ফিডের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধি
jugantor
ফিডের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধি
কুড়িগ্রামে পোলট্রি খামারিদের মাথায় হাত

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফিডের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধি

কুড়িগ্রামে হু হু করে বাড়ছে পোলট্রি ফিডের (পোষ্য প্রাণী তথা হাঁস-মুরগির খাবার) মূল্য। সেই সঙ্গে বাড়ছে টিকার দাম। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীরা উচ্চ মুনাফার লোভে বাড়াচ্ছেন লেয়ার মুরগির (ডিম উৎপাদনের মুরগি) বাচ্চার মূল্য।

সে অনুযায়ী ডিমের পড়তি দামের কারণে খামারিদের ব্যবসায় নেমেছে ধস। বন্ধ হচ্ছে বেশকিছু খামার। ফলে এই শিল্প রক্ষায় লেয়ারের বাচ্চা, ফিড ও ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক লেয়ার খামারি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখলেও ২০১৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ফিড, ভ্যাকসিন ও বাচ্চার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ কমতে থাকে। সেই সঙ্গে গড়মের সময় নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় কলেরা রোগে লেয়ার মুরগির মড়ক শুরু হয়।

এদিকে করোনা শুরুর পর থেকে উৎপাদিত মুরগি ও ডিম বিক্রিতেও ভাটা পড়েছে। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খামারিরা। লোকসানে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নেন। বেশিরভাগ খামারি ঋণ করে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করায় তারা না পারছেন খামার বন্ধ করতে; না পারছেন চালিয়ে যেতে। কুড়িগ্রামে সবচেয়ে বেশি লেয়ার খামার রয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলায়। এখানে প্রায় ৭৪টি খামার রয়েছে।

খামারি কুরুষা ফেরুষা মলিকার কুটি গ্রামের ধরলা পোলট্রি ফার্মের মালিক ডলার জানান, ২০০৫ সালে ৫ লাখ টাকা খরচ করে এক হাজার লেয়ারের বাচ্চা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি।

২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত লাভের মুখ দেখি। বর্তমানে আমার খামারে ২০ হাজার লেয়ার রয়েছে। কিন্তু বিদেশে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কোম্পানিগুলো ১৬০০ টাকা সিডের বস্তা এখন ২৩০০ টাকায় বিক্রি করছে। ফলে প্রতি বস্তায় ৭শ টাকা বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে। ৩০০ টাকার টিকার দাম হয়েছে ৫৫০ টাকা।

এছাড়াও ২৫ টাকার লেয়ারের বাচ্চা ফরিয়ারা সিজনে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে সাপ্লাই দিচ্ছে। আমার খামারে প্রতিদিন ২০ হাজার কেজি সিড লাগে। সবকিছুতে মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। খামারের ব্যবসায় আমার মোট এক কোটি টাকা লগ্নি করা আছে। ফলে আমি এখন ব্যবসাও ছাড়তে পারছি না।’

পার্শ্ববর্তী সাদৃশ্য পোলট্রি ফার্মের মালিক মমিনুল ইসলাম জানান, ‘আমার ফার্মে ৬ হাজার লেয়ার জাতের মুরগি আছে। ৬০-৭০ লাখ টাকা লগ্নি করে অবকাঠামো তৈরি করেছি। এনজিও থেকে ঋণ করেছি ৬ লাখ টাকা। মাসে কিস্তি দিতে হয় ৬০ হাজার টাকা।

খামার থেকে মাসে উৎপাদিত ডিম বিক্রি হয় ৯০ হাজার টাকার মতো। সব খরচ দিয়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ঘাটতি থাকে। এই ব্যবসা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে গেছে।’

একই অভিযোগ করলেন ওই এলাকার দোয়া পোলট্রি ফার্মের মালিক সিমু, আপন পোলট্রি ফার্মের মালিক ফজলু। তাদের প্রতিবেশী এমদাদুল খামার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। পোলট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী লিটু জানান, আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার।

ফুলবাড়ী উপজেলার ভেটেনারি সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে খামারিদের লাভটা বেশি নিশ্চিত করা যাবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, খামারিরা নিজেরা ফিড তৈরির উদ্যোগ নিলে লোকসান কমে যাবে।

ফিডের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধি

কুড়িগ্রামে পোলট্রি খামারিদের মাথায় হাত
 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ফিডের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধি
ফাইল ছবি

কুড়িগ্রামে হু হু করে বাড়ছে পোলট্রি ফিডের (পোষ্য প্রাণী তথা হাঁস-মুরগির খাবার) মূল্য। সেই সঙ্গে বাড়ছে টিকার দাম। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীরা উচ্চ মুনাফার লোভে বাড়াচ্ছেন লেয়ার মুরগির (ডিম উৎপাদনের মুরগি) বাচ্চার মূল্য।

সে অনুযায়ী ডিমের পড়তি দামের কারণে খামারিদের ব্যবসায় নেমেছে ধস। বন্ধ হচ্ছে বেশকিছু খামার। ফলে এই শিল্প রক্ষায় লেয়ারের বাচ্চা, ফিড ও ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক লেয়ার খামারি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখলেও ২০১৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ফিড, ভ্যাকসিন ও বাচ্চার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ কমতে থাকে। সেই সঙ্গে গড়মের সময় নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় কলেরা রোগে লেয়ার মুরগির মড়ক শুরু হয়।

এদিকে করোনা শুরুর পর থেকে উৎপাদিত মুরগি ও ডিম বিক্রিতেও ভাটা পড়েছে। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খামারিরা। লোকসানে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নেন। বেশিরভাগ খামারি ঋণ করে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করায় তারা না পারছেন খামার বন্ধ করতে; না পারছেন চালিয়ে যেতে। কুড়িগ্রামে সবচেয়ে বেশি লেয়ার খামার রয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলায়। এখানে প্রায় ৭৪টি খামার রয়েছে।

খামারি কুরুষা ফেরুষা মলিকার কুটি গ্রামের ধরলা পোলট্রি ফার্মের মালিক ডলার জানান, ২০০৫ সালে ৫ লাখ টাকা খরচ করে এক হাজার লেয়ারের বাচ্চা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি।

২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত লাভের মুখ দেখি। বর্তমানে আমার খামারে ২০ হাজার লেয়ার রয়েছে। কিন্তু বিদেশে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কোম্পানিগুলো ১৬০০ টাকা সিডের বস্তা এখন ২৩০০ টাকায় বিক্রি করছে। ফলে প্রতি বস্তায় ৭শ টাকা বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে। ৩০০ টাকার টিকার দাম হয়েছে ৫৫০ টাকা।

এছাড়াও ২৫ টাকার লেয়ারের বাচ্চা ফরিয়ারা সিজনে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে সাপ্লাই দিচ্ছে। আমার খামারে প্রতিদিন ২০ হাজার কেজি সিড লাগে। সবকিছুতে মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। খামারের ব্যবসায় আমার মোট এক কোটি টাকা লগ্নি করা আছে। ফলে আমি এখন ব্যবসাও ছাড়তে পারছি না।’

পার্শ্ববর্তী সাদৃশ্য পোলট্রি ফার্মের মালিক মমিনুল ইসলাম জানান, ‘আমার ফার্মে ৬ হাজার লেয়ার জাতের মুরগি আছে। ৬০-৭০ লাখ টাকা লগ্নি করে অবকাঠামো তৈরি করেছি। এনজিও থেকে ঋণ করেছি ৬ লাখ টাকা। মাসে কিস্তি দিতে হয় ৬০ হাজার টাকা।

খামার থেকে মাসে উৎপাদিত ডিম বিক্রি হয় ৯০ হাজার টাকার মতো। সব খরচ দিয়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ঘাটতি থাকে। এই ব্যবসা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে গেছে।’

একই অভিযোগ করলেন ওই এলাকার দোয়া পোলট্রি ফার্মের মালিক সিমু, আপন পোলট্রি ফার্মের মালিক ফজলু। তাদের প্রতিবেশী এমদাদুল খামার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। পোলট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী লিটু জানান, আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার।

ফুলবাড়ী উপজেলার ভেটেনারি সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে খামারিদের লাভটা বেশি নিশ্চিত করা যাবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, খামারিরা নিজেরা ফিড তৈরির উদ্যোগ নিলে লোকসান কমে যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন