টাকা না দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ
jugantor
নাসিরনগরে ইউপি নির্বাচন
টাকা না দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ

  নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নাসিরনগরে ১৩ ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে টাকা না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে মনোনয়নপত্রে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি আছে বলে প্রার্থীদের ফোন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসের সরকারি টেলিফোন থেকে প্রার্থীদের ফোন করে নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে রাতে এসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিলেই মনোনয়নপত্র বৈধ হচ্ছে, আর যারা টাকা দেননি তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ সময় ছিল ২১ অক্টোবর। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন অফিসের সরকারি নম্বর থেকে ফোন করে যাদের মনোনয়নপত্রে সামান্য নামের বানান, স্বাক্ষর ও সঠিক স্থানে স্বাক্ষর না থাকা ইত্যাদি ভুল রয়েছে তাদের রাতে এসে অফিসে দেখা করতে বলা হয়েছিল। যদিও নির্বাচন আইনে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিহির দেব নামে একজন সাধারণ ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জানান, ‘আমাকে নির্বাচন অফিসারের সরকারি টেলিফোন থেকে ফোন করে রাতে দেখা করতে বলা হয়। পরে আমি ২০ অক্টোবর রাত ৭টার দিকে অফিসে গেলে ওই অফিসের একজন কর্মচারী আমাকে বলেন, আপনার মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়ে গেছে। আপনার মনোনয়নপত্রে ভোটার এলাকা লেখা ঠিক নেই।’ কীভাবে মনোনয়নপত্র বৈধ করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১২টার সময় আসেন। সব ঠিক হয়ে যাবে। টাকা না দেওয়ায় আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’ জাকের পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন অফিসার আমাকে তার নিজের ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ফোন করে অফিসে রাত ১০টায় আসতে বলেন। তিনি বলেন, আপনার কাগজে সমস্যা আমরা ঠিক দেব, আমাদের অফিসের একটা খরচ দিতে হবে। কত দিতে হবে জিজ্ঞেস করলে তিনি মুখে না বলে হাতের কলম দিয়ে টেবিলের সাদা কাগজে একটা অংক বসালেন। আমি টাকা দিতে না পাড়ায় আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’ নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৭ অক্টোবরের পর থেকে কোনো প্রার্থীকে ফোন করে কিংবা অফিসে এনে মনোনয়নপত্রে ভুল সংশোধন করার সুযোগ নেই। আপনার ব্যবহৃত সরকারি টেলিফোন থেকে সবাইকে ফোন করে মনোনয়নপত্র বৈধ করে দেবেন বলে টাকা চাওয়ার অভিযোগ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। আমাকে একটু সহযোগিতা করেন। কি ধরনের সহযোগিতা চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলেন চা খেতে খেতে কথা বলি।

নাসিরনগরে ইউপি নির্বাচন

টাকা না দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ

 নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নাসিরনগরে ১৩ ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে টাকা না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে মনোনয়নপত্রে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি আছে বলে প্রার্থীদের ফোন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসের সরকারি টেলিফোন থেকে প্রার্থীদের ফোন করে নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে রাতে এসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিলেই মনোনয়নপত্র বৈধ হচ্ছে, আর যারা টাকা দেননি তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ সময় ছিল ২১ অক্টোবর। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন অফিসের সরকারি নম্বর থেকে ফোন করে যাদের মনোনয়নপত্রে সামান্য নামের বানান, স্বাক্ষর ও সঠিক স্থানে স্বাক্ষর না থাকা ইত্যাদি ভুল রয়েছে তাদের রাতে এসে অফিসে দেখা করতে বলা হয়েছিল। যদিও নির্বাচন আইনে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিহির দেব নামে একজন সাধারণ ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জানান, ‘আমাকে নির্বাচন অফিসারের সরকারি টেলিফোন থেকে ফোন করে রাতে দেখা করতে বলা হয়। পরে আমি ২০ অক্টোবর রাত ৭টার দিকে অফিসে গেলে ওই অফিসের একজন কর্মচারী আমাকে বলেন, আপনার মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়ে গেছে। আপনার মনোনয়নপত্রে ভোটার এলাকা লেখা ঠিক নেই।’ কীভাবে মনোনয়নপত্র বৈধ করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১২টার সময় আসেন। সব ঠিক হয়ে যাবে। টাকা না দেওয়ায় আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’ জাকের পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন অফিসার আমাকে তার নিজের ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ফোন করে অফিসে রাত ১০টায় আসতে বলেন। তিনি বলেন, আপনার কাগজে সমস্যা আমরা ঠিক দেব, আমাদের অফিসের একটা খরচ দিতে হবে। কত দিতে হবে জিজ্ঞেস করলে তিনি মুখে না বলে হাতের কলম দিয়ে টেবিলের সাদা কাগজে একটা অংক বসালেন। আমি টাকা দিতে না পাড়ায় আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’ নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৭ অক্টোবরের পর থেকে কোনো প্রার্থীকে ফোন করে কিংবা অফিসে এনে মনোনয়নপত্রে ভুল সংশোধন করার সুযোগ নেই। আপনার ব্যবহৃত সরকারি টেলিফোন থেকে সবাইকে ফোন করে মনোনয়নপত্র বৈধ করে দেবেন বলে টাকা চাওয়ার অভিযোগ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। আমাকে একটু সহযোগিতা করেন। কি ধরনের সহযোগিতা চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলেন চা খেতে খেতে কথা বলি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন