চা শ্রমিক হত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিলেট ব্যুরো, কমলগঞ্জ ও চুনারুঘাট প্রতিনিধি

সিলেটে শ্রদ্ধা আর স্মরণে ঐতিহাসিক ‘চা শ্রমিক হত্যা দিবস’ পালন করা হয়েছে।

সিলেটে শ্রদ্ধা আর স্মরণে ঐতিহাসিক ‘চা শ্রমিক হত্যা দিবস’ পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকালে মালনিছড়া বাগানের শহীদ মিনারে মিছিলসহ নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চা শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, চা শিল্প, প্রতিষ্ঠিত শিল্প হিসেবে স্বীকৃত হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি আজও। সরকার ও মালিকপক্ষ চা উৎপাদনে লাভবান হলেও শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রোববার দুটি চা বাগানে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় চা বাগান পঞ্চায়েত ও সাধারণ চা শ্রমিকদের আয়োজনে প্রথম শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রহিমপুর ইউনিয়নের মৃর্তিঙ্গা চা বাগান নাচঘর প্রাঙ্গণে।

মৃর্তিঙ্গা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নিরঞ্জন তন্ত বাইয়ের সভাপতিত্বে চা শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাম ভজন কৈরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরাগ বাড়ই, পরেশ কালেঞ্জী, ধনা বাউরী, কুল চন্দ্র তাঁতী ও প্রদীপ মুণ্ডা। শমশেরনগর চা বাগান পঞ্চায়েত ও চা শ্রমকি, ছাত্র-যুবকদেও আয়োজনে দ্বিতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় শমশেরনগর চা বাগান নাচঘর প্রাঙ্গণে।

এছাড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চা বাগানগুলোতে ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই উপজেলার লস্করপুর ভ্যালির চান্দপুর, লস্করপুর, আমু, দেউন্দি, সুরমা ও চণ্ডিছড়াসহ বিভিন্ন বাগানে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চান্দপুর চা বাগানের সভায় চা শ্রমিক আদিবাসী ফোরামের সভাপতি স্বপন সাওতাল, সেক্রেটারি কাঞ্চন পাত্র, শিরিন আক্তার, লস্করপুর চা বাগানে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রী যুগ্ম-সম্পাদক নুপেন পালসহ যুব সংগঠন ও পঞ্চায়েত সভাপতি সেক্রেটারিরা বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, ১৯২১ সালের ২০ মে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালান।

এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় চা শ্রমিকদের। এতে প্রায় ৩১ হাজার চা শ্রমিক নিহত হন। এরপর থেকে চা শ্রমিকরা ‘চা শ্রমিক দিবস’ অর্থ্যাৎ মুল্লুকে চল দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। কিন্তু ৯৭ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি। ঘোচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা।