রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই
jugantor
রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই

  যুগান্তর প্রতিবেদন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাসপাতাল নেই। তাই অ্যাম্বুলেন্সও নেই। নেই নিয়মিত এমবিবিএস ডাক্তার। এই নেই আর নেইর মাঝে আছে উপজেলা, নাম ‘রাঙ্গাবালী’। সাগর ও নদী ঘেরা এ উপজেলার যাত্রা শুরু ৯ বছর আগে। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। তবে তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য দীর্ঘদিনেও একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি এখনও। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালের।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা হলেও রাঙ্গাবালীতে এখনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নদী পাড়ি দিয়ে তাদের ছুঁটতে হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপা, কলাপাড়া কিংবা জেলা শহর পটুয়াখালীতে। কিন্তু দুস্থ-অসহায় মানুষের পক্ষে এত দূরে গিয়ে চিকিৎসা করানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই নিয়তির ওপর নির্ভর করে গ্রাম্য ডাক্তার, কবিরাজের তাবিজ-কবজ ও ঝাড়-ফুঁকে চিকিৎসা নিচ্ছেন মানুষ।

পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দ্বীপের অবস্থান। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে আগুনমুখা নদী, পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ ও পশ্চিমে রাবনাবাদ নদী বেষ্টিত এই দ্বীপ রাঙ্গাবালী ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে উপজেলাটি।

জানা গেছে, উপজেলায় চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এই পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন তিনজন। তবে এই তিনজনই বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

অপরদিকে চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র লোকবল না থাকায় বন্ধ রয়েছে। অপর তিনটি রাঙ্গাবালী সদর, ছোটবাইশদিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্বাস্থ্য সহকারী) থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন চারজন। এর মধ্যে রাঙ্গাবালী সদরে দুইজন। অপর দুইটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুইজন। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, উপজেলায় ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই

 যুগান্তর প্রতিবেদন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাসপাতাল নেই। তাই অ্যাম্বুলেন্সও নেই। নেই নিয়মিত এমবিবিএস ডাক্তার। এই নেই আর নেইর মাঝে আছে উপজেলা, নাম ‘রাঙ্গাবালী’। সাগর ও নদী ঘেরা এ উপজেলার যাত্রা শুরু ৯ বছর আগে। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। তবে তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য দীর্ঘদিনেও একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি এখনও। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালের।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা হলেও রাঙ্গাবালীতে এখনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নদী পাড়ি দিয়ে তাদের ছুঁটতে হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপা, কলাপাড়া কিংবা জেলা শহর পটুয়াখালীতে। কিন্তু দুস্থ-অসহায় মানুষের পক্ষে এত দূরে গিয়ে চিকিৎসা করানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই নিয়তির ওপর নির্ভর করে গ্রাম্য ডাক্তার, কবিরাজের তাবিজ-কবজ ও ঝাড়-ফুঁকে চিকিৎসা নিচ্ছেন মানুষ।

পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দ্বীপের অবস্থান। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে আগুনমুখা নদী, পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ ও পশ্চিমে রাবনাবাদ নদী বেষ্টিত এই দ্বীপ রাঙ্গাবালী ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে উপজেলাটি।

জানা গেছে, উপজেলায় চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এই পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন তিনজন। তবে এই তিনজনই বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

অপরদিকে চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র লোকবল না থাকায় বন্ধ রয়েছে। অপর তিনটি রাঙ্গাবালী সদর, ছোটবাইশদিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্বাস্থ্য সহকারী) থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন চারজন। এর মধ্যে রাঙ্গাবালী সদরে দুইজন। অপর দুইটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুইজন। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, উপজেলায় ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন