তানোরে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সারের তীব্র সংকট
jugantor
তানোরে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সারের তীব্র সংকট

  তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর তানোরে বিসিআইসির সার ডিলার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে এমওপি (পটাশ) সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে আগাম জাতের আলু চাষিরা (কৃষক) ভোগান্তি পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার অসাধু এক কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এতে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এখানে ওই সিন্ডিকেটের কথায় আইন। তারা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অধিক মুনাফার আশায় নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে এখানকার সাধারণ কৃষকরা এমওপি ও ডিএপি সার সংকটে পড়েছেন।

এ নিয়ে তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের আলু চাষি কৃষক ওমর হাজী জানান, শিবনদের বুকে রহিমাডাংগা মৌজায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তারা আগাম জাতের আলু রোপণ করে থাকেন। প্রতি মৌসুমের ন্যায় সম্প্রতি এবারও প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক ৫ হাজার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য জমি চাষাবাদে নেমেছেন। কিন্তু বীজ ও জমি প্রস্তুত থাকলেও এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার সংকটে আলু বীজের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এ নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

ওমর হাজী অভিযোগে আরও জানান, আলুর জমিতে যখন সার প্রয়োগের সময় তখন ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় এমওপি ও ডিএপি সার মজুদ করে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে হাহাকার শুরু হয়। এ সুযোগে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে অধিক মুনাফা পেয়ে থাকেন ডিলাররা। অপরদিকে, প্রান্তিক কৃষকরা ডিলারের চাহিদা মতো টাকা না দিলে সার নেই বলে তাড়িয়ে দেন।

এদিকে, খোলাবাজারে ইউরিয়া টিএসপি সার পাওয়া গেলেও পটাশ ও ডিএপি সার সহসাই মিলছে না। ডিলারদের কাছে এসব সার কিনতে গেলে তারা সাপ্লাই নেই বলে ডিএপির বদলে টিএসপি সার নেয়ার জন্য কৃষকদের বাধ্য করছেন। এছাড়াও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সার মনিটরিং কমিটির কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি তানোর গোল্লাপাড়া বাজারের প্রাইম ট্রেডার্স প্রোপাইটার প্রণব সাহা, কামারগাঁ বাজারের বিকাশ চন্দ্র, মোল্লা ট্রেডার্সের প্রোপাইটার মোহাম্মাদ আলী বাবু ও সুমন ট্রেডার্সের প্রোপাইটার সুমন শীল জড়িত থেকে তানোর পৌর এলাকার ছাড়াও কামারগাঁসহ পুরো উপজেলায় এমওপি ও ডিএপি সার সংকট সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সারডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবু বলেন, সিন্ডিকেট নয় এমওপি (পটাশ) সারের কোনো সরবরাহ নেই। কিন্তু ডিএপির বদলে টিএসপি দিয়ে কৃষকদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে বেশি মূল্যে নয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সব ধরনের সার বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার চাহিদামতো সরবরাহ নেই। এজন্য সাময়িক সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে চাহিদামতো বরাদ্দ পেয়ে যাব। তবে, সংকট দেখিয়ে কৃষকের কাছে সারের বেশি দাম নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ইউএনও পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

তানোরে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সারের তীব্র সংকট

 তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর তানোরে বিসিআইসির সার ডিলার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে এমওপি (পটাশ) সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে আগাম জাতের আলু চাষিরা (কৃষক) ভোগান্তি পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার অসাধু এক কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এতে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এখানে ওই সিন্ডিকেটের কথায় আইন। তারা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অধিক মুনাফার আশায় নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে এখানকার সাধারণ কৃষকরা এমওপি ও ডিএপি সার সংকটে পড়েছেন।

এ নিয়ে তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের আলু চাষি কৃষক ওমর হাজী জানান, শিবনদের বুকে রহিমাডাংগা মৌজায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তারা আগাম জাতের আলু রোপণ করে থাকেন। প্রতি মৌসুমের ন্যায় সম্প্রতি এবারও প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক ৫ হাজার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য জমি চাষাবাদে নেমেছেন। কিন্তু বীজ ও জমি প্রস্তুত থাকলেও এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার সংকটে আলু বীজের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এ নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

ওমর হাজী অভিযোগে আরও জানান, আলুর জমিতে যখন সার প্রয়োগের সময় তখন ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় এমওপি ও ডিএপি সার মজুদ করে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে হাহাকার শুরু হয়। এ সুযোগে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে অধিক মুনাফা পেয়ে থাকেন ডিলাররা। অপরদিকে, প্রান্তিক কৃষকরা ডিলারের চাহিদা মতো টাকা না দিলে সার নেই বলে তাড়িয়ে দেন।

এদিকে, খোলাবাজারে ইউরিয়া টিএসপি সার পাওয়া গেলেও পটাশ ও ডিএপি সার সহসাই মিলছে না। ডিলারদের কাছে এসব সার কিনতে গেলে তারা সাপ্লাই নেই বলে ডিএপির বদলে টিএসপি সার নেয়ার জন্য কৃষকদের বাধ্য করছেন। এছাড়াও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সার মনিটরিং কমিটির কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি তানোর গোল্লাপাড়া বাজারের প্রাইম ট্রেডার্স প্রোপাইটার প্রণব সাহা, কামারগাঁ বাজারের বিকাশ চন্দ্র, মোল্লা ট্রেডার্সের প্রোপাইটার মোহাম্মাদ আলী বাবু ও সুমন ট্রেডার্সের প্রোপাইটার সুমন শীল জড়িত থেকে তানোর পৌর এলাকার ছাড়াও কামারগাঁসহ পুরো উপজেলায় এমওপি ও ডিএপি সার সংকট সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সারডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবু বলেন, সিন্ডিকেট নয় এমওপি (পটাশ) সারের কোনো সরবরাহ নেই। কিন্তু ডিএপির বদলে টিএসপি দিয়ে কৃষকদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে বেশি মূল্যে নয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সব ধরনের সার বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার চাহিদামতো সরবরাহ নেই। এজন্য সাময়িক সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে চাহিদামতো বরাদ্দ পেয়ে যাব। তবে, সংকট দেখিয়ে কৃষকের কাছে সারের বেশি দাম নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ইউএনও পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন