মিত বিদ্যালয়টি মামলা জটিলতায় আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না। ফলে রশিকপুরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া করতে যেতে হয় নিকটবর্তী ৫ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গার নাটুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভৈরব পার হয়ে দুই কিলোমিটার দূরে বাগোয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩ কিলোমিটার দূরে টেংরামারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অথচ নিজ গ্রামেই দ্বিতল ভবনের একটি বিদ্যালয়। মামলা জটিলতায় স্কুলটি দেড় যুগের কাছাকাছি বছর বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। চালু না হওয়ায় বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র চুরি হয়েছে, বিদ্যালয়ের ভবনের ভেতরে রাতে বসে মাদকের আড্ডা।

২০০৩ সালে সেকেন্ডারি এডুকেশন বিভাগ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় বিদ্যালয়ের ভবন। বিদ্যালয়টির নাম দেওয়া হয় রশিকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২০০৩ সালে দেশের ৫৪টি উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় ৫৪টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে রশিকপুর ব্যতিত বাকি ৫৩টি বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়েছে। বিদ্যালয়টি স্থাপনে স্থানীয় সুলতান শেখের স্ত্রী আম্মাতন নেছা তিন বিঘা ৫ কাঠা, আমির শেখ ১০ কাঠা এবং রতন শেখ ১০ কাঠা জমি দিয়েছিলেন। আম্মাতন নেছার তিন বিঘা জমির পরিবর্তে অন্যত্র স্কুল পরিচালনা কমিটির আবাদি পাঁচ বিঘা জমি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন স্কুল কমিটি জমি না দেওয়ায় জমিদাতা আম্মাতন নেছা বাদী হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন।

জমির মালিক আম্মাতন নেছা বলেন, তিন বিঘা আম বাগানের গাছ কেটে আমি বিদ্যালয় নির্মাণের জমি দিয়েছিলাম। তৎকালীন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কথা ছিল ওই জমির বদলে মাঠে আবাদ করা যায় এমন পাঁচ বিঘা জমি কিনে দেবে তারা। কিন্তু বিদ্যালয় নির্মাণ করার পরে জমি না পাওয়ায় আমি ২০০৪ সালে আদালতে মামলা করি। রশিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব শেখ বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীদের আগের মতোই কষ্ট করে দূরের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সামান্য একটা সমস্যার কারণ দেখিয়ে ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়টি চালু করা হয়নি। গ্রামের নাবিল আহমেদ নামের এক ৭ম শ্রেণির ছাত্র জানায়, গ্রামের স্কুল চালু না হওয়ায় তাকে ভৈরব নদ পেরিয়ে বাগোয়ানে যেতে হয় লেখাপড়ার জন্য। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার তাকে যাতায়াত করতে হয়।

মেহেরপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন জানান- তিনি নতুন এসেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন। তবে বিদ্যালয়টি যাতে চালু হয় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করবেন। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন- চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব স্কুলটি চালু করতে। ইতোমধ্যে ইউএনও এবং শিক্ষা বিভাগ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

মুজিবনগরে নির্মাণের ১৬ বছরেও চালু হয়নি স্কুল

নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ
 মেহেরপুর প্রতিনিধি 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৬ বছর আগে নির্মিত বিদ্যালয়টি মামলা জটিলতায় আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না। ফলে রশিকপুরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া করতে যেতে হয় নিকটবর্তী ৫ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গার নাটুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভৈরব পার হয়ে দুই কিলোমিটার দূরে বাগোয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩ কিলোমিটার দূরে টেংরামারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অথচ নিজ গ্রামেই দ্বিতল ভবনের একটি বিদ্যালয়। মামলা জটিলতায় স্কুলটি দেড় যুগের কাছাকাছি বছর বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। চালু না হওয়ায় বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র চুরি হয়েছে, বিদ্যালয়ের ভবনের ভেতরে রাতে বসে মাদকের আড্ডা।

২০০৩ সালে সেকেন্ডারি এডুকেশন বিভাগ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় বিদ্যালয়ের ভবন। বিদ্যালয়টির নাম দেওয়া হয় রশিকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২০০৩ সালে দেশের ৫৪টি উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় ৫৪টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে রশিকপুর ব্যতিত বাকি ৫৩টি বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়েছে। বিদ্যালয়টি স্থাপনে স্থানীয় সুলতান শেখের স্ত্রী আম্মাতন নেছা তিন বিঘা ৫ কাঠা, আমির শেখ ১০ কাঠা এবং রতন শেখ ১০ কাঠা জমি দিয়েছিলেন। আম্মাতন নেছার তিন বিঘা জমির পরিবর্তে অন্যত্র স্কুল পরিচালনা কমিটির আবাদি পাঁচ বিঘা জমি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন স্কুল কমিটি জমি না দেওয়ায় জমিদাতা আম্মাতন নেছা বাদী হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন।

জমির মালিক আম্মাতন নেছা বলেন, তিন বিঘা আম বাগানের গাছ কেটে আমি বিদ্যালয় নির্মাণের জমি দিয়েছিলাম। তৎকালীন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কথা ছিল ওই জমির বদলে মাঠে আবাদ করা যায় এমন পাঁচ বিঘা জমি কিনে দেবে তারা। কিন্তু বিদ্যালয় নির্মাণ করার পরে জমি না পাওয়ায় আমি ২০০৪ সালে আদালতে মামলা করি। রশিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব শেখ বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীদের আগের মতোই কষ্ট করে দূরের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সামান্য একটা সমস্যার কারণ দেখিয়ে ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়টি চালু করা হয়নি। গ্রামের নাবিল আহমেদ নামের এক ৭ম শ্রেণির ছাত্র জানায়, গ্রামের স্কুল চালু না হওয়ায় তাকে ভৈরব নদ পেরিয়ে বাগোয়ানে যেতে হয় লেখাপড়ার জন্য। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার তাকে যাতায়াত করতে হয়।

মেহেরপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন জানান- তিনি নতুন এসেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন। তবে বিদ্যালয়টি যাতে চালু হয় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করবেন। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন- চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব স্কুলটি চালু করতে। ইতোমধ্যে ইউএনও এবং শিক্ষা বিভাগ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন